• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • কঠিন সময়ের মুখে দেশ, মনের হালখাতায় নববর্ষের কিছুটা সময় রামকৃষ্ণ বৃদ্ধাশ্রমে

কঠিন সময়ের মুখে দেশ, মনের হালখাতায় নববর্ষের কিছুটা সময় রামকৃষ্ণ বৃদ্ধাশ্রমে



নতুন বছরের প্রথম দিনে লাল হালখাতা বিহীন এ এক অন্য নববর্ষ

নতুন বছরের প্রথম দিনে লাল হালখাতা বিহীন এ এক অন্য নববর্ষ

নতুন বছরের প্রথম দিনে লাল হালখাতা বিহীন এ এক অন্য নববর্ষ

  • Share this:

#কলকাতা: লকডাউনে মনের হালখাতা কলকাতার এক বৃদ্ধাশ্রমে। নতুন বছরের প্রথম দিনে লাল হালখাতা বিহীন এ এক অন্য নববর্ষ। লকডাউনের জেরে লাল হালখাতা হারিয়ে গেছে এবারের নববর্ষে। রামকৃষ্ণ বৃদ্ধাশ্রমে সেই লালখাতা তেই আবাসিকরা লিখলেন "মন" এর কথা। মনের হালখাতায় নতুন বছরকে স্বাগত জানালেন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। তাদের কাছে এ এক অন্য নববর্ষ।

উত্তর কলকাতার হরি ঘোষ স্ট্রিটের বৃদ্ধাশ্রম। নাম রামকৃষ্ণ বৃদ্ধাশ্রম। প্রতিবছর এখানে নববর্ষ আসে পুজো গান আর মিষ্টি মুখে। এখানকার ২৫ জন আবাসিকের জন্য বাংলা বছরের প্রথম দিনেই সকাল সকাল উঠে স্নান। তারপর পুজোয় মেতে ওঠা। সারাদিন একটু অন্যরকম খাওয়া-দাওয়া এবং গানের আসর। কর্তৃপক্ষ নতুন বছরের ক্যালেন্ডার ও মিষ্টি মুখে বরণ করে নেন আবাসিকদের। সারাদিন এই মজার ছবি যত্ন করে পাঠিয়েও দেন তাদের সাগর পারের আত্মীয়দের কাছে।

এবছর এসবের কিছুই নেই। আভাস টা পেয়েছিলেন কিছুদিন আগেই অন্নপূর্ণা বাসন্তী পুজো যেভাবে কেটেছে নতুন বছরের প্রথম দিন তাও সেভাবেই কাটবে। এই ভেবে মনমরা হয়েছিলেন আবাসিক রা। তাদের কাছে এক অন্য মাইন্ড গেম নিয়ে এলেন বৃদ্ধাশ্রম এর কর্ণধার কাশীনাথ রায়। এ খেলার নাম দিলেন "মনের হালখাতা"!

কাশীনাথ বাবু বলেন, লকডাউন এ কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না। রাখতে হবে সামাজিক দূরত্ব ও। তাই সবার ঘরে ঘরে আমি নিয়ে গেলাম লাল খাতা। যেখানে আবাসিক রা নিজেরাই লিখলেন আজকের দিনে তাদের মনের কথা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে একে অপরকে শোনালেন তাদের মনের কথা। এভাবেই নতুন বছর এলো রামকৃষ্ণ বৃদ্ধাশ্রমে।

বছরের প্রথম দিনে এরকম মাইন্ড গেমে অংশ নিতে পেরে মনটা ভাল হয়ে গেল একদা বেথুন কলেজের প্রধান শিক্ষিকা ইন্দিরা ঘটকের। মনের হালখাতায় তিনি লিখলেন, একটা অসম্ভব কষ্ট মনে ঘুরপাক খাচ্ছে ।এবার বর্ষবরণ পঁচিশে বৈশাখ কিছুই কি উদযাপিত হবে না ? কিন্তু নিরাময়ের বার্তা এখনো পাইনি। তবুও আমাদের বসুন্ধরা আগের মত আনন্দধাম হয়ে উঠবে আশা রাখি।

বিধান নগর কমিশনারেট দোর্দণ্ডপ্রতাপ ডিএসপি তুষার মুখার্জি। তিনি ও অংশ নিলেন মাইন্ড গেমে।আর লিখলেন, আজ যা অদৃশ্য নিকট ভবিষ্যতে তা দৃশ্যমান হবে এই আশা রাখি। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে থাকতে পারাটাই নতুন বছরের সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ!

এই বৃদ্ধাশ্রমের থাকেন নটী বিনোদিনী খ্যাত অভিনেতা চপল ভাদুড়ি। থাকেন একসময়ের স্কটিশ চার্চ কলেজ এর অধ্যাপিকা পুতুল বন্দোপাধ্যায়। গৃহ শিক্ষিকা মঞ্জুশ্রী চক্রবর্তী ও মনের হালখাতায় লিখে ফেললেন সত্যিই নববর্ষ বলতে কি বোঝেন তিনি।লিখলেন ,মানুষ চেতনায় নবীন থাকলে প্রতিদিন তার কাছে নববর্ষ হয়ে উড়তে পারে।

সংসারে না থাকতে না পারার দুঃখ অনেকের। আবার সংসারে শুধুই সিকিউরিটি গার্ড হয়ে না থাকার থেকে এই বৃদ্ধাশ্রমের নিজেদের বয়সি বন্ধুদের সঙ্গে থাকা অনেকের কাছেই ভালো। তবুও বছরের কিছু বিশেষ তিথি যেমন পুজো বা এই নববর্ষের দিনে বাড়ির কথা মনে পড়ে অনেকেরই। সেই মনে পড়া কথাকে ভুলিয়ে রাখতেই উদ্যোক্তাদের আয়োজন নানা রকমের। লকডাউন এ এক অন্য অনুভূতি তাই মনের হালখাতায় রামকৃষ্ণ বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকদের।

BISWAJIT SAHA

Published by:Arjun Neogi
First published: