• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • BUS OWNERS WILL SHOW PROTEST FROM TOMORROW AS NO REMEDIES FOUND BY CENTRE FOR REVIVAL AKD

দেওয়ালে পিঠ, আগামিকাল থেকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করবেন বাস মালিকরা 

যুক্তি আর পাল্টা যুক্তির মধ্যেই জুলাই মাসে সমস্ত বেসরকারি বাস সংগঠন রাস্তায় বাস নামিয়েছে। তারই মধ্যে লকডাউন আর কন্টেনমেন্ট জোনের কারণে ফের শহরে কমতে শুরু করে দিয়েছে বেসরকারি বাস।

যুক্তি আর পাল্টা যুক্তির মধ্যেই জুলাই মাসে সমস্ত বেসরকারি বাস সংগঠন রাস্তায় বাস নামিয়েছে। তারই মধ্যে লকডাউন আর কন্টেনমেন্ট জোনের কারণে ফের শহরে কমতে শুরু করে দিয়েছে বেসরকারি বাস।

  • Share this:

#কলকাতা: আগামিকাল অর্থাৎ বুধবার থেকে রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করছে বাস সংগঠন। পশ্চিমবঙ্গ বাস এবং মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা আন্দোলনে নামছে। আগামীকাল কলকাতার ৫ জায়গায় তারা বিক্ষোভ প্রর্দশন করবে। তাদের দাবি, রাজ্য ভাড়া বাড়ায়নি, কিন্তু কর ছাড় দিয়েছে। অন্য দিকে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নানা সুযোগ সুবিধা থাকলেও তা প্রয়োগ করেনি কেন্দ্রীয় সরকার।  গত ৫ মাস ধরে তাদের আর্থিক দুরবস্থার জন্যে কেন্দ্রীয় সরকারও সমান ভাবে দায়ী। তাই কেন্দ্রের বিরোধিতা করেই চলবে বুধবার তাদের দিনভর আন্দোলন।

কলকাতার শ্যামবাজার ৫ মাথার মোড়, ধর্মতলা মেট্রো চ্যানেল, এক্সাইড মোড়, কালীঘাট ও গড়িয়াহাটে তারা এই আন্দোলন করবে। সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক প্রদীপ নারায়ণ বোস জানাচ্ছেন, "রাজ্যপাল, প্রধানমন্ত্রী দফতর ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী, সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী, সকলের কাছেই আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। যদিও কেউ কোনও সদুত্তর দিয়ে উঠতে পারেননি। তাই বাধ্য হয়েই আমরা রাস্তায় নামব।"

অন্য দিকে সোমবার করে পাম্পে গিয়ে জ্বালানি নিচ্ছে না জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের বাস। ডিজেলের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি, বারবার ভাড়া বাড়ানোর আবেদন জানিয়েও কোনও সুরাহা না মেলায় আপাতত অভিনব এই প্রতিবাদ শুরু করেছেন বাস সংগঠনের সদস্যরা। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের তরফ থেকে বাকি সংগঠনের কাছেও আবেদন করা হচ্ছে তারা যেন এভাবে প্রতিবাদ করেন।

ডিজেলের অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধির জেরে বিগত কয়েকমাস ধরে বাসের ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বাস মালিকরা। এবার প্রতিবাদে নেমে  রাজ্যের কোনও পেট্রোল পাম্প থেকে ডিজেল কেনা বন্ধ করে দিল বাস মালিকদের অন্যাতম বৃহৎ এই সংগঠন। জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের ক্রমাগত ডিজেলের মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত আমরা নিয়েছি। আমরা চাই সবাই এগিয়ে আসুক।বাকি সংগঠন একই রকম ভাবে প্রতিবাদ জানাক।"

কলকাতায় যে বাসগুলি চলে তা সাধারণত ১৭০ লিটারের তেলের ট্যাঙ্ক আছে। জেলায় যে বাসগুলি চলে তা সাধারণত ২২০ লিটার তেলের ট্যাঙ্ক আছে। বাস সংগঠনের দাবি, সাধারণত সপ্তাহের প্রথম দিনেই তেল এক্ষেত্রে ডিজেল ভরে নেওয়া হয় পুরো ট্যাঙ্কি জুড়ে। ১৭০ লিটার তেল ভরলে কলকাতায় তিন দিন বাস চলে। ২২০ লিটার তেল ভরে জেলার বাসে ১ থেকে দেড় দিন চলে। ৭৭ টাকা তেলের লিটার হলে ১৭০ লিটারের জন্য খরচ পড়ে ১৩০৯০ টাকা। ২২০ লিটারের জন্যে খরচ পড়ে ১৬৯৪০ টাকা। ফলে একদিনে জ্বালানি বাবদ যে খরচ হত সেটা হবে না। অন্যদিকে সপ্তাহের প্রথম দিনে জ্বালানি না ভরায় রাস্তায় কার্যত কম নামবে বেসরকারি বাস।  বিস্তর আলাপ আলোচনা।

যুক্তি আর পাল্টা যুক্তির মধ্যেই জুলাই মাসে সমস্ত বেসরকারি বাস সংগঠন রাস্তায় বাস নামিয়েছে। তারই মধ্যে লকডাউন আর কন্টেনমেন্ট জোনের কারণে ফের শহরে কমতে শুরু করে দিয়েছে বেসরকারি বাস। সপ্তাহের প্রথম দিন যে সংখ্যক বেসরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে তা ১২০০ এর কাছাকাছি। বাস মালিকদের তরফে জানানো হয়েছে, এই সংখ্যক বাসেও যাত্রী হচ্ছে না। ফলে আগামী বেশ কয়েকদিন রাস্তায় আদৌ বাস নামানো যুক্তিযুক্ত হবে কিনা তা নিয়ে তারা নিজেরাই সংশয়ে রয়েছেন। বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে রাস্তায় কম বেরোচ্ছেন যাত্রীরা।

এই অবস্থায় সংগঠনের নেতারা চালক ও কন্ডাক্টরকে কোনও ভাবেই বাস চালানোর জন্যে জোর করছেন না। আনলক অধ্যায়ের দ্বিতীয় ধাপে বিগত ১০ দিনের মধ্যে রাস্তায় বাসের সংখ্যা ছুঁয়েছিল প্রায় ৩০০০। সরকারের তরফেও প্রায় ১৮০০ বাস রাস্তায় নামানো হয়৷ কিন্তু নতুন করে লকডাউন এটা জানার পরেই গত সপ্তাহ থেকে বেসরকারি বাসের সংখ্যা এক ধাক্কায় ১২০০ কাছাকাছি চলে এসেছে। সব চেয়ে বেশি বাস কমেছে কলকাতা উত্তর ও শহরতলির দিকে। কারণ কন্টেইনমেন্ট জোনের মধ্যে দিয়ে বাস চালাতে রাজি নয় বাস সংগঠনের প্রতিনিধিরা। শুধু বেসরকারি বাস কমা নয়। একটি সূত্র বলছে সরকারি বাস লক্ষ্যণীয় ভাবে কম চলেছে। কারণ হিসেবে জানা যাচ্ছে যে সংখ্যক সরকারি বাস রাস্তায় নেমেছে তাতে প্রচুর যাত্রী হচ্ছে না। ফলে শহীদ মিনার বাস স্ট্যান্ড, ময়দান ট্রাম লাইন বা ইডেন গার্ডেনের সামনের মাঠে দাঁড়িয়ে আছে বহু সরকারি বাস।

সরকারি আধিকারিকদের ব্যাখ্যা, যাত্রী না হলে দামী ডিজেল পুড়িয়ে কি লাভ হবে? জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায়ের দাবি, "অনেক চালক ভয়ে চাবি আমাদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে চলে গেছেন। তারা ভয় পাচ্ছেন যদি তাদের করোনা হয়।" দাবি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির নেতা রাহুল চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানাচ্ছেন, "ভয় তো একটা আছেই। অনেকেই আবার বাস রেখে দিয়ে চলে গেছেন। বাস মালিকরা তা জানে না।"

বিশেষ করে বারাসাত থেকে হাওড়া, ব্যারাকপুর থেকে কলকাতা বা হাবড়া থেকে ধর্মতলা রুটে যে সব বাস চলে সেখানে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে সব মিলিয়ে করোনার ভয়ে এবার বাস কমতে শুরু করে দিল কলকাতায়। অন্যদিকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধেই এবার কলকাতার রাস্তায় আন্দোলনে নামছেন বাস মালিকরা।

Published by:Arka Deb
First published: