তৃণমূলত্যাগী বিশ্বজিতের সঙ্গে সাক্ষাতে কী কথা হল মমতার, শুভেন্দু যা বললেন...

তৃণমূলত্যাগী বিশ্বজিতের সঙ্গে সাক্ষাতে কী কথা হল মমতার, শুভেন্দু যা বললেন...
বিনেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি।

বিজেপি থেকে কি তৃণমূলে ফিরছেন দুই দলত্যাগী বিধায়ক? সোমবার বিধানসভার ঘটনাক্রম থেকে তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যাওয়া দুই বিধায়ক সুনীল সিং এবং বিশ্বজিৎ দাসকে নিয়ে এই জল্পনা ছড়িয়েছে৷

  • Share this:

    #কলকাতা: বিজেপি থেকে কি তৃণমূলে ফিরছেন দুই দলত্যাগী বিধায়ক? সোমবার বিধানসভার ঘটনাক্রম থেকে তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে যাওয়া দুই বিধায়ক সুনীল সিং এবং বিশ্বজিৎ দাসকে নিয়ে এই জল্পনা ছড়িয়েছে৷ কারণ উত্তর চব্বিশ পরগণার দুই বিধায়কই এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে দেখা করে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন৷

    বিশ্বজিৎ দাস বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক৷ সুনীল সিং নোয়াপাড়ার বিধায়ক৷ এ দিন বিধানসভায় প্রথমে বিশ্বজিতের সঙ্গে দেখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর৷ তাঁকে দেখেই মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন করেন, 'কেমন আছো?' সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রীকে প্রণাম করেন বিশ্বজিৎ৷ কিছুক্ষণের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যান তিনি৷ বিশ্বজিতের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যান সুনীল সিং-ও৷ প্রায় বাইশ মিনিট মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা৷ এর পরই দুই বিধায়কের 'ঘর ওয়াপসির' সম্ভাবনা জোরাল হয়েছে৷ এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বজিতের সাক্ষাতের পরে মমতাকে বিঁধেছেন তৃণমূলত্যাগী নব্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, "বিশ্বজিৎ কে বলছেন, কিরে বিশ্বজিৎ ডিসিশন নিলি?  বিজেপিতে যাঁরা যাচ্ছে সবাই খারাপ, তাঁদের আর দলে নেওয়া হবে না, আর এখন বিজেপির  লোকদের দিকে হাত বাড়াতে হচ্ছে?"

    শুভেন্দু বলেন, "এখন সব ভোট বিজেপির দিকে যাচ্ছে, তাই বিজেপির মধ্যে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা করছে।" এ দিকে দলে থেকে কাজের সুযোগ নেই বলা প্রাক্তন পরিবহন মন্ত্রীর দাবি, "প্রতিদিন বিজেপি কাজের সুযোগ দিছে। তৃণমূলের প্রথম নীতি পরিবার ও ব্যক্তি স্বার্থ। দ্বিতীয় দল আর তৃতীয় নাই বললাম। আর বিজেপি প্রধান নীতি দেশ, দ্বিতীয় দল, তৃতীয় ব্যক্তির নেতৃত্বের অবদান।" শুভেন্দু বলেন, "আমার ৪৫  দিন হয়েছে বিজেপিতে। বিজেপিকে নিজের পার্টি করতে হবে। প্রকৃত সেবক হিসাবে নিজেকে তুলে ধরতে হবে। "


    অন্যদিকে, শুভেন্দুর মতোই একই সুর তৃণমূলত্যাগী বিজেপি নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেন, "এতো বড়ো পরিবারে মধ্যে এসে যে সম্মান পেয়েছি তাতে অভিনন্দন জানাই। ঝুঁকি আমরা নিয়েছি। কিন্তু কেন নিয়েছি? কারণ আমরা যে কাজ বাংলার জন্য করতে চাই, সেটা বাস্তবায়িত করার জন্য এসেছি। আমি চাই আগামী দিনে সত্যি কারের বাংলা তৈরী হোক। কেন্দ্রের সহযোগিতা থাকলে তবেই উন্নয়ন হবে।" রাজীব আরও বলেন, "আমাদের মধ্যে মানসিকতা নেই। ব্যক্তি স্বার্থ নয়, রাজ্যের স্বার্থে ভাবতে হবে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে, মানুষের জন্য কাজ করব। কালো পতাকা দেখাক, ঢিল ছুঁড়ুক, কুৎসা করুক। ফ্রাস্ট্রেশান থেকে করছে। আগামী দিনে কেন্দ্র-রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকলে সুবিধা হবে।" প্রত্যয়ী রাজীবের কথায়, "২০২১ নির্বাচনে বিজেপি আসছে। দরকারে রাজনীতি ছাড়ব। তাও  বেকার যুবকদের, শ্রমিক-কৃষকদের জন্য কাজ করব।"

    Published by:Shubhagata Dey
    First published: