• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • BJP ADMIT IN PARTY FINDINGS THAT WORKERS WHO JOINED FROM TMC ARE MORE ACTIVE IN BENGAL DMG

BJP|Bengal: আদি কর্মীরা নিষ্ক্রিয়, তৃণমূল থেকে আসা নব্যরাই এখন বিজেপি-র ভরসা! স্বীকার সাংগঠনিক রিপোর্টে

বাংলায় সংগঠন রক্ষাই চ্যালেঞ্জ বিজেপি-র৷

মঙ্গলবার থেকে কলকাতায় বিজেপি-র হেস্টিংস অফিসে দু' দিনের সাংগঠনিক বৈঠক শুরু হয়েছে৷ সেই বৈঠকেই রাজ্যে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলাগুলিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়৷

  • Share this:

#কলকাতা: আদি বিজেপি নয়৷ বরং বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও তৃণমূল থেকে যোগ দেওয়া যে নেতা, কর্মীরা পদ্ম শিবিরে থেকে গিয়েছেন, তাঁরাই এখন বেশি সক্রিয়৷ বিজেপি-র দু' দিনের সাংগঠনিক বৈঠকে বিভিন্ন জোন থেকে জমা পড়া রিপোর্টেই এই তথ্য স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে৷ দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা শিব প্রকাশের সামনেই স্পষ্ট হয়ে গেল, রাজ্যে সংগঠনে ভাঙন আটকানো এখন বিজেপি-র কাছে কঠিন চ্যালেঞ্জ৷

মঙ্গলবার থেকে কলকাতায় বিজেপি-র হেস্টিংস অফিসে দু' দিনের সাংগঠনিক বৈঠক শুরু হয়েছে৷ সেই বৈঠকেই রাজ্যে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলাগুলিকে রিপোর্ট দিতে বলা হয়৷ মূলত দু'টি বিষয়ের উত্তর চেয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব৷ প্রথমত জানতে চাওয়া হয়েছিল, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পর্যন্ত তৃণমূল থেকে যাঁরা বিজেপি-তে এসছিলেন তাঁদের বর্তমান অবস্থা৷ তাঁরা কি আদৌ দলে আছেন নাকি তৃণমূলে ফিরে গিয়েছেন৷ নাকি বিজেপি-র হারের পর তাঁরা নিষ্ক্রিয়৷ দ্বিতীয়ত, জানতে চাওয়া হয়েছিল, দলের আদি না নব্য নেতা কর্মীরা এই মুহূর্তে বেশি সক্রিয়?

আজ দ্বিতীয় দিনের বৈঠকের প্রথমার্ধে উত্তর চব্বিশ পরগণার বারাসত, ব্যারাকপুর, বসিরহাট এবং বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তরফে নিজেদের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়৷ সেই রিপোর্টেই স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, প্রত্যাশিত ভাবেই বিজেপি ক্ষমতায় আসবে ভেবে যাঁরা দলে এসেছিলেন, তাঁরা এখন তৃণমূলে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন৷ তবে তৃণমূল সবাইকে ফিরিয়ে না নেওয়ায় অনেকেই শ্যাম কূল দুই রেখে চলার নীতি নিয়েছেন৷ বিশেষত যে এলাকাগুলিতে বিজেপি হেরেছে, সেখানে তৃণমূলে ফেরার প্রবণতা তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি৷ এমন কি, ব্যারাকপুরে অর্জুন সিং-এর মতো দাপুটে নেতার এলাকাতেও ভাঙন আটকানো যাচ্ছে না৷

একই সঙ্গে সাংগঠনিক জেলাগুলির রিপোর্টে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, তৃণমূলের সন্ত্রাসের ভয়ই হোক বা মান- অভিমানের কারণেই হোক, দলের পুরনো কর্মীদের একটা বড় অংশই বসে গিয়েছেন৷ এদের মধ্যে অনেকেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলে গুরুত্ব না পেয়ে এবং তৃণমূল থেকে আসা নেতা, কর্মীদের দাপটে কোণঠাসা হয়ে দলের উপরে ক্ষুব্ধ ছিলেন৷ ফলে দলের খারাপ সময়ে এখন সেই কর্মীরা সেভাবে সক্রিয় হতে নারাজ৷ আর বাকিরা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে মাঠে নেমে তৃণমূলের মোকাবিলা করার সাহস দেখাতে পারছেন না৷

বিজেপি-র সাংগঠনিক বৈঠকে দিলীপ ঘোষ সহ অন্যান্য নেতারা৷ 

এই কারণেই দলের একাধিক সাংগঠনিক জেলার রিপোর্টে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে, তৃণমূল থেকে আসা যে নেতা-কর্মীরা মন দিয়ে বিজেপি করছেন, তাঁরাই এখন পুরনো কর্মীদের থেকে বেশি সক্রিয়৷ বিজেপি নেতারা বলছেন, দীর্ঘদিন যাঁরা তৃণমূলে ছিলেন, তাঁদের বাম আমলে বিরোধী আসনে থেকে শাসক শিবিরের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতে গিয়ে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতা রয়েছে৷ ফলে তৃণমূলের দাপটেও বিজেপি-র হয়ে ময়দানে নামতে ভয় পাচ্ছেন না তাঁরা৷ তৃণমূলের সঙ্গে যুঝতে এই কারণেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের আগল খুলে দিয়েছিল বিজেপি৷ লক্ষ্য ছিল তৃণমূলের সঙ্গে মাঠে, ময়দানে সমান তালে মোকাবিলা করে দলকে ক্ষমতায় আনা৷ সেই লক্ষ্যপূরণ না হলেও ভোটের পরেও দলে থেকে যাওয়া তৃণমূল থেকে আসা নেতা, কর্মীরাই এখন বিজেপি-র বড় ভরসা৷

যদিও তৃণমূল থেকে আসা এই কর্মীদের কতদিন ধরে রাখা যাবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বিজেপি নেতৃত্বের৷ সেই কারণেই শিব প্রকাশের মতো কেন্দ্রীয় নেতা বার বার দলের পুরনো কর্মীদের সক্রিয় করার পরামর্শ দিয়েছেন৷

দু' দিনের এই সাংগঠনিক বৈঠকে অবশ্য উত্তরবঙ্গ এবং নদিয়ার সাংগঠনিক জেলাগুলিকে বাদ দেওয়া হয়েছিল৷ কারণ তুলনামূলক ভাবে ওই এলাকাগুলিতেই বিধানসভা ভোটে ভাল ফল করেছে৷ যেহেতু সাংগঠনিক বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য দলের ড্যামেজ কন্ট্রোল করার, তাই মূলত দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিকেই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published: