corona virus btn
corona virus btn
Loading

‌EXCLUSIVE: বাঙালি বিজ্ঞানীদের হাতে করোনা থেকে বাঁচার মন্ত্র ‌‘‌ফেলুদা’‌, দেশেই তৈরি টেস্টিং কিট

‌EXCLUSIVE: বাঙালি বিজ্ঞানীদের হাতে করোনা থেকে বাঁচার মন্ত্র ‌‘‌ফেলুদা’‌, দেশেই তৈরি টেস্টিং কিট

এই পদ্ধতির মাধ্যমে দু’‌ঘণ্টার মধ্যেই টেস্ট করা সম্ভব বলে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে।

  • Share this:

#‌কলকাতা:‌ করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় দুই বাঙালি বিজ্ঞানী নয়া দিশা দেখালেন দেশকে। বিশেষত করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রশ্নে বিদেশের কিটের অভাব দূর করতে দেশীয় প্রযুক্তিতে বানিয়ে ফেলেছেন নতুন ধরনের কিট। বানিয়েছেন দুই বাঙালি বিজ্ঞানী। কম খরচে এবং কম সময়ে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করা সম্ভব হবে এই দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করা কিট এর মাধ্যমে। দেশীয় প্রযুক্তির পুরো নামটি অবশ্য জটিল। বিজ্ঞানের পরিভাষায় এর নাম দেওয়া হয়েছে, Fncas9 Editor Linked Uniform Detectio Assay। তবে যদি এর সংক্ষিপ্ত নামটি ধরা হয় তাহলে সেটি হবে বাঙালির কাছে অত্যন্ত পরিচিত নাম যাকে ফেলুদা (FELUDA)। এই দেশীয় কিট বানিয়েছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ ইনস্টিটিউট অফ জিনোমিক্স এবং ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির বিজ্ঞানী সৌভিক মাইতি এবং দেবজ্যোতি চক্রবর্ত্তী।

এ প্রসঙ্গে দিল্লি থেকে বিজ্ঞানী দেবজ্যোতি চক্রবর্তী News18 বাংলাকে জানাচ্ছেন, ‘‌‌আমাদের দেশে এই মুহূর্তে যত বেশি টেস্ট করা দরকার তত বেশি টেস্ট হচ্ছে না। তাই এই কিটের মাধ্যমে তুলনামূলকভাবে অনেকটা কম সময়ে অনেক বেশি টেস্ট করা সম্ভব।’‌ আরো এক বাঙালি বিজ্ঞানী সৌভিক মাইতি জানাচ্ছেন, ‘‌আমাদের এখানে এই বিদেশী কিটের মাধ্যমে টেস্টিং করতে অনেকটাই সময় লাগছে তাছাড়া প্রশিক্ষিত কর্মদক্ষতা দরকার। তাই এই পদ্ধতি অনেকটাই সহজ সরল এবং আমরা ইতিমধ্যেই রোগীদের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করেছি। অনেকটাই ভাল সাড়া পেয়েছি।’‌

করোনা পরীক্ষার কিটের চাহিদা রয়েছে শুরু থেকেই। ফলে যথেষ্ট পরীক্ষা হচ্ছে না বলে ইতিমধ্যেই অভিযোগে সরব হয়েছেন চিকিৎসক থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা। বিদেশি কিটের মাধ্যমে পরীক্ষায়় যেখানে খরচ প্রায় ৪৫০০ টাকা এবং একদিন সময় লেগে যায় সেখানে এই দেশীয় প্রযুক্তির কিটের মাধ্যমে খরচ হবে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।

এবারে কিভাবে কাজ করবে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই কিট? দুই বাঙালি বিজ্ঞানী জানাচ্ছেন কোভিড ১৯ ভাইরাসে আরএনএ থাকে। প্রথমে সেই আরএনএকে ডিএনএ–তে পরিবর্তন করা হয়। পরবর্তী ধাপে পিসিআর পলিমারেজ চেন রিয়াকশন চেন মেশিনের সাহায্যে একটি ডিএনএ থেকে তারই অসংখ্য কপি (ডিএনএ) তৈরি করা হয়। পরবর্তী ধাপে এর সঙ্গে ক্রিসপার-ক্যাস-৯ বলে ব্যাকটেরিয়া প্রোটিনের লিংক করানো হয়। যা ভাইরাল ডিএনএ কে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে। এরপর এই নমুনা কাগজের স্ট্রিপে ফেলা হয়। নমুনা ফেলার পর এই স্ট্রিপে প্রথমে একটি লাইন ফুটে ওঠে। এতে বোঝা যায় স্ট্রিপটি ঠিকমতো কাজ করছে। এরপর দ্বিতীয় একটি লাইন ফুটে উঠলে বুঝতে হবে সেই নমুনা পজেটিভ। অর্থাৎ যার নমুনা তিনি করোনাতে সংক্রমিত হয়েছেন। স্ট্রিপে দ্বিতীয় লাইন ফুটে না উঠলে সেই ব্যক্তি করোনা সংক্রমিত নন।

এই পদ্ধতির মাধ্যমে দু’‌ঘণ্টার মধ্যেই টেস্ট করা সম্ভব বলে ইতিমধ্যেই প্রাথমিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে। মূলত বিদেশি কিটের জন্য আকারে বড় ও দামি পিসিআর মেশিন লাগে। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন এই পদ্ধতিতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলিতেও পরীক্ষা হতে পারে। কারণ এর জন্য প্রয়োজন ছোট পিসিআর মেশিন। দেবজ্যোতি জানাচ্ছেন ‘‌বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় অনেক প্যাথলজিক্যাল ল্যাব এবং বিভিন্ন স্কুলের এই ধরনের পিসিআর মেশিন থাকে। যার সাহায্যে খুব কম খরচেই এর টেস্ট করা সম্ভব।’‌

ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি অনেক করোনা সংক্রমিত রোগীর উপরে ব্যবহার করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এই দুই বাঙালি বিজ্ঞানী জানাচ্ছেন, ‘‌প্রাথমিকভাবে এই পরীক্ষার ফলাফল খুবই ইতিবাচক। বাণিজ্যিকভাবে আশা করছি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যেই পরীক্ষার পদ্ধতি বাজারে চলে আসবে।’‌ এতে কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নাকি আক্রান্ত নন, সেই পরীক্ষার সংখ্যা দ্রুত অনেকটাই বেড়ে যাবে বলে আশা এই দুই বাঙালি বিজ্ঞানীর।

SOMRAJ BANDOPADHYAY
First published: April 6, 2020, 5:46 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर