মেয়ে কোনও সম্পত্তি নয়, কন্যাদান না করে সোশ্যাল মিডিয়ার কুর্ণিশে ভাসলেন পাত্রীর বাবা

ছবি: অস্মিতা ঘোষের ট্যুইটার হ্যান্ডেল ৷

  • Share this:

    #কলকাতা: বেশ কিছুদিন আগেই সুপাত্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে ৷ মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে গিয়েই বিয়ের সমস্ত কেনাকাটাটাও সেরেছিলেন ৷ এমনকী নিমন্ত্রিতদের জন্য কোন কার্ড কেনা হবে, তাও নিজে হাতেই পছন্দ করেছিলেন তিনিই ৷

    বিয়েতে কোন কোন খাবার রাখা হবে, সেদিকেও ছিল কড়া নজর ৷ মাংসের বিভিন্ন ধরনের পদের পাশাপাশি ছিল নিরামিষ খাবার-দাবারের ব্যবস্থাও ৷ অতিথিরা আসতে শুরু করেছে,তাঁদের যাতে কোনওরকম অসুবিধে না হয়, সেদিকটাও সব সময় খেয়াল রেখেই চলছিলেন ৷ মেয়ের বসার জন্য ভাড়াবাড়ির ডায়াসটা ফুল দিয়ে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ৷ ‘এক ফাঁকে গিয়ে দেখি ঠিকঠাক আছে কিনা ৷’-এই বলে যেতেই দেখলেন মেয়ে ততক্ষণে কনের সাজে হাজির হয়ে গিয়েছেন ৷ আদরের মেয়েটার পরণে তখন লাল টুকটুকে বেনারসী, কপালে শ্বেতচন্দন, মাথায় শোলার মুকুট ৷ চোখের কোণটা চক চক করে উঠল ৷ কিন্তু আবেগঘন হলে চলবে না ৷ মেয়েটা কিছুক্ষণ পরেই তো বিয়েতে বসবে ৷

    তবে এখানেই চমক ৷ শুভ পরিণয়ে জন্য হাজির মহিলা পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক এবং তাঁর সহকারীরা। এই বিয়েতে নেই সাতপাকে ঘোরা! স্ত্রীকে ‘ভাত-কাপড়’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বা মেয়ের ‘চাল ছোড়া’র মতো প্রথা অনুপস্থিত! আছে রবি ঠাকুরের গান! পুরোহিত এবং তাঁর সহকারীরা পরিবেশন করেন রবীন্দ্র সংগীত। অভিনব কায়দায় শুভ পরিণয় সম্পন্ন করিয়ে আসছেন মহিলা পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক এবং তাঁর সহকারীরা ৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অতিথি অধ্যাপক নন্দিনী এবং তাঁর বন্ধু রুমা রায় পৌরহিত্য করছেন প্রায় এক দশক ধরে। প্রথমদিকে প্রায় কেউই ডাকতেন না মহিলা পুরোহিতদের। কিন্তু সময় বদলেছে। গত কয়েক বছর ধরে বিবাহ, অন্নপ্রাশন, শ্রাদ্ধানুষ্ঠান, গৃহপ্রবেশের মতো অনুষ্ঠানেও পৌরহিত্যের জন্য নিয়মিত ডাক পাচ্ছেন নন্দিনীরা। তবে চমকের বাকি ছিল ৷ এখানেই শেষ নয়!

    ছাদনাতলায় পাত্র হাজির ৷ কনেও হাজির হয়ে গিয়েছেন ৷ তবে বেঁকে বসলেন পাত্রীর বাবা ৷ জানিয়ে দিলেন তিনি কন্যাদান করবেন না ৷ বিবাহবাসরে এই কথা উচ্চারিত হতেই ততক্ষণে ধুন্ধুমার ৷ সবার মুখে তখন একটাই কথা,‘‘এ বার কী হবে!’’ কিন্তু কেন এমন বললেন পাত্রীর বাবা ? তাঁর মতে,‘‘মেয়ে কোনও সম্পত্তি নয় ৷ যে তাকে কারও হাতে সম্প্রদান করব ৷’’ কন্যাদান না করেই সম্পন্ন হল সেই বিয়ে ৷

    সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই পোস্ট ভাইরাল হয়েছে ৷ অস্মিতা ঘোষ নামে এক মহিলা এমনই একটি ট্যুইট করেছেন ৷ যেখানে তিনি লেখেন, ‘‘আমি মহিলা পুরোহিতদের সঙ্গে এক বিবাহ অনুষ্ঠান উপস্থিত হয়েছিলাম ৷ যেখানে তাঁরা কনেকে মায়ের নাম দিয়ে প্রথমে পরিচয় করানো হয় ৷ এরপর মেয়ের পরিচয় হিসেবে আসে বাবার নাম ৷ আর সেখানে কিছু কথা বলতে গিয়ে কনের বাবা জানান যে, তিনি কন্যাদান করবেন না ৷ কেননা তাঁর মেয়ে কোনও সম্পতি নয়, যাকে অন্য হাতে তুলে দিতে হবে ৷’’ আর এই পোস্টটিতেই প্রায় ২ হাজার ৩০০ লাইক পড়ে গিয়েছে ৷ এর পাশাপাশি প্রচুর কমেন্টও পড়েছে ৷ আর এই ভদ্রলোকের দৃষ্টিভঙ্গি নেটি

    First published: