• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • BJP MAY SET EXAMPLE OF UTTARAKHAND TO POSTPONE BYE ELECTIONS IN BENGAL DMG

BJP: বাংলায় উপনির্বাচন পিছোতে উত্তরাখণ্ড কৌশল বিজেপি-র? আমল দিচ্ছে না তৃণমূল

পদত্যাগ করেছেন তীর্থ সিং রাওয়াত৷ উপনির্বাচনে জিতে আসতে হবে মমতাকেও৷

শুক্রবারই উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তীর্থ সিং রাওয়াত৷ তিনিও বিধায়ক ছিলেন না৷

  • Share this:

#কলকাতা: উদাহরণ উত্তরাখণ্ড৷ আর সেই উদাহরণ দেখিয়েই বাংলাতেও উপনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার কৌশল নিতে পারে বিজেপি৷ আর সত্যি তেমন হলে, চাপে পড়বে এ রাজ্যের শাসক দল৷ কারণ তৃণমূল কংগ্রেস চাইছে, যত দ্রুত সম্ভব রাজ্যের বিধায়ক শূন্য কেন্দ্রগুলিতে উপনির্বাচন করিয়ে ফেলুক নির্বাচন কমিশন৷ কারণ নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে হেরে যাওয়ায় মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার ছ' মাসের মধ্যে বিধায়ক হিসেবে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷

তবে বিজেপি-র এই কৌশলকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না তৃণমূল কংগ্রেস৷ তাদের আশা, দ্রুতই এ রাজ্যের উপনির্বাচনগুলি সম্পন্ন করে ফেলবে নির্বাচন কমিশন৷

শুক্রবারই উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তীর্থ সিং রাওয়াত৷ তিনিও বিধায়ক ছিলেন না৷ ফলে নিয়ম মতো তাঁকেও বিধায়ক পদে জিতে আসতে হত৷ হাতে সময় ছিল আর দু' মাস মতো৷ কিন্তু উত্তরাখণ্ড বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছে, তার উপরে করোনা পরিস্থিতিতে এই মুহূর্তে উত্তরাখণ্ডে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচন করাবে না৷ আর তা বুঝে গিয়েই তীর্থ সিং রাওয়াতকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দেয় দল৷ তাঁর জায়গায় এ িদন মু্খ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন পুষ্কর সিং ধামি৷ বিরোধীরা অবশ্য বলছেন, তীর্থ সিং রাওয়াতকে মুখ্যমন্ত্রী করেও সরকারের দুর্নীতি, বিতর্ক থেকে মুক্ত হতে পারেনি উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার৷ তাই উপনির্বাচন হবে না, এই দোহাই দিয়ে ভোটের আগে সরকারের ভাবমূর্তি ফেরাতে তীর্থ সিং রাওয়াতকে সরিয়ে দেওয়া হল৷ একই মত তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়েরও৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য বলছেন, কারণ যাই হোক না কেন, উত্তরাখণ্ডে মুখ্যমন্ত্রী বদল করা ছাড়া উপায় ছিল না বিজেপি-র৷ কিন্তু উত্তরাখণ্ডের উদাহরণকে সামনে রেখেই পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবি তুলতে পারে তারা৷

রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, করোনা পরিস্থিতির কারণ দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে উপনির্বাচন করা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারে বিজেপি৷ করোনার কারণে উত্তরাখণ্ডে উপনির্বাচন না হলে পশ্চিমবঙ্গে কেন হবে, নির্বাচন কমিশনের সামনে সেই প্রশ্ন তুলে চাপ দিতে পারে তারা৷ এমনও যুক্তি দেওয়া হতে পারে, মানুষের স্বার্থের কথা ভেবেই উত্তরাখণ্ডে উপনির্বাচনের জন্য কমিশনের উপরে চাপ দেয়নি তারা৷ কারণ কোনওভাবে এ রাজ্যে উপনির্বাচন পিছিয়ে গেলে চাপ বাড়বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের উপরে৷

যদিও বিজেপি শেষ পর্যন্ত সত্যিই এই কৌশল নিলেও তাকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ তৃণমূল৷ দলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় বলেন, 'কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক করোনাকে জাতীয় বিপর্যয় ঘোষণা করা সত্ত্বেও এ রাজ্যে আট দফায় ভোট হয়েছে৷ এখন সেখানে বাংলায় করোনা সংক্রমণের হার ২ শতাংশ৷ ফলে ওই সময় যদি আট দফায় ভোট হতে পারে, তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে এ রাজ্যে নির্বাচন করতে কোনও বাধা নেই বলেই আমরা মনে করি৷ মুখ্যমন্ত্রীকে ছ' মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে, এখনও তার জন্য পর্যাপ্ত সময় রয়েছে৷ আমাদের আশা, নির্বাচন কমিশন তার আগেই রাজ্যে উপনির্বাচন করাবে৷'

এই ইস্যুতে রাজ্য সরকার এবং শাসক দলের উপরে চাপ বাড়িয়েছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও৷ তাঁর দাবি পুরভোট না করিয়ে কেন উপনির্বাচনের উপরে এত জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার? তাঁর কথায়, 'পিছনের দরজা দিয়ে পুরসভাগুলির ক্ষমতা দখল করে রেখেছে শাসক দল৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সুবিধার কথা ভেবে উপনির্বাচনের কথা বলছেন৷ কিন্তু পুরভোট করানোর বিষয়ে কেন তিনি উদ্যোগী হচ্ছেন না?' বিজেপি নেতা অনুপম হাজরাও এ দিন তীর্থ সিং রাওয়াতের উদাহরণ দিয়ে একটি ট্যুইট করেন৷ সেখানেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করেই শাসক দলকে বিঁধেছেন তিনি৷

তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তরাখণ্ড বিধানসভার মেয়াদ প্রায় শেষের মুখে৷ সামনের বছরের শুরুতেই সেখানে ভোট৷ মেয়াদ ফুরিয়ে আসা বিধানসভায় সাধারণত উপনির্বাচন করায় না নির্বাচন কমিশন৷ কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো৷ তাই উত্তরাখণ্ডের সঙ্গে এ রাজ্যকে গুলিয়ে ফেলাটা ঠিক হবে না৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published: