সরাসরি তোপ শান্তনুকে, দ্রুত দূরত্ব বাড়াচ্ছেন বিশ্বজিৎ, তাহলে তৃণমূলেই?

সরাসরি তোপ শান্তনুকে, দ্রুত দূরত্ব বাড়াচ্ছেন বিশ্বজিৎ, তাহলে তৃণমূলেই?
বিজেপিতে বেসুরো বিশ্বজিৎ দাস

এ দিন তো বিশ্বজিৎ বলেই ফেললেন, শান্তনু ঠাকুর নাকি মতুয়া ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপিকে ব্ল্যাকমেল করছে।

  • Share this:

    #কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে  দেখা করার পরই জল্পনা বাড়ছিল। কুশল বিনিময় এবং কাজের কথা, এই বলে এড়িয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ দাস। কিন্তু তাতে দলের সঙ্গে সংঘাত, আরও বিশেষ ভাবে বললে  শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে সংঘাতটা আর চাপা থাকছে না। এ দিন তো বিশ্বজিৎ বলেই ফেললেন, শান্তনু ঠাকুর নাকি মতুয়া ইস্যুকে সামনে রেখে বিজেপিকে ব্ল্যাকমেল করছে।

    শুক্রবার সকালে বিশ্বজিৎ নিজের বড়িতেই একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে সরাসরি শান্তনু ঠাকুরের নাম নিয়ে তিনি বলেন, "দলকে যে ভাবে ব্ল্যাকমেল করছে, তা কোনও সুস্থ  মানুষ মেনে নিতে পারে না।" বিশ্বজিতের ইঙ্গিত মতুয়া সম্প্রদায়কে সামনে রেখে দরকষাকষি করছেন শান্তনু। শান্তনু নাগরিকত্ব নিয়ে গড়িমসি মানতে চাননি, দ্রুত নিষ্পত্তি চেয়েছিলেন। বিশ্বজিৎ তাঁকেই ব্ল্যাকমেইলিং-এর রাজনীতি বলছেন।

    বিশ্বজিৎ এদিন বলেন, "মতুয়া সম্প্রদায়ের কিছু মানুষ আমায় বলেছেন আমরা তো নাগরিক, আমরাই তো ভোট দিয়েছি। আমারা কি অবৈধ? পার্টিকে  ও ব্ল্যাকমেল করছে। দল সবাইকে নিয়ে। দুই বছর অতিক্রান্ত হয়েছে, উনি আমফান করোনার সময়ে মানুষের জন্য কী করেছেন তা সাধারণ মানুষই বলবেন।"


    কিন্তু শান্তনুর সঙ্গে বিশ্বজিতের বিরোধটা কোথায়? অভিযোগ শান্তনুর ঘরের মাঠে গত বৃহস্পতিবারের শাহী সভায় ডাক পেলেও মঞ্চে উঠতে দেওয়া হয়নি তাঁকে।  রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শান্তনু শুধু সাংসদ পদে আসীন হয়েই থাকার পাত্র নন।  তিনি সাংঠনিক ক্ষমতায়নও চেয়ে এসেছেন দলে। ফলে আগামী বিধানসভা ভোটে বিশ্বজিৎ তাঁর এলাকায় টিকিট পাবেন কিনা পাবেন না, তা অনেকটাই শান্তনুর হাতে। এদিকে মুকুলপন্থী বিশ্বজিতের সঙ্গে শান্তনুর দূরত্ব রয়েছে। বলা ভালো, বেশ কয়েক দিন কাটলেও বিজেপিতে তিনি সম্পৃক্ত হতে পারেননি। রাজনৈতিক মহলের ব্য়খা, সব মিলিয়ে দল টিকিট না দিলে কেরিয়ার প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়বে, এই আশঙ্কাতেই এখন সুর চড়াচ্ছেন বিশ্বজিৎ। নাম করে আক্রমণ করছেন শান্তনু ঠাকুরকে।

    অমিত শাহ বৃহস্পতিবার ঠাকুরনগরে বলে যান, টিকাকরণ মিটলেই নাগরিকত্ব মিলবে।  বিশ্বজিতের কথার নির্যাস, অমিত শাহ-সহ দলকে এই আশ্বাস দিতে বাধ্য করছেন শান্তনুই মতুয়াদের সামনে রেখে। উল্লেখ্য শাহর এই প্রতিশ্রুতি, নতুন বোতলে পুরনো মদ প্রবাদটির মতো। কারণ এ কথা তিনি আগেও বলেছেন, মতুয়া সমাজের বড় অংশ আশা করেছিল অমিত শাহ এদিন নাগরিকত্ব দেওয়ার দিনক্ষণ না জানানোয় মতুয়ামহলে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হওয়ারও সম্ভবনা দেখছে ওয়াকিবহাল মহল। জল্পনায় ঘি ঢালছে বিশ্বজিতের মন্তব্য। তিনি এদিন বলেন, "টিকাকরণ তো পাঁচ বছর পর শেষ হবে। কী  জবাব দেবেন শান্তনু?

    তাহলে কি তৃণমূলেই? বিশ্বজিৎ বলছেন সময় বলবে। ওয়াকিবহাল মহল, এই মৌনভাবকেই সম্মতিসূচক ধরে নিচ্ছেন।

    Published by:Arka Deb
    First published: