• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • BABUL SUPRIYO FAILED TO OVERCOME POLITICAL CHALLENGES CREATED BY HIS OWN PARTY BJP DMG

Babul Supriyo Resignation: ব্যর্থতার স্বাদ জানতেন গায়ক বাবুল, রাজনীতিতে শুরু থেকে সাফল্যেই ধৈর্য হারালেন 'সেলিব্রিটি সাংসদ'?

বাবুল সুপ্রিয়৷

বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে রাজনীতিক বাবুলের জন্য একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতি অপেক্ষা করে ছিল৷ তা যতটা না বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ, তার থেকেও বেশি নিজের দলের তৈরি করে দেওয়া (Babul Supriyo Resignation)৷

  • Share this:

#কলকাতা: কেন হঠাৎ রাজনীতিতে মোহভঙ্গ হল বাবুল সুপ্রিয়র? বিজেপি-র অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, নানা কারণেই অনেকদিন ধরে বাবুলের মনে ক্ষোভ জমছিল৷ কিন্তু ক্ষোভে সম্ভবত প্রলেপ দিচ্ছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব৷ কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে হার এবং তার উপরে মন্ত্রিত্ব হারানোর ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি সেলিব্রিটি থেকে রাজনীতিক হওয়া বাবুল সুপ্রিয়৷ এ দিন নিজের ফেসবুক পোস্টেও বাবুল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মন্ত্রিত্ব হারানোর ধাক্কা তাঁর রাজনীতি ত্যাগের অন্যতম কারণ৷

বিজেপি-র অন্দরের খবর, বিধানসভা নির্বাচনে অনেকটা ইচ্ছের বিরুদ্ধেই প্রার্থী হতে হয় তাঁকে৷ দু' বারের সাংসদ বাবুল মন থেকে এই সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি৷ কিন্তু যেহেতু এই সিদ্ধান্তের পিছনে নরেন্দ্র মোদি- অমিত শাহের অনুমোদন ছিল, তাই বাবুলের আপত্তি করেও লাভ হত না বুঝেই মাঠে নেমে পড়েন বাবুল৷ তার উপরে টালিগঞ্জের মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে প্রার্থী করা হয় তাঁকে৷ শেষ পর্যন্ত পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় আসানসোলের সাংসদকে৷

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং দু' বারের সাংসদ হিসেবে হারের ধাক্কা হজম করা এমনিতেই কঠিন ছিল৷ এর উপর কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিঁটের মতো বাবুলকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়৷ সবমিলিয়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায়, যেন ভোটে হারার শাস্তিই পেতে হল তাঁকে৷ ভোটে দাঁড়ানো, লজ্জার পরাজয় মেনে নিলেও মন্ত্রিত্ব হারানোর সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি বাবুল৷ ঘনিষ্ঠ মহলে তখনই রাজনীতি ত্যাগের ইচ্ছা জানিয়ে দিয়েছিলেন তিনি৷

বাবুলের ঘনিষ্ঠ মহল অবশ্য বলছে, গায়ক বাবুলের উত্থান ঘটেছিল বলিউডে দীর্ঘ দিন লড়াই করে৷ ফলে সাফল্য আর ব্যর্থতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে শিখেছিলেন তিনি৷ কিন্তু রাজনীতিক বাবুলের উত্থান রকেট গতিতে৷ শুরু থেকেই একের পর সাফল্য পেয়ে এসেছেন তিনি৷ ২০১৪ সালে ভোটে জিতেই মন্ত্রিত্ব, তাও আবার নগরোন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের প্রতি মন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন তিনি৷ কলকাতায় ইস্ট ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের কাজ দেখাশোনার গুরুদায়িত্বও তাঁকে সপেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এর পর ২০১৯ সালে ফের ভোটে জিতে মন্ত্রী হন বাবুল৷ রাজ্য রাজনীতিতেও গুরুত্ব বাড়ে তাঁর৷ ফলে রাজনীতিক বাবুল নির্বাচনে ব্যর্থতার স্বাদ যেমন পাননি, রাজনীতির জটিল অঙ্কে পদস্খলনের অভিজ্ঞতাও হয়নি তাঁর৷

কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের আগে থেকে রাজনীতিক বাবুলের জন্য একের পর এক প্রতিকূল পরিস্থিতি অপেক্ষা করে ছিল৷ তা যতটা না বিরোধী দলের চ্যালেঞ্জ, তার থেকেও বেশি নিজের দলের তৈরি করে দেওয়া৷ দলীয় রাজনীতির সেই জটিল পাক থেকেই বেরিয়ে আসার ধৈর্য দেখাতে পারলেন না বাবুল সুপ্রিয়৷ এমনটাই ব্যাখ্যা করছে রাজনৈতিক মহল৷ অন্য জগৎ থেকে অধিকাংশ সফল ব্যক্তিত্বেরই রাজনীতির এই সাপ লুডো খেলার ধৈর্য থাকে না বলেই বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা৷

বিজেপি-তে বাবুলের বিপক্ষ এবং ঘনিষ্ঠ মহলের সঙ্গে কথা বলে যে সারমর্ম উঠে আসছে, তাতে পরিষ্কার রাজ্য বিজেপি-তে বাবুলের অভিজ্ঞতা কখনওই সুখকর ছিল না৷ যার মূল কারণ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তাঁর সংঘাত৷ বাবুলের সঙ্গে বার বারই প্রকাশ্যে কথার লড়াইয়ে জড়িয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি৷ প্রকাশ্যেই কটাক্ষও করেছেন তাঁকে৷ বাবুল ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, দিলীপের কথায় আসানসোলের সাংসদকে নিয়ে বার বারই তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ধরা পড়েছে সংবাদমাধ্যমে৷ এমন কি, এ দিন বাবুলের রাজনীতি ত্যাগের খবর প্রকাশ্যে আসার পরেও একই মনোভাব দেখিয়েছেন দিলীপ৷

বাবুল ঘনিষ্ঠরা বলছেন, আসানসোলে বাবুল বা বিজেপি-র জয়ের অন্যতম মূল কারণ বিপুল সংখ্যক অবাঙালি ভোট৷ আসানসোলের যোগগুরু রাম দেবের ভক্তও প্রচুর৷ বাবুল নিজেও রাম দেবের প্রতি তাঁর আস্থার কথা বার বার প্রকাশ্যেই বলেছেন৷ তাছাড়া খনি অঞ্চল হওয়ায় আসানসোলের ব্যবসায়িক মহলও বরাবরই কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গেই সুসম্পর্ক রেখে চলে৷ এ হেন আসানসোলেই বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী করা হয় দিলীপ ঘোষ শিবিরের নেত্রী হিসেবে পরিচিত অগ্নিমিত্রা পালকে৷ ঘটনাচক্রে তিনি জিতেও যান৷ বাবুল ঘনিষ্ঠ শিবিরের অভিযোগ, আসলে তাঁর খাসতালুক আসানসোলের বাবুলকে আরও কোণঠাসা করতেই অগ্নিমিত্রাকে প্রার্থী করেছিল দিলীপ ঘোষ শিবির৷ একা অগ্নিমিত্রা পাল নন, পশ্চিম বর্ধমানের বিজেপি জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘড়ুইও এবার ভোটে জিতেছেন৷ তাঁর সঙ্গেও বাবুলের সম্পর্ক একেবারেই ভাল ছিল না বলে খবর৷

বিজেপি-তে আরএসএস-এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই৷ কিন্তু আসানসোল হোক বা রাজ্য স্তরে, দলীয় অনুশাসনকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়ে বাবুলের স্বতন্ত্র সত্ত্বা নিয়ে বরাবরই আপত্তি ছিল আরএসএস-এর৷ এ নিয়ে রাজ্য থেকে দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও বার বার অভিযোগ গিয়েছে৷ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও আরএসএস ঘনিষ্ঠ৷ কিন্তু পর পর দু'টি নির্বাচনে সাফল্য এবং মোদি-শাহের সুনজরে থাকায় এতদিন সেই সমস্ত অভিযোগ বাবুলের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়নি৷ কিন্তু ২০১৯-এ রাজ্যে দিলীপ ঘোষের নেতৃত্বে বিজেপি-র সাফল্যের পরই ধীরে ধীরে ছবিটা বদলাতে থাকে৷ ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকেন বাবুল৷

আসানসোলের সাংসদের ঘনিষ্ঠরা অবশ্য পাল্টা বলছেন, বাবুল রাজনীতি করে উঠে আসা মানুষ নন৷ ফলে দলের আর পাঁচজন নেতার মতো তাঁর থেকে রাজনৈতিক পরিণিতি বা অনুশাসন আশা করাটা অন্যায়৷ বাবুলের সেলিব্রিটি সত্তা জেনেই তাঁকে দলে নিয়েছিল বিজেপি৷ ফলে এখন তা নিয়ে অভিযোগ করা উচিত নয়৷

বিজেপি শিবিরের অন্দরের খবর, বাবুল দু' বারের সাংসদ৷ রাজ্যে দলের ভিত আরও মজবুত করতেই নতুন প্রজন্মের নেতাদের সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে৷ সেই কারণেই নিশীথ প্রামাণিক, শান্তনু ঠাকুরের মতো তরুণ মুখদের মন্ত্রিসভায় জায়গা করে দেওয়া হয়েছে৷

দলের তরফে যে ব্যাখ্যাই দেওয়া হোক না কেন, বাবুলের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে নিজের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন আসানসোলের সাংসদ৷ তিনি যে সাংসদ পদে ইস্তফা দিয়ে বিজেপি ছাড়ছেন, এই সিদ্ধান্তে নড়চড় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে৷

Published by:Debamoy Ghosh
First published: