• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • 'লালবাতি' অতীত, 'হেনস্থা' বর্তমান

'লালবাতি' অতীত, 'হেনস্থা' বর্তমান

Photo: News18 Bangla

Photo: News18 Bangla

বারবার হেনস্থার মুখে পড়ছেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা। রেহাই নেই কলকাতা হাইকোর্ট প্রোটোকল নির্ধারিত গাড়িরও।

  • Share this:

    #কলকাতা: বারবার হেনস্থার মুখে পড়ছেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা। রেহাই নেই কলকাতা হাইকোর্ট প্রোটোকল নির্ধারিত গাড়িরও। রাস্তায় নেমে নিজের পরিচয় দিতে হচ্ছে বিচারপতিকে। কিন্তু কেন এই পরিস্থিতি। শুধু শনিবারের নিবেদিতা সেতুর ঘটনাই নয়, একাধিকবার এধরনের ঘটনায় লালবাতির প্রয়োজনীয়তাকেই কি ফের সামনে আনছে ? প্রশ্ন কিন্তু উঠছেই ৷

    গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট প্রোটোকল নির্ধারিত গাড়িতে বিমানবন্দর যাচ্ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র বিচারপতি চেলমেশ্বর। কৈখালির কাছে ভিআইপি রোডে তাঁর গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মারে অন্য একটি গাড়ি। বিচারপতির গাড়িতে 'হাইকোর্ট জাজ' লেখা থাকলেও গাড়ির চালক তা বুঝতেই পারেননি। পরে ওই গাড়ির চালককে হাওড়া থেকে ধরে বাগুইআটি থানার পুলিশ। তাঁকে কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার ভিজিল্যান্সের কাছে পেশ করা হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, কিছুটা ভুল অবশ্যই ছিল, তবে বিচারপতির গাড়িতে লাল বা নীলবাতি না থাকায় সেভাবে সাবধানতা অবলম্বন করেননি তিনি। সেদিন অল্পের জন্য দুর্ঘটনা থেকে বাঁচেন চেলমেশ্বর।

    শনিবার সন্ধেয় বালির নিবেদিতা সেতু টোলপ্লাজায় হেনস্থার শিকার হন হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার। গাড়িতে 'হাইকোর্ট জাজ' লেখা থাকলেও কোনও ভ্রুক্ষেপ করেননি টোলকর্মী। অভিযোগ বিচারপতি ও তাঁর গাড়ির চালককে কটূক্তি করা হয়। বিচারপতি সমাদ্দারের নির্দেশেই ৫ জনকে গ্রেফতার করে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের জরিমানাও করেন বিচারপতি। ২০১৭-র ২০ এপ্রিল অতীত হয়েছে লালবাতি। দু’সপ্তাহে দুটি ঘটনায় লালবাতির প্রয়োজনীয়তাকেই কিন্তু সামেন আনছে ৷

    হাইকোর্টের বিচারপতিদের গাড়ি বারবার হেনস্থার মুখে পড়েছে এরাজ্যে। কিছুদিন আগেই এজেসি বোস উড়ালপুলে অবসরপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রের গাড়িতে ধাক্কা মারে দুটি বাইক। হেনস্থার মুখেও পড়তে হয় তাঁকে। দিন কয়েক আগে বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তর গাড়ির সামনেই সাটল গাড়ি থেকে কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারকে তোলা নিতে দেখেন। ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করেন বিচারপতি করগুপ্ত। মাস দুয়েক আগেও একবার বালির নিবেদিতা সেতুতে টোলকর্মীদের হেনস্থার শিকার হন বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার। সেই সময় অবশ্য বিচারপতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন টোলকর্মীরা।

    লাল বা নীলবাতি নির্দেশিকা ------------------------------------------------ -রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী-সহ কারওরই ফ্ল্যাশারসহ লালবাতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা - দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্সে নীলবাতি ব্যবহারের অনুমতি আছে - বিশেষ কোনও ব্যক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজ্য নীলবাতি ব্যবহারের বিজ্ঞপ্তি দিতে পারে - ভিভিআইপি-র নিরাপত্তায় পুলিশের পাইলট কারে নীলবাতি জ্বলতে পারে

    পরপর বিচারপতিদের হেনস্থা ও অস্বস্তির মুখে পড়ার ঘটনা কি লালবাতির প্রয়োজনীয়তার সপক্ষেই যুক্তি দিচ্ছে? নাকি ট্রাফিক পুুলিশের অদক্ষতা সামনে আসছে। জাতীয় সড়কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এমন অদক্ষ হাতে ট্রাফিক ব্যবস্থা থাকবে কেন? কেন বিচারপতিকে নেমে এসে নিজের পরিচয় দিতে হবে ? কেন নিবেদিতা সেতুর টোলপ্লাজায় ২৪ ঘণ্টা প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ থাকবে না? পরপর ঘটনা থেকে কি শিক্ষা নেবে পুলিশ ? বলবে ভবিষ্যৎ।

    First published: