পাখিরা উড়বে মুক্ত আকাশে, বন্দীদশা আতঙ্ক জাগাতে ইকো পার্কে বসল অতিকায় খাঁচা!

পাখিরা উড়বে মুক্ত আকাশে, বন্দীদশা আতঙ্ক জাগাতে ইকো পার্কে বসল অতিকায় খাঁচা!

প্রতীকী চিত্র ।

বন্য পাখিরা আকাশেই বেশি ভালো থাকে, তাদের খাঁচায় বন্দী করার কোনও মানে হয় না- এই বার্তা প্রকট শিল্পকর্মের মাধ্যমে।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতার ইকো পার্ক এ বার নিল এক অভিনব উদ্যোগ। পাখিরা যখন শিকারিদের জালে ধরা পড়ে, তখন তাদের যে কষ্ট হয় বা তাদের খাঁচায় বন্দী করলে যে তারা মোটেই ভাল থাকে না, এটা সবাই জানে। মূলত এইটা বোঝাতেই এই পার্কে বসল এক অতিকায় খাঁচা। বেশ বড় আকারের এই খাঁচা পার্কের পাখিবিতান অংশে বসানো হয়েছে যাতে এই সচেতনতার প্রচার করা যায়। বন্য পাখিরা আকাশেই বেশি ভাল থাকে, তাদের খাঁচায় বন্দী করার কোনও মানে হয় না- এই বার্তা প্রকটশিল্পকর্মের মাধ্যমে।

এই খাঁচা বসানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও কিছু ভাল উদ্যোগ নিয়েছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। এই দিন খাঁচা বসানোর সময়ে জাল বা খাঁচায় বন্দী পাখিদের উড়িয়ে দেওয়া হয়। এই কাজের মাধ্যমে বলা হয় যে প্রকৃতির সৃষ্ট এই প্রাণীদের খাঁচার ভিতরে মোটেই মানায় না। হিডকোর চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন (Debashis Sen) ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ আমলারা এই বিরল মুহূর্তের সাক্ষী হয়ে রইলেন।

এ ছাড়াও এখানে একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছিল। নেচার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াইল্ড লাইফ সোসাইটির তরফ থেকে আয়োজিত এই কর্মশালায় যোগদান করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। ইকো পার্কে যে সব পাখি থাকে তাদের সম্পর্কে তো বটেই, পাশাপাশি স্থানীয় গাছপালা ও উদ্ভিদ সম্পর্কে এই কর্মশালায় ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞান আহরণ করেন।

যে খাঁচাটি বসানো হয়েছে, সেটির রঙ সোনালি। খাঁচার বাইরে ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় কিছু লাইন লেখা আছে। যার অর্থ হল- আমার আকাশ কেড়ে নিও না, আমায় উড়তে দাও। আবার অন্য একটি লাইনের অর্থ ছিল পাখিদের কোনও খাঁচার প্রয়োজন হয় না। ইকো পার্কে আগত দর্শক ও পর্যটকদের এই খাঁচায় হাত দিতে বা সেটা ধরে নাড়াতে বারণ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

বেশ কিছু বছর হল ইকো পার্কে বাসা বাঁধছে পরিযায়ী পাখিরা। যারা শীতের সময় এই দেশে আসে। রাইনেক (Wryneck), ব্ল্যাক রেডস্টার্ট (Black Redstart), প্লেনটিভ কুকু (Plaintive Cuckoo), সাইবেরিয়ান স্টোন চ্যাট (Siberian Stone chat)-এর মতো পাখিদের এখানে চিহ্নিত করেছেন পক্ষীবিদরা।

২০১২ সালে এই পার্কের উদ্বোধন হয়। এখানে আপাতত দেড়শো প্রজাতির পাখি ছাড়াও বেশ কিছু কচ্ছপও আছে।

First published: