• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • হুমকি-ধমক-সমালোচনা, চাপের মুখে টাকা ফেরাচ্ছে অ্যাপোলো

হুমকি-ধমক-সমালোচনা, চাপের মুখে টাকা ফেরাচ্ছে অ্যাপোলো

সবচেয়ে বেশি বিল বাড়ানোর অভিযোগ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন সংযত হতে । তবু টনক নড়েনি অ্যাপোলো গ্লেনেগলসের।

সবচেয়ে বেশি বিল বাড়ানোর অভিযোগ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন সংযত হতে । তবু টনক নড়েনি অ্যাপোলো গ্লেনেগলসের।

সবচেয়ে বেশি বিল বাড়ানোর অভিযোগ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন সংযত হতে । তবু টনক নড়েনি অ্যাপোলো গ্লেনেগলসের।

  • Share this:

    #কলকাতা: সবচেয়ে বেশি বিল বাড়ানোর অভিযোগ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সতর্ক করেছিলেন। বলেছিলেন সংযত হতে । তবু টনক নড়েনি অ্যাপোলো গ্লেনেগলসের। চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের প্রমাণ হয়ে গেল অ্যাপোলো আছে অ্যাপোলোতেই।

    অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে বিলের অঙ্ক বাড়ানো ও রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠল। পথ দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত সঞ্জয় রায়কে সাতদিন ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। বিলের অঙ্ক সাত লক্ষ ছাড়িয়ে যায়। পুরো টাকা না মেটালে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেয় না অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। পরে ফিক্সড ডিপোজিট জমা রেখে সঞ্জয়কে এসএসকেএমে ভরতি করালেও শেষরক্ষা হয়নি। আজ ভোররাতে মৃত্যু হয় ডানকুনির বাসিন্দা সঞ্জয় রায়ের।

    তারপর থেকেই সমালোচনার ঝড়ে নাস্তানাবুদ অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ ৷ খোদ প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও মন্ত্রী মদন মিত্রের এই ঘটনায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যার বাড়ির ছেলে চলে গেল তাঁকে আমি কি সান্ত্বনা দেব! অবিলম্বে টাকা ফেরত দিন, না হলে কালকে হাসপাতালের বোর্ডের বদলে কেওড়াতলার বোর্ড লাগিয়ে দেব ৷’

    এরপরেই টাকা ফেরতের কথা বলেন অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ ৷ চাপে পড়ে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ঘোষণা, সঞ্জয় রায়ের পরিবারকে সব টাকা ফেরত দেওয়া হবে ৷ যদিও অ্যাপোলোর CEO জয় বসু বলেন, ‘মানবাতিকতার খাতিরে সঞ্জয় বসুর পরিবারকে পুরো ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে ৷’

    বুধবারই হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল, রোগী পরিষেবা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ধমক খেয়েছিল অ্যাপোলো কর্তৃপক্ষ। ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই ফের অমানবিক সেই অ্যাপোলো হাসপাতাল। বিল না মেটানোয় পরিবারের কাছে রোগীকে ফেরাতেও চায়নি। পরে অবশ্য ঘটি বাটি বিক্রি করে হাসপাতালের লক্ষাধিক টাকা মেটান ডানকুনির রায় পরিবার।তবুও শেষরক্ষা হল না। এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যু হল সঞ্জয় রায়ের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে আমতা আমতা করে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের পক্ষে সাফাই দিলেও, বৃহস্পতিবারও একই অমানবিক মুখ দেখল ডানকুনির রায় পরিবার। বিলের চাপে এখন মাথায় হাত ডানকুনির রায় পরিবারের।

    ডানকুনির বাসিন্দা সঞ্জয় রায় পথ দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চলতি মাসের ১৬ তারিখে ভর্তি হন অ্যাপোলো হাসপাতালে। হাসপাতাল প্রথমে জানায় তার লিভার ক্ষতিগ্রস্ত। সেই মতো তাকে ভেন্টিলেশনে রাখাও হয়। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, সাতদিন কেটে যাওয়ার পরেও কোনও উন্নতি হয়নি সঞ্জয়ের। আর এর মধ্যেই বিলের অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৮ লক্ষ টাকায়। যা যোগাড় করতে রায় পরিবারের এখন ঘটি বাটি বিক্রি করার অবস্থা। ফলে বাধ্য হয়েই সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএমে সঞ্জয় রায়কে স্থানান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় তার পরিবার। কিন্তু বাধ সাধে অ্যাপোলো হাসপাতাল। পুরো টাকা না মেটালে রোগীকে ছাড়া যাবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। যদিও সাড়ে তিনলক্ষ টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয় বলে জানান রায় পরিবার। হাসপাতালেই এই ব্যবহারে হতবাক সঞ্জয়ের পরিবার।

    সেবাকে যখন কোনওভাবেই ব্যবসা করা যাবে না বলে বার্তা দিচ্ছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, সেখানে বিলের টাকা না মেটানোয় প্রথম সারির বেসরকারি হাসপাতালের এই ব্যবহারে বিধ্বস্থ রোগীর পরিবার।এত কিছুর পরেও আশার আলো দেখেছিলেন সঞ্জয়ের পরিবার। কিন্তু এসএসকেএমে -ই মৃত্যু হল সঞ্জয় রায়ের।

    First published: