কচি ৩ কন্যা-সহ স্ত্রীকে পুড়িয়ে খুন ! আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ হাইকোর্টের

কচি ৩ কন্যা-সহ স্ত্রীকে পুড়িয়ে খুন ! আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ হাইকোর্টের

৩০ বছর সাজা মাফ চেয়ে কোনও আবেদন করতে পারবে না বলেও জানায় বিচারপতি বাগচি ডিভিশন বেঞ্চ।

  • Share this:

#কলকাতা: সভ্যতার আলোয় সমাজ কুসংস্কারের গেরো কাটিয়ে উঠছে দ্রুত। সমতার সম্মুখপানে'র স্লোগানে নারী-পুরুষের পার্থক্য ক্রমে দূরে সরে যাচ্ছে। ঘটা করে ফি-বছর নারী দিবস পালন করি আমরা। মার্চের "নারী" সব মার্কা প্রচারের ঢক্কানিনাদের সময়কালে একটা বড় সময় কলকাতা হাইকোর্ট-কে ব্যায় করতে হল শুক্রবার। এদিন অনেকটা সময় এক মা ও তাঁর ৩ কন্যাসন্তান-কে পুড়িয়ে খুনের বিচারের ময়নাতদন্ত সারতে হল বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চকে। খুনি আবার খোদ ৩ কন্যাসন্তানের বাবা! মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙার এই ঘটনায় একসময় হকচকিয়ে যায় গোটা মহল্লা। ২০১৫ সালের ঘটনা মে মাসের। উৎসব আলি ৩০ মার্চ দুপুরে তার বেলডাঙার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। আর ঠিক তারপরের দিন উৎসবের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁরই ৩ কন্যা সন্তানের পোড়া দগ্ধ দেহ। কন্যাদের বয়স তখন ছিল যথাক্রমে ৫ বছর, ৩ বছর, ১ বছর। তাঁর স্ত্রীরও দগ্ধ দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্তে উঠে আসে, পরপর ৩ কন্যা সন্তান হওয়ায় পরিবারের তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়। কম আয়ের পরিবারে সমস্যা ক্রমেই দুর্বিষহ হয়ে উঠছিল। আর তাই নাকি পরপর ৪ খুন ! ২০১৮ সালের মার্চ মাসে নিম্ন আদালত ৪ খুনের রায় ঘোষণা করে। স্ত্রী-সহ ৩ কন্যাসন্তানের খুনকে বিরলের মধ্যে বিরলতম ঘটনা বলে নিম্ন আদালত। তাই ফাঁসির সাজা দেওয়া হয় উৎসব আলীকে। ফাঁসি কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমতি চেয়ে ডেথ রেফারেন্সে'র মামলা করে রাজ্য। হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্যের আইনজীবী সঞ্জয় বর্ধন জানান, "সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্যে সুস্পষ্ট হয়েছে ৩ কন্যা সন্তান এবং স্ত্রীকে কেন খুন করেছে উৎসব। পরিকল্পিত খুন এটা। ফাঁসির রায় বহাল রাখুক হাইকোর্ট। "

ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানায়, ফাঁসির সাজা একচুলও সন্দেহ থেকে থাকলে তা কার্যকর করা যায় না। ঘটনার রাতে বাড়িতে উপস্থিত ছিল না উৎসব। কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই। তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে মহিলার উপস্থিতি তদন্তে সেভাবে উঠে আসেনি। এরপর স্ত্রী এবং ৩ কন্যাসন্তানকে খুনের দায়ে উৎসব আলিকে আমৃত্যু কারাবাসের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। ৩০ বছর সাজা মাফ চেয়ে কোনও আবেদন করতে পারবে না বলেও জানায় বিচারপতি বাগচি ডিভিশন বেঞ্চ।

ARNAB HAZRA

First published: March 7, 2020, 1:58 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर