"কর্পোরেট কারখানা চাই না", লংমার্চে গলায় রেলইঞ্জিন ঝুলিয়ে অভিনব প্রতিবাদ সত্যনারায়ণের

গত 30 শে নভেম্বর থেকে। যেদিন লংমার্চের সূচনা হয় আসানসোল লাগোয়া রেল শহর চিত্তরঞ্জন থেকে।

  • Share this:
VENKATESWAR  LAHIRI  #কলকাতা : কারখানা বেসরকারিকরণ হবে তা কখনোই মেনে নিতে পারছেন না তিনি। কলকাতায় লংমার্চ কর্মসূচিতে তাই অন্য ভূমিকায় আজ শহরের মিছিলে সামিল হবেন। আওয়াজ তুলবেন, কারখানা "কর্পোরেট" চাই না। তিনি সত্যনারায়ণ মন্ডল। চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার প্রবীন কর্মী।

১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি পথ চলা শুরু করেছিল চিত্তরঞ্জন লোকোমোটিভ ৷ ইলেক্ট্রিক্যাল লোকো ইঞ্জিন তৈরির জন্য বিখ্যাত চিত্তরঞ্জল রেলইঞ্জিন কারখানা বা সি এল ডব্লিউ। নির্দিষ্ট সময়ের আগে পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৪০২ টি ইলিক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিন তৈরি করে নজির গড়েছে সি এল ডব্লিউর কর্মীরা। ১৬০ কিলোমিটার বেগের WAG সেভেন ও WAG নাইন সিরিজ ইঞ্জিন তৈরিতে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার সুনাম রয়েছে দেশজুড়ে। তাও বিলগ্নিকরণের চেষ্টা চলছে চিত্তরঞ্জন রেলইঞ্জিন কারখানাকে। সেই বিখ্যাত ইঞ্জিনের মডেল গলায় ঝুলিয়ে লংমার্চের পায়ে পা মিলিয়েছেন কারখানার কর্মী সত্যনারায়ণ মণ্ডল।

IMG-20191210-WA0012

কোনও থার্মোকল বা পিচবোর্ডের তৈরি নয় রীতিমতো স্টিলের চালু ইঞ্জিন এটি। ৬ হাজার অশ্বশক্তির এই ইঞ্জিন ট্র্যাকে যেভাবে রেল ইঞ্জিন দৌড়য় সেরকমই তৈরি করা হয়েছে। এটিও ছুটবে মডেল ট্র্যাকে। চারকেজির ইঞ্জিনটি গলায় ঝুলিয়ে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার একটাই উদ্দেশ্য চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানার কর্মীদের কর্মনিপুনতা সামনে তুলে ধরা। সুদক্ষ ইঞ্জিনের কারিগরদের সঠিক মূল্যায়নের বিচার না পাওয়ার প্রতিবাদ নিয়েই সাতান্ন বছর বয়সী সত্যনারায়ণবাবু মিছিলের পায়ে পা মিলিয়েছেন গত 30 শে নভেম্বর থেকে। যেদিন লংমার্চের সূচনা হয় আসানসোল লাগোয়া রেল শহর চিত্তরঞ্জন থেকে।

আরও পড়ুন - বিবাহবার্ষিকীর দিনে নতুন রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে বিরাট কোহলি, এটা করলে গড়বেন নয়া নজির

WAG নাইন। মালগাড়ি টানতে সক্ষম । ইঞ্জিনের রং সবুজ। WAP সেভেন টানে প্যাসেঞ্জার ট্রেন। রং সাদা। এখানে সবুজ রঙের ইঞ্জিনটিকে গলায় ঝুলিয়েছেন মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মী সত্যনারায়ণবাবু। কারখানায় যখনই কোনও আন্দোলন হয় তখনই সত্যনারায়ণবাবুকে দেখা যায় অভিনব রূপে। এর আগে যখন সিএল ডব্লিউ কারখানার আদি লোগো তীর ধনুক ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল তখন তিনি তীর ধনুকের মডেল তৈরি করেছিলেন। আন্দোলনের সহজ চরিত্র তুলে ধরতে তিনি প্রতীকী চিহ্নগুলি সামনে নিয়ে আসেন। তবে WAG নাইন সিরিজের যে ইঞ্জিনটি গলায় ঝুলিয়ে এই প্রবীণ কর্মী লংমার্চে অংশ নিয়েছেন সেই মডেল ইঞ্জিনটি দক্ষতার সঙ্গে বানিয়েছেন মেকানিক্যাল বিভাগের কর্মী ভি আনন্দ রাও। তিনি বলেন, ৬ মাস ধরে ইঞ্জিনটি তৈরি করেছেন। বড় ইঞ্জিনের ধাঁচেই মডেল ইঞ্জিনটিও তৈরি করা হয়েছে। প্যান্টোগ্রাফের সাহায্যে ছোট ট্র্যাকে ছোটে এই ইঞ্জিন। সেই ইঞ্জিন নিয়েই কারখানারই প্রবীণ কর্মী প্রতিবাদে সামিল।

সত্যনারায়ণ মণ্ডলের কথায়, ২০১৮-১৯ আর্থিক বর্ষে ৪০২ টি বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন তৈরি করে নতুন রেকর্ড তৈরি হল কারখানায়। খরচ গতবারের তুলনায় ৭.৫ শতাংশ কম হয়েছে। এরপরেও কারখানার বেসরকারিকরণের কী মেনে নেওয়া যায়।

উল্লেখ্য ‘সেভ পাবলিক সেক্টর, সেভ বেঙ্গল, সেভ ইন্ডিয়া’ শ্লোগান তুলে শুরু হয়ে ডান বাম সহ কেন্দ্রীয় সমন্বয় শ্রমিক। সংগঠনগুলির লংমার্চ কর্মসূচি ঝাড়খণ্ড ছোঁয়া চিত্তররঞ্জন থেকে কলকাতা পর্যন্ত ২৮০কিলোমিটার পথ হাঁটছেন রাজ্যের হাজার প্রতিবাদী মানুষ। পাশাপাশি সত্যনারায়ণ মন্ডলও আজ লংমার্চে প্রতিবাদী কন্ঠ নিয়ে গর্জে উঠবেন। আওয়াজ তুলবেন, কর্পোরেট কারখানা চাই না।

আরও দেখুন

First published: December 11, 2019, 12:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर