কমলা লেবু থেকে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক! বাঙালি গবেষকের যুগান্তকারী আবিষ্কার

কমলা লেবু থেকে সাপের কামড়ের প্রতিষেধক! বাঙালি গবেষকের যুগান্তকারী আবিষ্কার
কমলালেবু
  • Share this:

ভেঙ্কটেশ্বর লাহিড়ি

#কলকাতা: শীতকাল এলেই কমলালেবুর প্রেমে পড়ে অনেকেই। কমলালেবুর গুনাগুন কিংবা উপকারিতাও আমাদের সকলেরই জানা। কিন্তু এটা কী জানেন যে কমলালেবুর মধ্যে রয়েছে সর্পপ্রতিষেধকের গুণ? অবাক হচ্ছেন ? না, অবাক হওয়ার কিছু নেই । বাঙালি গবেষকের গবেষণায় এমনই তথ্য সামনে এল। এমনই এক গবেষণা করে রাজ্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কংগ্রেসে সেরা বিজ্ঞানীর তকমা অর্জন করেছেন আসানসোলের অধ্যাপক শুভময় পান্ডা।

কমলালেবুর মধ্যে থাকা হেসপেরেটিন কাজে লাগিয়ে অ্যান্টি ভেনম সিরাম বা এভিসের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে প্রতিষেধক তৈরি হতে পারে গেছোবোড়া বা চন্দ্রবোড়ার মতো মারাত্মক বিষধর প্রজাতির সাপের কামড়ের। চন্দ্রবোড়া, গেছোবোড়া বা বাঁশবোড়া সাপের বিষ হিমোটক্সিন প্রকৃতির। কামড়ের সঙ্গে সঙ্গে মানবদেহের টিস্যুগুলিকে দ্রুত ধ্বংস করে দেয়। রক্ত থকথকে জেলির মতো হয়ে যায়। এতে কিডনির কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় দ্রুত। ক্ষতস্থানে ধরে পচন। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এভিএস ইঞ্জেকশন দিলেও তা অধিকাংশ সময়ে খুব একটা কার্যকর হয় না।

এই সাপের বিষের প্রতিষেধকই লুকিয়ে রয়েছে কমলালেবুর মধ্যে। কলকাতায় বেঙ্গল কেমিক্যাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ রাজ্যে ২০০৯ সালের পর থেকে এভিএস তৈরি করা হচ্ছে না। ‘অ্যান্টি ভেনাম সিরাম’ বা এভিএস আনা হচ্ছে তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরমের একটি সংস্থা থেকে। তারা ওখানকার সাপের বিষ থেকে এভিএস তৈরি করছে, যা পশ্চিমবঙ্গে সাপের কামড়ে ঠিকঠাক কাজ করছে না। এ রাজ্যের সাপের বিষ ও তামিলনাড়ুর সাপের বিষের মধ্যে রাসায়নিক দিক থেকে পার্থক্য রয়েছে। তাই এলাকাভিত্তিক এভিএস তৈরি করা দরকার বলে অনেকদিন ধরেই দাবি তুলেছেন গবেষকরা।

শুভময়বাবু বলেন, 'এ রাজ্যে গবেষণা করে এভিএস তৈরি হলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন। কারণ এখনও পর্যন্ত গোটা দেশে সবচেয়ে বেশি সাপের কামড়ে মৃত্যর তালিকায় বাংলা শীর্ষে।'

First published: 11:58:34 PM Dec 16, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर