সম্ভাবনাময় মুখের অভাব? বঙ্গ জয়ে একঝাঁক সাংসদকে বিজেপির টিকিট! দেখুন তালিকা...

সম্ভাবনাময় মুখের অভাব? বঙ্গ জয়ে একঝাঁক সাংসদকে বিজেপির টিকিট! দেখুন তালিকা...

সাংসদদের টিকিট

লকেটকে নিজের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত চুঁচুড়া থেকে প্রার্থী করা হল। আর রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশুগুপ্তকে করা হয়েছে হুগলিরই তারকেশ্বর থেকে প্রার্থী, আর নীশীথ প্রামাণিককে দাঁড় করানো হল দিনহাটা থেকে।

  • Share this:

    #নয়াদিল্লি: প্রথম দু'দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে বেশ কিছুদিন আগেই। তাতে চমকের থেকে বেশি দলীয় সাংগঠনিক নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারপর থেকেই জেলায়-জেলায় বিজেপি কর্মীদের প্রশ্ন ছিল, পরবর্তী তালিকা কবে? অবশেষে রবিবার দুপুরে বাংলার তৃতীয় ও চতুর্থ দফা ভোটের জন্য ৬৩ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিং। আর তাতেই দেখা গেল, বাবুল সুপ্রিয়, স্বপন দাশগুপ্ত, লকেট চট্টোপাধ্যায়দের মতো সাংসদদের প্রার্থী করল দল। বাবুল সুপ্রিয়কে দাঁড় করানো হল, হেভিওয়েট টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে। অপরদিকে, লকেট চট্টোপাধ্যায়কে নিজের সংসদীয় এলাকার অন্তর্গত চুঁচুড়া থেকে প্রার্থী করা হল। আর রাজ্যসভার সাংসদ স্বপন দাশুগুপ্তকে করা হয়েছে হুগলিরই তারকেশ্বর থেকে প্রার্থী, আর নিশীথ প্রামাণিককে দাঁড় করানো হল দিনহাটা থেকে। এতজন সাংসদকে কেন প্রার্থী করা হল, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, প্রতিটা কেন্দ্রে এখনও সম্ভাবনাময় মুখ খুঁজে পায়নি গেরুয়া শিবির। তাই সাংসদদেরই প্রার্থী করা বঙ্গ জয়ের মরিয়া চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও সেই যুক্তি মানতে চাননি  বিজেপি নেতাদেরই কেউই।

    শনিবারই দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলেন অমিত শাহ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, দিলীপ ঘোষ, মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারী। সেই বৈঠকের আগেই দিলীপ বলেছিলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিসর্জন দিতে সকলে প্রস্তুত হয়ে গিয়েছেন। বাকি প্রার্থীদের নিয়ে আমরা আলোচনা করব।' আর সেই সূত্রেই বঙ্গ জয়কে পাখির চোখ করে বেশ কয়েকজন সাংসদকেও প্রার্থী করে দিল গেরুয়া শিবির।

    তবে, শুধু নিশীথ, লকেট বা বাবুলদের নয়, এখনও জল্পনা রয়েছে রূপা গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়েও। একইরকম জল্পনা রয়েছে মুকুল রায়কে নিয়েও। দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হলেও ভোটে লড়ার কোনও সুযোগ এর আগে মুকুলকে দেয়নি বিজেপি। কিন্তু এবার শিঁকে ছিড়তে পারে তাঁর। যদিও এখনও পর্যন্ত তাঁর নাম ঘোষণা করেনি বিজেপি।

    মমতার বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলের প্রার্থীতালিকা প্রকাশের আগে পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কোনও সাংসদকে এবারের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করা হবে না। কিন্তু পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলকে হারাতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল গেরুয়া শিবির। কিন্তু কেন একঝাঁক সাংসদকে প্রার্থী করা হল? বিজেপি সূত্রে খবর, ঝোড়ো বক্তৃতা ও এলাকায় জনপ্রিয়তার দিকে খেয়াল রেখেই একাধিক আসনে দাঁড় করানো হয়েছে সাংসদদের। যদিও বাবুলকে আসানসোলের কোনও কেন্দ্র নয়, বরং তারকা ছ্বটার জন্য তাঁকে দাঁড় করানো হয়েছে টালিগঞ্জ কেন্দ্র থেকে। আবার স্বচ্ছ ভাবমূর্তির জন্য প্রার্থী করা হল স্বপন দাশগুপ্তকে। সামনের বছরই রাজ্যসভায় নিজের মেয়াদ শেষ হচ্ছে স্বপনের। তার আগেই বাংলার লড়াইয়ের জন্য তাঁকেও বেছে নিলেন অমিত শাহরা।

    এ প্রসঙ্গে স্বপন নিজেও বলেন, 'তৃণমূলকে হারানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। বাংলার পরিবেশ বদলাতে হবে। তার জন্য সাংসদ কেন, সমস্ত স্তরের মানুষদেরই যোগদান প্রয়োজন। করছেনও তাঁরা। এবার আসল পরিবর্তন করে সোনার বাংলা গড়া হবেই।'

    Published by:Suman Biswas
    First published: