সরস্বতী পুজোয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'টুম্পা সোনা' গান, উদ্দাম নাচ! তদন্তের নির্দেশ উপাচার্যের

সরস্বতী পুজোয় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'টুম্পা সোনা' গান, উদ্দাম নাচ! তদন্তের নির্দেশ উপাচার্যের

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এভাবেই নাচতে দেখা গিয়েছে ছাত্রছাত্রীদের৷

ছাত্রছাত্রীদের কয়েকজনই এই নাচগানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন৷ তার পরই গোটা বিষয়টি নজরে আসে৷

  • Share this:

#কলকাতা: উপলক্ষ সরস্বতী পুজো৷ আর তা উদযাপনে তারস্বরে বাজছে 'টুম্পা সোনা' গান৷ সেই গানের সঙ্গে চলছে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দাম নাচ৷ মঙ্গলবার এমনই দৃশ্যের সাক্ষী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস৷

সরস্বতী পুজোর দিন কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে চটুল গানের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের নাচানাচির এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সমালোচনার ঝড় ওঠে৷ নড়েচড়ে বসেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ উপাচার্যের অবশ্য দাবি, সরস্বতী পুজো বা তার সঙ্গে কোনও অনুষ্ঠানের অনুমতিই দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ৷ কোন ছাত্রছাত্রীরা এই কাণ্ড ঘটালেন, তাঁদের চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷

করোনার বিধিনিষেধ কাটিয়ে কয়েক দিন আগেই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস শুরু হয়েছে৷ মঙ্গলবার ক্যাম্পাসেই ছাত্রছাত্রীদের তরফে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়৷ উপাচার্য সোনালী চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই মুহূর্তে কোনও ছাত্র সংসদ নেই৷ যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের উদ্যোগেই কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়৷ সেখানে হাজির হন প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্রও৷ এই পুজো উপলক্ষে জমায়েত হওয়া কয়েকজন ছাত্রছাত্রী নাচগানে মেতেছিলেন৷ ক্যাম্পাসের মধ্যেই লাগানো হয়েছিল বড় বড় ডিজে বক্স৷ সেই বক্সেই 'টুম্পা সোনা' সহ একাধিক বাংলা ও হিন্দি চটুল গান বাজানো হয়৷ সঙ্গে চলতে থাকে নাচ৷

ছাত্রছাত্রীদের কয়েকজনই এই নাচগানের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করেন৷ তার পরই গোটা বিষয়টি নজরে আসে৷ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও৷ উপাচার্য সোনালীদেবী জানিয়েছেন, 'সরস্বতী পুজোর নামে কিছু উচ্ছশৃঙ্খলতার খবর আমার নজরে এসেছে৷ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এর নিন্দা করছি৷ যা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই হয়েছে৷ সরস্বতী পুজোর অনুমতিও দেওয়া হয়নি৷ বর্তমানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও ছাত্র সংসদ নেই৷ কী করে এই ঘটনা ঘটল তার কঠোরতম তদন্ত হবে৷ এই ধরনের ঘটনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সম্পূর্ণ বিরোধী৷ এই ঘটনা অনভিপ্রেত৷

সোনালীদেবী আরও জানিয়েছেন, নিয়ম মতো পুজো করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষই তার টাকা ছাত্র সংসদের হাতে দেয়৷ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ টাকা না দেওয়া সত্ত্বেও কী ভাবে পুজোর ব্যবস্থাপনা করা হল, সেই প্রশ্নও তুলেছেন উপাচার্য৷ কোথা থেকে টাকা এল, সেই উৎস খুঁজে বের করতে পারলেই পুজো এবং নাচগানের পিছনে কারা আছে, তা খুঁজে বের করা সম্ভব হবে বলেই দাবি করেছেন উপাচার্য৷

Somraj Bandopadhyay

Published by:Debamoy Ghosh
First published:

লেটেস্ট খবর