মনিপুরে বাঙালি ম‍্যানেজার অপহরণে মুক্তিপণ হস্তান্তর হয়েছিল হাওড়ায়

মনিপুরে বাঙালি ম‍্যানেজার অপহরণে মুক্তিপণ হস্তান্তর হয়েছিল হাওড়ায়

মণিপুরে কর্মরত বাঙালি প্রজেক্ট ম্যানেজার অপহরণে মুক্তিপণের টাকা হস্তান্তর হয়েছিল হাওড়াতেই।

  • Share this:

#কলকাতা: মণিপুরে কর্মরত বাঙালি প্রজেক্ট ম্যানেজার অপহরণে মুক্তিপণের টাকা হস্তান্তর হয়েছিল হাওড়াতেই। টাকা হাতে পাওয়ার পর অপহরণকারীরা হাওড়া থেকে ফোন করে মণিপুরে। যেখানে আটকে রাখা হয়েছিল ব্যবসায়ীকে সেখানে ফোন করে জানানো হয় পুরো টাকা হাতে চলে এসেছে। তারপরেই মুক্তি দেওয়া হয় বাঙ্গালী প্রজেক্ট ম্যানেজার অভিজিৎ ধরকে।

শুক্রবার হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা মণিপুরের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের জুলিয়াগরঙ ইউনাইটেড ফ্রন্টের (জেড ইউ এফ) চার সদস্যকে। ধৃতদের জেরা করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ জানতে পেরেছে, অভিজিৎকে অপহরণের পর মুক্তিপণ বাবদ ৪৫ লক্ষ টাকা দাবি করেছিল জঙ্গি সংগঠনটি। অভিজিতের পরিবার অনেক দরাদরির পর শেষমেষ ৩৫ লক্ষ টাকায় তাঁকে মুক্তি দিতে রাজি হয় অপহরণকারীরা। মুক্তিপণের সেই টাকা নিতেই হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায় এসেছিল ওই জঙ্গি সংগঠনের চার সদস্য। সেখান থেকেই তাদের ওই পরিমাণ টাকা সহ গ্রেফতার করা হয়। প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মণিপুরের নোনে জেলায় নির্মাণ সংস্থার প্রজেক্ট ম্যানেজার অভিজিৎ ধরকে অপহরণ করে এই জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা।

জালনোটের এক কারবারিকে গ্রেফতারের সূত্রে এই ঘটনার কিনারা করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। তারপর যে তথ্য সামনে আসে তা যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটের সন্ধান পাওয়ার মতো অবস্থা।

বৃহস্পতিবার ধর্মতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে অসমের এক বাসিন্দাকে দেড় লক্ষ টাকার জাল নোট সহ গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। সেই কারবারিকে জেরা করে জানা যায় হাওড়ার গোলাবাড়ি এলাকায় গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে মণিপুরের জঙ্গি সংগঠন জুলিয়াগরঙ ইউনাইটেড ফ্রন্টের (জেড ইউ এফ) চার সদস্য। যারা হুগলির বাসিন্দা অভিজিৎ ধরের অপহরণের সঙ্গে যুক্ত।

এই তথ্য জানার পর ধৃতকে নিয়ে গোলাবাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালায় এসটিএফ। তাতেই কিনারা হয় ঘটনার। এসটিএফের এক অফিসার বলেন, ''যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা ছাড়াও এদের মাস্টারমাইন্ডরা লুকিয়ে রয়েছে মণিপুরে। আমরা ওখানকার পুলিশের সাহায্য চেয়েছি। জেরা করতে ভাষাগত সমস্যাও হচ্ছে। মণিপুর পুলিশ এসে এদের জেরা করলে আরও তথ্য সামনে আসবে।"

এসটিএফ সূত্রের খবর, জুলিয়াগরঙ ইউনাইটেড ফ্রন্টের (জেড ইউ এফ) নামের জঙ্গি সংগঠনটি সেখানকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার জন্য লড়াই করে বলে দাবি করে। সংগঠন টিকিয়ে রাখা ও বিস্তারের জন্যই অপহরণ ও তোলাবাজির মত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয় তারা।

 SUJOY PAL

First published: March 2, 2020, 4:18 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर