সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গ্রেফতার সন্ময়কে রক্ষাকবচ হাইকোর্টের, গ্রেফতারির ধরন জানতে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে গ্রেফতার সন্ময়কে রক্ষাকবচ হাইকোর্টের, গ্রেফতারির ধরন জানতে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ

দুষ্টুলোক, ভ্যানিশ, অম্বিকেশ মহাপাত্র। এই তালিকায় নতুন সংযোজন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়।

  • Share this:

Arnab Hazra

#কলকাতা: সোশ্যাল "সন্ময়ে" রক্ষাকবচ হাইকোর্টের। গ্রেফতারির ধরন জানতে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ। দুষ্টুলোক, ভ্যানিশ, অম্বিকেশ মহাপাত্র।  এই তালিকায় নতুন সংযোজন সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্য কংগ্রেসের পরিচিত মুখ। একসময় যুক্ত ছিলেন প্রথম শ্রেণীর সংবাদপত্রের প্রকাশনার সঙ্গে। বরাবরই সাবলীল সোশ্যাল সাইটে। ইউটিউব-এ কিছু বক্তব্য তুলে ধরতে গিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। রাষ্ট্র মনে করছে, তাদের এক্তিয়ারে নাক গলিয়েছে সন্ময় বাবু। সোশ্যাল সাইট আর লাইক,কমেন্টে থেমে থাকল না বিতর্ক। গণ্ডি ছাড়ালো ১৭ অক্টোবর।

ওই দিন পানিহাটির বাড়ি থেকে সময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করে উত্তর চব্বিশ পরগনার খড়দহ থানার পুলিশ। পরদিন পুরুলিয়া জেলা পুলিশের একটি দল আসে থানায়। ওইদিনই তাকে পুরুলিয়ার আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ নম্বর ধারায়। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের মানহানির অভিযোগও আনে পুলিশ। ১৮ অক্টোবরও পুলিশের ঘেরাটোপে কাটিয়ে ১৯ তারিখ জামিন পান সন্ময়  বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সন্ময়বাবু পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যকে।

মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা হচ্ছে রাষ্ট্র। থানায় বেআইনি আটক করা হচ্ছে নাগরিককে। এমনই অভিযোগ এনে পুলিশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা ঠোকেন তিনি। মঙ্গলবার বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলায় অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করেন।

পুরুলিয়া পুলিশের মামলার উপর কোন কড়া পদক্ষেপ নয়। নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে বিচারপতি ভট্টাচার্য্য এদিন জানিয়েছেন,  খড়দহ থানায় আদৌ বেআইনি আটক করা হয়েছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখতে চায় আদালত।  তাই খড়দহ থানার ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন-এর ছবি সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

সন্ময় বাবুর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় জানান ‘সাত বছরের কম সাজার অভিযোগে তদন্তকারী অফিসার আগে সিআরপিসি নোটিশ দেবে অভিযুক্তকে। তারপর তদন্তের প্রয়োজনে গ্রেফতার।  সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে এই মর্মে। এক্ষেত্রে সেসবের কোন তোয়াক্কা করা হয়নি।’

মামলার শুনানিতে যেভাবে ভরা এজলাসে  বিচারপতি প্রশ্ন ছুড়েছেন, তাতে কিছুটা ব্যাকফুটে পুলিশ। হলফনামাও তলব করেছে আদালত। উভয়পক্ষের হলফনামা চালাচালির পর জানুয়ারি মাসে ফের এই মামলার শুনানি। সোশ্যাল সাইট-এর স্বাধীনতা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। বসিরহাট, ধুলাগড় ঘটনার পর এখন অনেক সতর্ক রাজ্য। ফেক নিউজ আটকাতে না পারলে আইন-শৃঙ্খলা প্রশ্নে যা সমস্যার, সন্ময় বাবুর ইউটিউব ক্লিপিং বার্তায় রাজ্যের সম্মানহানি হয়েছে বলে এখনও মনে করছে পুলিশ। তাই জানুয়ারী মাসের পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের জন্য এখন থেকেই কোমর বাঁধছে তারা।

First published: 10:26:18 PM Dec 03, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर