রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’-এ সম্মানিত হলেন আশা ভোঁসলে

আশা ভোঁসলে ৷ ছবি: নিউজ এইটিন বাংলা ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: মঙ্গেশকর পরিবারের একটা নিয়ম ছিল ৷ প্রতিটা দিন নিয়ম করে সঙ্গীত চর্চা করতেই হবে ৷ আর চেতনাকে শান দিতে পড়তে হবে বিভিন্ন ধরনের বই ৷ রেওয়াজ তো চলতই নিয়মমাফিক ৷ বাদ ছিল না বই পড়াতেও ৷ একটা সময় বই পড়াটা নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ছোট্ট আশার ৷ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বিভিন্ন বই, রবি ঠাকুরের লেখালেখি হাতের সামনে পেলেই রাত জেগে পড়ে ফেলা হত ৷ একটা সময় বাঙালি লেখকদের লেখা পড়তে পড়তে বাংলার প্রতি আগ্রহ বেড়ে গিয়েছিল অনেকটাই ৷

    বাংলার মানুষরা কেমন হন ? কী করে তাঁরা দুধের সঙ্গে মাছও খান ? তাঁদের হাঁটা-চলা থেকে শুরু করে পোশাক পরার ধরন সব নিয়ে কতই না কৌতুহল ৷ এ সব জানার আশা ভোঁসলের ইচ্ছে ছিল খুবই ৷ প্রচন্ডভাবে চাইছিলেন একবার বাংলায় আসতে ৷ সালটা ১৯৫২ ৷ অনিল বিশ্বাস আর হেমন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে এক অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে কলকাতায় আসা ৷ সে সময়ের কলকাতা আর এখনকার কলকাতার মধ্যে অনেক ফারাক ৷ সেই সময় এসে উঠেছিলেন কলকাতার গ্র্যান্ড হোটেলে ৷ তবে প্রথমবারের কলকাতা সফরে বড়ই নিজের মনে হয়েছিল শহরটাকে ৷ নিজের বাড়িতে থাকলে যেমন একটা ঘরোয়া ছাপ, তেমন ছাপই ছিল বাংলার মানুষগুলোর চোখেমুখে ৷ ১৯৫৮ সালের দুর্গাপুজোয় প্রথম বাংলা গান গাইলেন এই কিংবদন্তি গায়িকা ৷ গান প্রকাশ হতে না হতেই সুপারহিট ৷ এরপর বাংলা ভাষায় তিনি কত যে গান গেয়েছেন তার হিসেব রাখাটা বেশ কঠিন ৷ তবে, তিনি বরাবরই বলে এসেছেন দেশের ২০টি ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন ৷ গেয়েছেন বিদেশি ভাষার গানও ৷ তবুও তাঁর গাওয়া বাংলা গানগুলো তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের ৷ এমনকী রবি ঠাকুরের গানও গেয়েছেন তিনি ৷

     ২১মে ২০১৮, নজরুল মঞ্চ তখন চাঁদের হাট ৷ মঞ্চে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ এছাড়া কৃতি মানুষজন ৷ তাঁদেরকে বঙ্গবিভূষণ, বঙ্গভূষণ সম্মাননায় সম্মানিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ এরপর অনুরোধ এল আশাজি কাছে ৷ ‘একটু কিছু বলুন প্লিজ’৷ পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ সম্মান পেয়ে সেই সব স্মূতিগুলোয় ভিড় করে আসছিল ৷ নস্ট্যালজিক আশা ভোঁসলে অনর্গল সেই সব কথা বলে চলেছেন তখন ৷ জানালেন, বঙ্গবিভৃষণ পেয়ে তিনি আপ্লুত ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে দু’কলি গানও শোনালেন তিনি ৷ গাইলেন ‘যেতে দাও আমায় ডেকো না ...’’

    First published: