Black Fungus: রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে ফের মৃত্যু ! সন্দেহজনক আক্রান্ত ২৯ জন

Black Fungus

৪৭ বছরের এক ব্যক্তি আজ মারা গিয়েছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে।

  • Share this:

    #কলকাতা: একে করোনায় জীবন জেরবার। তার ওপর আবার নতুন আতঙ্ক ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। আজ রাজ্যে নতুন করে তিন জনের শরীরে নিশ্চিত ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ধরা পড়েছে।  ৪৭ বছরের এক ব্যক্তি আজ মারা গিয়েছেন ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে। মোট মৃত্যু রাজ্যে তিন জন। সন্দেহজনক আক্রান্ত ২৯ জন। সন্দেহজনক ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু পাঁচ জনের। সন্দেহ করা হচ্ছে তাঁদের মৃত্যুর কারণও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। খতিয়ে দেখা হচ্ছে গোটা বিষয়। রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বাড়তে থাকায় স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা বাড়ছে। করোনার মধ্যে নতুন আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। যদিও ব্ল্যাক ফাঙ্গাস আটকাতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    কি এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস? কেনই বা ছড়াচ্ছে? এই গোটা বিষয় সম্পর্কে জেনে রাখা দরকার। ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরমায়কোসিস খুবই সাংঘাতিক এবং বিরল ফাঙ্গাল সংক্রমণ (rare fungal infection)৷ এর ফলে ৫৪শতাংশ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে৷ রোগীর শরীরের অবস্থা, এবং কতটা জোরাল ফাঙ্গাস, তার উপর নির্ভর করে এর মৃত্যুর হার৷ বহু করোনা রোগীর অবস্থা অবনতি হওয়ার পিছনে রয়েছে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস৷

    কীভাবে হয় এই রোগ?

    মিউকোমাইসেটিস থেকে এই রোগ হয়৷ আমাদের পরিবেশ, বিশেষ করে মাটিতে থাকে এই ফাঙ্গি৷ এর সংস্পর্শ থেকে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে৷ তবে মাটি বা ধুলো বা খুব দূষিত এলাকা থেকে দূরে থাকলে এই রোগের আশঙ্কা কিছুটা হলেও কম৷

    কাদের হতে পারে এই রোগ?

    সম্প্রতি দেশ জুড়ে এই ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরমাইকোসিস করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে৷ এই সংক্রমণ প্রথম থেকে সঠিকভাবে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারে রোগীর৷ সাইনাস বা ফুসফুসের (Sinsus, lungs) ক্ষতি করে এই ফাঙ্গাল সংক্রমণ৷ ইতিমধ্যেই ICMR এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এই নিয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে৷ কী করতে হবে এবং কী করতে হবে না, তা জানানো হয়েছে এই নির্দেশিকায়৷

    ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের উপসর্গ কী?

    শরীরে যন্ত্রণা, চোখ-নাকের পাশ দিয়ে ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, জ্বর, মাথা ব্যথা, কাশি, নিঃশ্বাসের সমস্যা, রক্তবমি, স্মৃতি শক্তিতে প্রভাব অর্থাৎ ভুলে যাওয়ার সমস্যা৷ মূলত এই সব উপসর্গ দেখা যায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাস সংক্রমণ হলে৷ তবে ঘন ঘন নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, মাড়ি ফুলে যাওয়া, চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হওয়া, ত্বকের সমস্যা, বুকে ব্যাথা হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে৷ করোনা রোগী যাদের ডায়বেটিস রয়েছে বা দীর্ঘ সময় আইসিইউতে রয়েছেন তাঁদের প্রতি বিশেষ নজর রাখতে হবে৷

    কীভাবে ছড়িয়ে পড়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস বা মিউকোরমাইকোসিস?

    এই রোগ ছোঁয়াচে নয় (Black Fungus not contagious) ৷ ফলে এটি সরাসরি একজনের দেহ থেকে অন্যের দেহে যেতে পারে না৷ একমাত্র এই ধরণের ছত্রাকের (Fungus) ছোঁয়ার এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধতে পারে৷ ক্ষতি করতে পারে ফুসফুস বা সাইনাস৷ ত্বকের সমস্যা থেকে শুরু করে চোখের সমস্যা, সবটাই ঘটতে পারে এর ফলে৷

    এর থেকে বাঁচতে কী করতে হবে?

    মাস্ক ব্যবহার জরুরি৷ পরতে হবে গা ঢাকা জামা৷ যদি কোনওভাবে মাটির কোনও কাজ করতে হয়, তাহলে গ্লাভসও পরতে হবে৷ শুধুমাত্র সাবান দিয়ে স্নান করলে চলবে না, ব্যবহার করতে হবে স্ক্রাব৷ রক্তের সর্করার মাত্রা বা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে৷ স্টেরয়েডের মাত্রা কমাতে হবে৷ করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে উঠলে এইগুলির দিকে নজর দিতে হবে৷ অ্যান্টিবায়োটিক বা অ্যান্টিফাঙ্গাল ব্যবহার করতে হবে সতর্কভাবে৷ অক্সিজেন থেরাপির সময় পরিষ্কার জল ব্যবহার করতে হবে৷ বাড়ির কোনও খাবার বেশি দিন থাকলে, তা না খাওয়াই ভাল৷ কারণ অনেক সময় সেই সব খাবারে ছত্রাক বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়৷ অন্যদিকে বাইরে থেকে শাকসব্জি এনে তা ভাল করে ধুয়ে তারপর রান্না করে খেতে হবে৷ এমনই মত চিকিৎসকদের৷

    Published by:Piya Banerjee
    First published: