বিজেপির প্রার্থী তালিকায় 'দ্য পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স'এর ছাপ কম

বিজেপিতে অবশ্য এই দলবিলাস বহু দিন ধরেই চলছে। লাইনটা পরিষ্কার। বেড়াল সাদা না কালো তাতে কিছু যায় আসে না, ইঁদুর ধরতে পারলেই তাকে শাবাশি দাও। পড়ুন লোকসভা ভোট-পূর্ব বিশ্লেষণ বিশিষ্ট সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্রের কলমে৷

Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 21, 2019 04:13 PM IST
বিজেপির প্রার্থী তালিকায় 'দ্য পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স'এর ছাপ কম
বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ -- ছবি সৌজন্য: PTI
Bangla Editor | News18 Bangla
Updated:Aug 21, 2019 04:13 PM IST

বিজেপিতে অবশ্য এই দলবিলাস বহু দিন ধরেই চলছে। লাইনটা পরিষ্কার। বেড়াল সাদা না কালো তাতে কিছু যায় আসে না, ইঁদুর ধরতে পারলেই তাকে শাবাশি দাও। পড়ুন লোকসভা ভোট-পূর্ব বিশ্লেষণ বিশিষ্ট সাংবাদিক শুভাশিস মৈত্রের কলমে৷

বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতর থেকে ভোট-পণ্ডিতরা ঘন ঘন কলকাতায় আসছেন আগাম আন্দাজ নিতে, ২২টা সিট হবে তো? যে সাংবাদিক বা সেফোলজিস্টদের সঙ্গে তাঁরা কথা বলছেন, তাঁরা যখন এই ধরনের কোনও সুখবর শোনাতে পারছেন না, ভোট-পণ্ডিতদের কপালে ভাঁজ পড়ছে। এটা ঠিক, ১২-১৪টা আসনে এ বার বিজেপি জেতার জন্য লড়াই করবে। তবে ফল কী হবে আগাম বলা সম্ভব নয়, ভবিষ্যৎবাণী করা সাংবাদিকের কাজও নয়। আরএসএস-এর এক প্রচারক জানালেন, ৭৯ হাজার বুথের মধ্যে ৬৫ শতাংশ বুথে বিজেপি লোক দিতে পারবে। যদিও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, সংখ্যাটা মনে হয় বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। আর বুথ সামলাতে না-পারলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটে জেতা প্রায় অসম্ভব। বহু আসনে বিজেপি এই সমস্যায় পড়বে। এই মুহূর্তে সিপিএম, কংগ্রেসেরও এটা বড় মাথা ব্যথার কারণ। তবে মানসিক ভাবে তারা যেহেতু তাদের ভবিষ্যৎ অনেকটাই জানে, তাই এই মাথাব্যথা তাদের দিবানিদ্রায় ব্যাঘাত ঘটাবে না। কিন্তু বিজেপি এখন এই মুহূর্তে এই রাজ্যে প্রধান বর্ধিষ্ণু রাজনৈতিক শক্তি, ফলে এই সমস্যা তারা এড়িয়ে যেতে পারবে না।

কয়েক দিন আগে একটা ইন্টারনেটের খবরে চোখ আটকে গিয়েছিল। খবরটা এ রকম। রাজ্যে রাজ্যে বিজেপির যত মন্ত্রী আছেন, তাঁদের একটা বড় অংশ অন্য দল থেকে বিজেপিতে এসে ভোটে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। সত্যব্রত দত্তের লেখা বাংলার বিধানসভা ও সংসদীয় রাজনীতি (১৮৬২-১৯৫১) পড়লে দেখা যাবে, দল বদল ব্যাপারটা বাংলায় ভালই ছিল ১৯৪৭-এর আগে। সিপিএমে ৩৪ বছরের শাসন নিয়ে অনেক কিছু বলার থাকলেও, দু'কান কাটা নেতার মতো আজ এ দল কাল ও দলের সংস্কৃতিটা ছিল না বাংলায়। বাংলায় এর আবির্ভাব ২০১১-র পরে। বিজেপিতে অবশ্য এই দলবিলাস বহু দিন ধরেই চলছে। লাইনটা পরিষ্কার। বেড়াল সাদা না কালো তাতে কিছু যায় আসে না, ইঁদুর ধরতে পারলেই তাকে শাবাশি দাও।

মুকুল রায়, বাবুল সুপ্রিয় ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয় -- ছবি সৌজন্য: পিটিআই মুকুল রায়, বাবুল সুপ্রিয় ও কৈলাশ বিজয়বর্গীয় -- ছবি সৌজন্য: পিটিআই

বিতর্কিত নেতারা, যাঁরা প্রার্থী হয়ে, বিজেপির 'পার্টি উইথ ডিফারেন্স' ট্যাগটাকে কিছুটা হলেও মলিন করে দিলেন, তাঁরা হলেন, ব্যারাকপুরের অর্জুন, মালদার খগেন মুর্মু, কোচবিহারে নিশীথ প্রামাণিকের মতো প্রার্থীরা। এ সব নাম নিয়ে দলেও ক্ষোভ আছে বলেই খবর। খগেনবাবুকে প্রার্থী করা নিয়ে তো পোস্টারও পড়েছিল। বিজেপির কি প্রার্থী কম পড়েছে? তা কিন্তু নয়। ৪২টি আসনের জন্য ৫৩৪টি নাম জমা পড়েছিল। তার থেকে বাছাই করে প্রার্থী স্থির করা হয়েছে। এটা হল বিজেপির অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট। কিন্তু ঘটনা হল, এই প্রার্থী নির্বাচনে ব্যাপক দর কষাকষি হয়েছে দলের চারটি শক্তি-কেন্দ্রের মধ্যে।

Loading...

আরএসএস, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ এবং কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। প্রত্যেকেই চেষ্টা করেছে তার মনোনীত প্রার্থীকে ভালো আসন দিতে। মুকুল রায় অনেকটাই সফল কোচবিহার সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাঁর পছন্দের প্রার্থীকে জায়গা করে দিতে। ভেতরের খবর, আরএসএস চেয়েছিল প্রাক্তন সাংবাদিক রন্তিদেব সেনগুপ্তকে দমদম থেকে প্রার্থী করতে। কিন্তু সফল হয়নি। হাওড়ায় যেতে হয়েছে রন্তিদেবকে।

পশ্চিমবঙ্গে এই মুহূর্তে বিজেপির সুবিধা এটাই যে প্রার্থী না-দেখেই বেশ কিছু মানুষ এ বার বিজেপিকে ভোট দেবে। ২০১৪ লোকসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেস ৪০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, বিজেপি ১৭ শতাংশ। দু'বছর পরে বিধানসভায়, তৃণমূল ৪৬ শতাংশ, বিজেপি ১০ শতাংশ। আর, কং+বাম জোট পেয়েছিল ৪০ শতাংশ। তৃণমূলের ভোট যদি না-ও কমে, কংগ্রেস এবং বামেরা এবার 'মর্যাদা'র লড়াই করে আসন সমঝোতা থেকে সরে গিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, তাতে দু'পক্ষেরই ভোট কমবে। যত কমবে তত বিজেপির লাভ। কারণ এই ভোট তৃণমূলের নয়। তৃণমূল বিরোধী ভোট এটা।

আবার এটাও ঠিক, অঙ্কের হিসেবে বিজেপি যে খুব ভালো জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে এমন কথা তথ্য দিয়ে বলা যাবে না। ২০১৪ থেকে মোদি জমানায় মোট যে ২৭টি লোকসভা আসনে উপনির্বাচন হয়েছে, তার মাত্র পাঁচটিতে জিতেছে বিজেপি। ২০১৪ তে এনডিএ-র লোকসভা আসন ছিল ২৮২, আজ তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৬৮তে। তবে লড়াই তো এখন ঘোষণার। আজ রাফাল তো কাল এয়ার স্ট্রাইক, পরশু কৃষকের ব্যাঙ্কে ২,০০০ তো পরের দিন গরিবি হঠাতে ৭২,০০০, আজ নোটবন্দির ভিডিও তো তার পর দিন উপগ্রহ ধ্বংসকারী মিসাইল। এর প্রভাব ইভিএমে কতটা পড়বে? উত্তর জানা নেই! এই ধরনের যুদ্ধ-ঘনঘটায় নির্বাচন বিশ্লেষণ আর আলিপুর আবহাওয়া অফিসের ওয়েদার ফোরকাস্ট প্রায় সমার্থক।

এই প্রতিবেদনের মত ও মন্তব্য লেখকের ব্যক্তিগত

First published: 06:20:04 PM Apr 28, 2019
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर