• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • শিক্ষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক বি-এড, কিন্তু একী হাল রাজ্যের কলেজগুলির!

শিক্ষক নিয়োগে বাধ্যতামূলক বি-এড, কিন্তু একী হাল রাজ্যের কলেজগুলির!

বিএড কোর্সের করুণ দশা এ রাজ্যে। রাজ্যে এত সরকারি কলেজ এবং এত ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও বিএড পড়ার জন্য পঞ্চাশ শতাংশ আবেদনই এবার জমা পড়ল না।

বিএড কোর্সের করুণ দশা এ রাজ্যে। রাজ্যে এত সরকারি কলেজ এবং এত ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও বিএড পড়ার জন্য পঞ্চাশ শতাংশ আবেদনই এবার জমা পড়ল না।

বিএড কোর্সের করুণ দশা এ রাজ্যে। রাজ্যে এত সরকারি কলেজ এবং এত ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও বিএড পড়ার জন্য পঞ্চাশ শতাংশ আবেদনই এবার জমা পড়ল না।

  • Pradesh18
  • Last Updated :
  • Share this:

    #কলকাতা: বিএড কোর্সের করুণ দশা এ রাজ্যে। রাজ্যে এত সরকারি কলেজ এবং এত ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও বিএড পড়ার জন্য পঞ্চাশ শতাংশ আবেদনই এবার জমা পড়ল না।

    শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিএড বাধ্যতামূলক হওয়ার পড়েও পড়ুয়াদের অনীহাতে আশ্চর্য শিক্ষাবিদরা ৷ কী কারণে বিএড কলেজগুলিতে এত ফাঁকা আসন পড়ে, তার আসল কারণ খোঁজ নিয়ে দেখা হল ৷

    একটা সময় ছিল স্নাতক শেষ হতেই বিএড পড়ার জন্য আবেদন করতেন হাজার হাজার পড়ুয়া। তখন ইচ্ছে ছিল, হুজুগ ছিল কিন্তু  কলেজ ছিল না।

    এখন কলেজ রয়েছে। ফাঁকা আসন রয়েছে। কিন্তু বিএড পড়ার পড়ুয়া নেই। এবছর রাজ্যের বিএড কলেজগুলির আসন সংখ্যার নিরিখে ৫০ শতাংশ আবেদনও জমা পড়েনি। উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বেশিরভাগ সরকারি ও বেসরকারি বিএড কলেজেই ধরা পড়েছে এই ছবি।

    ইতিমধ্যেই বিএড কলেজগুলিতে ফর্ম দেওয়া শেষ। শুরু হয়ে গিয়েছে কাউন্সেলিং সেশন । কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে, শিক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ থেকে কার্যত মুখ ফিরিয়েছেন পড়ুয়ারা।

    রাজ্যে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএড কলেজের সংখ্যা ১০৩টি ৷ তাতে বিএড পড়ুয়াদের জন্য  ৯ হাজার ৭০০টি আসন রয়েছে ৷ কিন্তু আবেদন জমা  পড়েছে মোটে ৪ হাজার ৮০০ টি ৷

    বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৫৩টি বিএড কলেজ রয়েছে ৷ তাতে আসন সংখ্যা ৪ হাজার ২০০ টি ৷ কিন্তু আবেদন করেছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৬ জন পড়ুয়া ৷

    গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিএড কলেজের সংখ্যা ৩৯টি ৷ আসন সংখ্যা ৩ হাজার ৪০০টি কিন্তু আবেদনের সংখ্যা মোটে ২ হাজার ৷

    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৯টি বিএড কলেজে ৭৫০টি আসন রয়েছে ৷ তাতে আবেদন জমা পড়েছে ৪২৫টি ৷

    সিধু কানহু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ৮টি বিএড কলেজে পড়তে পারেন ৭০০জন শিক্ষার্থী ৷ কিন্তু এদিকে আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৩৫০টি ৷

    সম্প্রতি কলকাতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে তৃণমূল সরকার।  রাজ্যের সব বিএড কলেজগুলিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে আসাই ছিল উদ্দেশ্য।

    ইতিমধ্যেই কলকাতা, কল্যাণী ও পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএড কলেজগুলিকে এর অধীনে আনা হয়েছে। কিন্তু সেখানেও দেখা নেই বিএড পড়ুয়ার।

    ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অধীনে  ১৬৬টি বিএড কলেজ রয়েছে ৷ এতে প্রায়  ১৫ হাজার পড়ুয়া একসঙ্গে পড়তে পারেন ৷ তাতে আবেদন জমা পড়েছিল ৫ হাজারের কাছাকাছি ৷ প্রথম পর্যায়ের কাউন্সিলিং শেষে ভর্তি হয়েছে মাত্র ২ হাজার আবেদন কারী ৷

    ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি অফ টিচার্স ট্রেনিং, এডুকেশন, প্ল্যানিং অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নীতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি,  বিএড-এ অনীহার পিছনে দুটি কারণ রয়েছে ৷ মূলত দু’টি কারণেই এই সামগ্রিক অবস্থা।

    প্রথমত, এবছর থেকে এনসিটিই-এর নিয়ম মেনে বিএড দু’বছর করা হয়েছে। যার জেরে খরচ বেড়েছে প্রায় ১ লক্ষ টাকারও বেশি। দ্বিতীয়ত, বেশিরভাগ কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরের ফল বের হতে দেরি হওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি পড়ুয়ারা।

    কিন্তু কেন এমন দশা? বিএড পড়ার চাহিদা কি তবে কমছে? চার বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আটকে থাকার জন্যই কি তবে বিএড-এর চাহিদা কমছে? যদিও এনসিইটি-র নতুন নিয়মে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগে বিএড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, তবুও রাজ্যের বিএড কলেজগুলির হালহকিকত দেখে বিএড-এ  রাজ্যের পড়ুয়াদের অনীহাই ফুটে উঠেছে ৷

    First published: