শাসক দলের নেতাদের সরকারি হাসপাতালে অবাধ যাতায়াত আর বিরোধী হলে বাধা? প্রশ্ন লকেটের

শাসক দলের নেতাদের সরকারি হাসপাতালে অবাধ যাতায়াত আর বিরোধী হলে বাধা? প্রশ্ন লকেটের
এসএসকেএম-এ লকেট চট্টোপাধ্যায়

এদিন একই হাসপাতালে অপর চিকিৎসাধীন খুদে পড়ুয়া কিম্বা শাসকদলের কাউন্সিলর বাবা সন্তোষ সিং অথবা তাদের পরিবারের কারোর সঙ্গে দেখা না করেই হাসপাতাল ছাড়েন ।

  • Share this:

#কলকাতা: পোলবায় পুলকার দুর্ঘটনা নিয়েও শাসক-বিরোধী রাজনীতি তুঙ্গে। বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ  ঢুকতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত।

শনিবার বেলা তিনটে নাগাদ এসএসকেএম হাসপাতালে আসেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু ট্রমা কেয়ার সেন্টারে ঢুকতে গেলেই পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। পুলিশ ও নিরাপত্তা রক্ষীরা লকেট চট্টোপাধ্যায়কে জানান , ভেতরে যাওয়ার অনুমতি নেই। যদিও লকেট চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন তিনি দুই পড়ুয়াকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই এসেছেন।

তবুও নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকেন পুলিশকর্মীরা। দীর্ঘক্ষণ ট্রমা কেয়ার সেন্টারের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয় সাংসদকে। আর এতেই চটে যান বিজেপি সাংসদ। লকেট চট্টোপাধ্যায় হাসপাতলে আসার আগে থেকেই বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী সমর্থক ভিড় জমিয়েছিলেন হাসপাতাল চত্বরে। লকেটকে বাধা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পুলিশ এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। ট্রমা কেয়ারের  সামনে তখন জ্বলছে  বিশৃঙ্খলার  আগুন ।

লকেটের পাশাপাশি পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁরাও প্রশ্ন করেন, কেন একজন সাংসদকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না? যদিও পুলিশকর্মীরা সাংসদকে সাফ জানান,  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অনুমতি না মিললে তারা কোন অবস্থাতেই  তাঁকে ভেতরে ঢুকতে দেবেন না। এই কথা বলার পর ট্রমা কেয়ার সেন্টারের সামনেই হৈ হট্টগোল শুরু করে দেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। কিছুটা মেজাজ হারান লকেটও। শেষমেষ বিজেপি সাংসদকে একাই ট্রমা কেয়ার সেন্টারের প্রধান দরজার ভেতর ঢুকতে দিলেও অসুস্থ পড়ুয়াকে দেখতে যাওয়ার অনুমতি শেষ পর্যন্ত দেননি নিরাপত্তারক্ষীরা । বাইরে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিজেপি সাংসদ লকেট বলেন , তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীরা  অবাধে  হাসপাতালের ভেতর যখন তখন ঢুকলেও আমি জনপ্রতিনিধি হলেও আমাকে বাধা দেওয়া হল । আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি ।

তবে তৃণমূল  হাসপাতালেও পোলবাকাণ্ড নিয়ে রাজনীতি করছে । সাংসদ লকেট এও বলেন, আহত পড়ুয়াদের দেখতে  গতকাল রাজ্যের মন্ত্রী তথা মেয়র  ফিরহাদ হাকিম  সহ অন্যান্য শাসক দলের নেতারা হাসপাতালের ভেতর দাঁপিয়ে বেড়ালেও আমার ক্ষেত্রে আজ  নিয়ম বদলে গেল । অথচ আমি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েই এসেছিলাম যে , আমি শনিবার পড়ুয়াদের দেখতে যাব । তখন কর্তৃপক্ষ কোনরকম আপত্তির কথা না জানালেও হাসপাতালে এলে চিকিৎসাধীন পড়ুয়ার  ধারে কাছে যেতে আমায় বাধা দেওয়া হল । শুধু বাধা দেওয়াই  নয় ,আমার সঙ্গে অত্যন্ত দুর্ব্যবহার করেছেন নিরাপত্তারক্ষী এবং পুলিশকর্মীরা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন লকেট চট্টোপাধ্যায় ।

তাঁর কথায়, শাসক দলের নেতা মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে এক নিয়ম। আর পড়ুয়াদের সঙ্গে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে বিরোধী নেতা নেত্রীদের ক্ষেত্রে অন্য নিয়ম আসলে শাসক দলের রাজনীতিরই বহিঃপ্রকাশ। যদিও বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় এদিন হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন পড়ুয়া দিব্যাংশুকে দেখতে যেতে না পারলেও তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তবে একই হাসপাতলে অন্য চিকিৎসাধীন  খুদে পড়ুয়া ঋষভকে দেখতে যাওয়া বা তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ না করা নিয়ে  লকেটকে খোঁচা দিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের  তরফ থেকে এক সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয় , "ঋষভের  বাবা  তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর । সে কারণেই  বিজেপি সাংসদ  সেখানে যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি । তাই হাসপাতালে এসে কে রাজনীতি করছে  এর থেকেই তা  স্পষ্ট হয়েছে "।

তবে শাসকদলের এই মন্তব্যের জবাব এড়িয়ে  বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়  এদিন একই হাসপাতালে অপর চিকিৎসাধীন খুদে পড়ুয়া কিম্বা শাসকদলের কাউন্সিলর বাবা সন্তোষ সিং  অথবা তাদের পরিবারের কারোর সঙ্গে দেখা না করেই হাসপাতাল ছাড়েন ।

VENKATESWAR  LAHIRI

First published: February 15, 2020, 11:28 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर