• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ``গুরুত্বপূর্ণ' শোভনকেই নিমন্ত্রণ, আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি', বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে বললেন বৈশাখী

``গুরুত্বপূর্ণ' শোভনকেই নিমন্ত্রণ, আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি', বিজয়া সম্মিলনীতে যোগ না দেওয়া প্রসঙ্গে বললেন বৈশাখী

রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা বৈশাখীর। কলেজ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে জগদীপ ধনখড়ের কাছে নালিশ জানিয়েছেন বৈশাখী। পালটা তোপ ফিরহাদেরও।

রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বিজেপি নেতা বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে ফিরহাদ হাকিমকে নিশানা বৈশাখীর। কলেজ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে জগদীপ ধনখড়ের কাছে নালিশ জানিয়েছেন বৈশাখী। পালটা তোপ ফিরহাদেরও।

বিজেপিতে গুরুত্ব বাড়ছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চলেছেন বৈশাখীও ৷ অন্তত শুক্রবার রাতে অরবিন্দ মেননদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সম্ভাবনাটাই জোরালো হচ্ছিল ৷ কিন্তু বিজয়া সম্মিলনীর আমন্ত্রণ ঘিরে ফের ছন্দপতন ৷ আসলে কী হয়েছিল স্পষ্ট জানালেন বৈশাখী

  • Share this:

    #কলকাতা: ফের বিজেপির সঙ্গে বৈশাখী ইস্যুতে মন কষাকষি শোভনের ৷ বিজয়া সম্মিলনী ঘিরে ফের গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে সম্পর্কের তাল কাটল এই দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জুটির ৷ শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ মানুষেরা নিমন্ত্রিত, এই বার্তা নিয়ে বিজয়া সম্মিলনীর আমন্ত্রণ পৌঁছেছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কাছে ৷ প্রথমে ডাক পাননি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এমন বিভাজনে অসন্তুষ্ট শোভন চট্টোপাধ্যায়ও বিজয়া সম্মিলনীতে উপস্থিত না থাকা সিদ্ধান্ত নেন ৷

    বিজেপিতে গুরুত্ব বাড়ছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে চলেছেন বৈশাখীও ৷ অন্তত শুক্রবার রাতে অরবিন্দ মেননদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সম্ভাবনাটাই জোরালো হচ্ছিল ৷ কিন্তু বিজয়া সম্মিলনীর আমন্ত্রণ ঘিরে ফের ছন্দপতন ৷ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শনিবার বিজেপির সাংস্কৃতিক সেলের তরফ থেকে ফোন আসে তাঁর কাছে ৷ ফোনে বিজয়া সম্মিলনীতে আমন্ত্রণ জানানো হয় শুধুমাত্র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে ৷ একইসঙ্গে উল্লেখ করা হয় দলে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরই বিজয়া সম্মিলনীতে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে ৷ ক্ষুব্ধ বৈশাখীর কথায়, ‘আমার ফোনে ফোন এলেও আমন্ত্রণ আসে শুধুমাত্র শোভনবাবুর জন্য, অতএব আমার বিজয়া সম্মিলনীতে যাওয়ার প্রশ্নই নেই ৷’

    বিজেপির তরফে যদিও জানানো হয় শোভন-বৈশাখী দুজনকেই নিমন্ত্রণ করা হয়েছে ৷ পরে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিমন্ত্রণ করা হয় ৷ এ প্রসঙ্গে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘ওদের দুজনকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ৷ আমি নিজে ফোন করেছি ৷ ফোন বন্ধ ছিল ৷’

    পরে আমন্ত্রণের প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আহ্বায়ক সুমন বন্দ্যোপাধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরই শুধুমাত্র আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এই উল্লেখ করে শুধুমাত্র শোভনবাবুকেই নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন ৷ পরে অনেক রাতে যদিও আমাকে তিনি একটি মেসেজ পাঠান ৷ যাতে লেখা ছিল-আপনি আসলেও খুশি হব ৷ কিন্তু একবার গুরুত্বহীন বলে দেওয়ার পর মেসেজটিকে গুরুত্ব দিতে আমি নারাজ ৷’ বৈশাখী নিমন্ত্রণ না পাওয়ায় বিজয়া সম্মিলনীতে যাবেন না বলে জানিয়ে দেন শোভনও ৷ শোভন-বৈশাখী ঘনিষ্ঠদেরও প্রশ্ন, এ কেমন ব্যবহার! দুজনে রাজ্য বিজেপি কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও একজন নিমন্ত্রণ পেলেও আরেকজনকে ডাকা হল না কেন?

    শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সক্রিয় করার চেষ্টায় বিজেপি নেতৃত্ব শুক্রবার গিয়েছিলেন তাঁর গোলপার্কের ফ্ল্যাটে। ওই দিন রাতেই শোভন চট্টোপাধ্যায়, বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে যান বিজেপির কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন এবং রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ( সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী। ভাই ফোঁটার পর শুক্রবার রাতে অরবিন্দ মেননরা যাওয়ায় তাদেরকে উপহার তুলে দেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই সক্রিয় ভাবে দেখা যায়নি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে। বরং রাজ্য বিজেপি নেতাদের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনকি সেই ক্ষোভের কথা পৌঁছে গিয়েছিল অমিত শাহ পর্যন্ত।

    এরপরে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অমিতাভ চক্রবর্তী দায়িত্ব নেওয়ার পর পরেই কার্যত হাওয়া ঘুরতে থাকে। দায়িত্ব নেওয়ার পরে তিনি বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলেই জানা গিয়েছিল। এমনকি কলকাতায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যখন এসেছিলেন তখন শোভন-বৈশাখী সঙ্গে দেখা করিয়ে দেওয়ার হিসেবে মূল কাজটি করেছিলেন অমিতাভ চক্রবর্তী বলেই সূত্রের খবর। সেই বৈঠকে অমিত সাহার কাছে বেশ কিছু খবর জানানো হয় শোভন-বৈশাখী তরফে বলেই জানা গেছিল। যদিও সেই বৈঠকের পরেরদিন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ হয়েছে। কিন্তু ফের বিজয়া সম্মিলনী ঘিরে রাজ্য বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কের তাল কাটল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ৷

    তবে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘যারা বিজেপির প্রকৃত নেতা তারা শোভনবাবুকে যতটা সম্মান করেন, সেই ব্যবহার আমিও পেয়েছি ৷ আমি বলতে পারি না তাদের আমার প্রতি কোনও আন্তরিকতার অভাব আছে ৷ তবে এই বিভাজনের যারা অপচেষ্টা করছেন তারা কী ভাবলেন কী বললেন তাতে আমি পাত্তা দিতে নারাজ ৷ তাদের চেষ্টা সফল হবে না এটুকু বলতে পারি ৷’

    Somraj Bandopadhayay

    Published by:Elina Datta
    First published: