corona virus btn
corona virus btn
Loading

একটা সিগারেটই রহস্যভেদ! সালাউদ্দিন খুনের ন'বছর পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দুই অভিযুক্তর

একটা সিগারেটই রহস্যভেদ! সালাউদ্দিন খুনের ন'বছর পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দুই অভিযুক্তর
ইনসেটে মহম্মদ সালাউদ্দিনের ছবি।

পরিবহণ ব্যবসায়ী মহম্মদ সালাউদ্দিন খুনের ঘটনায় দোষী বাপি সেন ও মিলি পালের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল শিয়ালদহ আদালত।

  • Share this:

#কলকাতা: ন'বছর সময় লাগল বিচার পেতে। পরিবহণ ব্যবসায়ী মহম্মদ সালাউদ্দিন খুনের ঘটনায় দোষী বাপি সেন ও মিলি পালের যাবজ্জীবন সাজা ঘোষণা করল শিয়ালদহ আদালত।

ডিএনএ টেষ্ট করে এই খুনের মামলার তথ্য সংগ্রহ ও অভিযুক্তের অবস্থান নিশ্চিত করল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন ঘটনার তদন্তই বারবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে কিন্তু সালাউদ্দিন খুনের ঘটনার তদন্তে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা এক কথায় নজিরবিহীন। একটি সিগারেটই ধরিয়ে দিয়েছে সালাউদ্দিনের হত্যাকারীদের।

২০১১ সালের কুড়ি জুন ভোর ৫ টা নাগাদ উল্টোডাঙ্গায় এক ৪২ বছরের ব্যাক্তি রক্তাক্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে থানায় এসে জানান তাঁকে গুলি করা হয়েছে।  পুলিশকে সেই ঘটনার ব্যাখা করতে গিয়ে মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন সালাউদ্দিন। তদন্তকারী অফিসার তৎক্ষনাৎ মহম্মদ সালাউদ্দিনকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সালাউদ্দিনকে দেখা মাত্রই চিকিৎসকরা জানিয়েদেন মহম্মদ সালাউদ্দিন মৃত।

পুলিশ খুনের ধারা প্রয়োগ করে তদন্ত শুরু করলেও লুঠপাটের ঘটনা সামনে আসে। তদন্তের শুরুতেই বেশ কিছু প্রাতঃভ্রমণকারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পারে আগের রাতেই বিমানবন্দরের কাছে একটি রেস্তোরায় যান সালাউদ্দিন। ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২ অর্থাৎ খুন, ৩৯৪ অর্থাৎ লুঠপাট, ৩৪ অর্থাৎ সমবেত ভাবে কিছু পরিচালনা করা ও অস্ত্র আইন মামলায় তদন্ত শুরু হয়। পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্ত মিলি পাল ও বাপি সেন আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন পরিবহণ ব্যাবসায়ীর জন্য। রাতের দিকে রেস্তোরা ছাড়লে তিনি সঙ্গে করে গাড়িতে নিয়ে যান মিলি ও বাপিকে। সল্টলেকের একটি নির্জন জায়গায় মিলি ও বাপি চড়াও হন সালাউদ্দিনের উপরে। তাঁরা দুজনেই ব্যাবসায়ীর কাছে থাকা দামী ঘড়ি, টাকা, মানি ব্যাগ নিয়ে চলে যেতে চান। সালাউদ্দিন প্রথমে বাধা দিলেও আগ্নেয় অস্ত্র দেখিয়ে সব লুঠ করা হয়। যাবার সময় বাপি সেন তিনটি গুলি করে দুজনেই চম্পট দেন।

বীরভূমের মুরারই-তে দূর সম্পর্কের আত্মীয়ের বাড়িতে গা ঢাকা দেন অভিযুক্ত দম্পতি।  ঘটনার চারদিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা হয় দু'জনকে। খুনে ব্যাবহার অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করা হয় অভিযুক্ত বাপির কলকাতার বাড়ি থেকে। পুরো তদন্ত প্রক্রিয়ায় ৩৯ জনের সাক্ষী গ্রহন করেন তদন্তকারী অফিসার।  লুঠ হওয়া সব জিনিস উদ্ধার হলেও গাড়ির মধ্যে উদ্ধার হয় পোড়া সিগারেটের শেষাংশ।

 সেই সিগারেট ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হলে পরীক্ষা করা হয় ডিএনএ-র। অভিযুক্তের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে প্রমাণ হয় অভিযুক্ত বাপি সেন গাড়ির পিছনেই বসেছিলেন। বুধবার শিয়ালদহ আদালত এই ঘটনার রায়দান পর্ব ছিল। বিভিন্ন তথ্য ও সাক্ষপ্রমানের ভিত্তিতে বাপি সেন ও মিলি পালকে দোষী সাবস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। সালাউদ্দিনের বাড়ির লোক এই রায়ে খুশি।

Published by: Arka Deb
First published: September 17, 2020, 9:16 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर