গঙ্গারামপুরে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা ও নিরাপত্তার নির্দেশ

গঙ্গারামপুরে মধ্যযুগীয় বর্বরতা, ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা ও নিরাপত্তার নির্দেশ

নিগৃহীতার শরীরে আঘাতের চিহ্নের কথাও উঠে আসে।

  • Share this:

#কলকাতা: গঙ্গারামপুরের মধ্যযুগীয় বর্বরতায় সুরক্ষা নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি থোট্টাথিল বি রাধাকৃষ্ণণ। এসডিপিও গঙ্গারামপুর ও স্থানীয় থানার ওসি-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নিগৃহীতার পরিবারকে ২৪ ঘণ্টা সুরক্ষা ও নিরাপত্তা দেওয়ার। শিক্ষিকার পরিবারে কোনওরকম নিরাপত্তাহীনতা বরদাস্ত করা যাবেনা বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন, "সম্পত্তি রক্ষার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে নিগৃহীতার। ব্যক্তিমালিকানার সম্পত্তি জোর করে দখল করা যায় না। জনকল্যাণমূলক কাজে জমি নিতে হলে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই তা নিতে হবে প্রশাসনকে।" দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ভূমি সংস্কার আধিকারিক'দের নিয়ম মেনে জমি অধিগ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। দক্ষিণ দিনাজপুর গঙ্গারামপুরে শিক্ষিকাকে মারধর এবং দড়ি বেঁধে ছেঁছড়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপ করে কলকাতা হাইকোর্ট। বিষয়টি আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এজলাসে জানতে পারেন প্রধান বিচারপতি। এরপর স্টেট লিগাল সার্ভিস অথরিটি'র চেয়ারম্যানের কাছ থেকে গঙ্গারামপুরের নন্দনপুরের ঘটনার বিষয়ে রিপোর্ট তলব করা হয়।

রিপোর্টে সামনে আসে শিক্ষিকাকে নিগ্রহের ঘটনা। নিগৃহীতার শরীরে আঘাতের চিহ্নের কথাও উঠে আসে। রিপোর্টে আরও উঠে আসে, প্রধানমন্ত্রী গ্রামসড়ক যোজনা প্রকল্পের আওতায় নন্দনপুরে রাস্তা তৈরি'র প্রকল্পের কাজ চলছিল। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তা তৈরিতে জমির প্রয়োজন হয়ে পড়ে। নিগৃহীতার অভিযোগ, গ্রাম সড়ক যোজনা প্রকল্পের নামে জোর করে তাদের জমি দখল করা হয়েছে। প্রতিবাদ করলে শিক্ষিকাকে মারধর ও দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। মোবাইল বন্দি হয় রাস্তা থেকে টেনে হিঁচড়ে সরিয়ে দেওয়ার ছবি। ভিডিও ক্লিপিংস ঘিরে তোলপাড় হয়ে ওঠে গঙ্গারামপুর। অভিযোগের আঙুল ওঠে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের উপ প্রধান অমল সরকার এবএবং তাঁর অনুগামী গোবিন্দ সরকার, তপন শীল, রতন সরকার ও উজ্জ্বল সরকারের বিরুদ্ধে ।অভিযুক্ত উপপ্রধানকে সাসপেন্ড করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। গ্রেফতার হয়েছে উপপ্রধান সহ ৩জন। ভারতীয় দণ্ডবিধি'র ৩৪২, ৩২৩, ৩২৫, ৩৫৪, ৩৭৯, ৫০৬ এবং ৩৪ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।

ARNAB HAZRA

First published: February 28, 2020, 11:43 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर