• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • এই অসুর আরও বেপরোয়া, আরও আসুরিক

এই অসুর আরও বেপরোয়া, আরও আসুরিক

হিন্দুশাস্ত্রের  নব রসের অষ্টম রস। যুগে যুগে শিল্পীরা এড়িয়ে গিয়েছেন এই অনুভবকে, সে প্রাচ্য হোক কিম্বা পাশ্চাত্য। শিল্পীরা জোর দিয়েছেন আদি রস কিম্বা করুণ রসের দিকে।

হিন্দুশাস্ত্রের নব রসের অষ্টম রস। যুগে যুগে শিল্পীরা এড়িয়ে গিয়েছেন এই অনুভবকে, সে প্রাচ্য হোক কিম্বা পাশ্চাত্য। শিল্পীরা জোর দিয়েছেন আদি রস কিম্বা করুণ রসের দিকে।

হিন্দুশাস্ত্রের নব রসের অষ্টম রস। যুগে যুগে শিল্পীরা এড়িয়ে গিয়েছেন এই অনুভবকে, সে প্রাচ্য হোক কিম্বা পাশ্চাত্য। শিল্পীরা জোর দিয়েছেন আদি রস কিম্বা করুণ রসের দিকে।

  • Share this:

    #কলকাতা: হিন্দুশাস্ত্রের  নব রসের অষ্টম রস। যুগে যুগে শিল্পীরা এড়িয়ে গিয়েছেন এই অনুভবকে, সে প্রাচ্য হোক কিম্বা পাশ্চাত্য। শিল্পীরা জোর দিয়েছেন আদি রস কিম্বা করুণ রসের দিকে। খুব কম কেউ কেউ বেছে নিয়েছেন বীভৎস রস অর্থাৎ হিন্দু নবরসের অষ্টম রসকে। তেমনই একজন কুমোরটুলির বাসিন্দা মদনমোহন পাল।

    অসুরেই আনন্দ। পুরাণের বীভৎস রসকেই বেছে নিয়েছেন নিজের শিল্প সাধনার মাধ্যম হিসেবে। কলকাতার কুমারটুলির এক প্রান্তে নেহাতই ব্রাত্য এক কুঠুরি। সেখানেই চলে তার শিল্প  সাধনা। মাটি নিয়ে খেলতে খেলতে কুমোরটুলির পালেরা যেমন বেছে নেয় প্রতিমার লালিত্যকে। তেমনই তিনি বেছে নিয়েছিলেন অসুর আর ডাকিনী যোগিনীকে।

    নাম মদনমোহন পাল ৷ মানুষটির মুখে অনাবিল হাসি লেগেই আছে।  কিন্তু হাতে খড় মাটি পরলেই বদলে যান মানুষটা। মজে ওঠেন অষ্টম রসে। নরম হাতে ঝলসে ওঠে স্প্যাচুলা। মাটির তাল বদলে যায় ভয়ংকর চেহারায়। দেখে আপনার ভয় হতে পারে। ঘৃণা হতে পারে।হতে পারে আতঙ্ক। আর সেইখানেই সাফল্য মদনমোহন পালের।

    এক সময় যখন কুমোরটুলির বিখ্যাত শিল্পীরা দুর্গার অসুর কিম্বা কালীর ডাকিনী যোগনী মুর্তি বানাতেন না। তখন থেকেই উল্টোধারায় চলা শুরু মদনমোহনের। প্রখ্যাতশিল্পীরা যখন অসুরকে সারেন্ডার করাচ্ছেন তখন তার হাতে অসুর হচ্ছেন আরও আসুরিক। মুখের ছাঁচ হচ্ছে বীভৎস আর ভয়ংকর। রাগী আর বেপরোয়া।

    স্রেফ প্রতীকী নয়। অন্যায় বা অপশক্তি যে স্রেফ সাঙ্কেতিক হয় না। তার প্রতিরোধ ধাক্কা আক্রমণ যে কঠোর আর হিংস্র হয় সেটা চেনান এই নিরীহ মানুষটি। এখনো নিষ্পাপ শিশুর মত হাসিমুখে। জানিয়ে দিলেন এই অল্পেই খুশি তিনি।

    অনায়াসে জানিয়ে দেন, দুর্গা বা কালি নন। তিনি ডাকিনী যোগিনী আর অসুরের আশির্বাদ পুষ্ট তিনি। আর সেটাই স্বাভাবিক বলা। কারণ সারাজীবন ধরে তিনি আরও বেশি করে প্রকট করেছেন বীভৎসতাকে। হিংস্রতাকে। শুধুমাত্র মুখের এক্সপ্রেশন বদলে দিলেই বেরিয়ে আসে আসল মুখটা। যেটাকে সভ্য নাগরিকের ভদ্র মুখোশের আড়ালে ঢাকা পরেই থাকে।

    First published: