ট্রেন নেই, সড়কেও ভোগান্তি, শেষ ভরসা বিমানেও আকাশছোঁয়া ভাড়া

ট্রেন নেই, সড়কেও ভোগান্তি, শেষ ভরসা বিমানেও আকাশছোঁয়া ভাড়া
চাহিদা বাড়ায় আকাশছোঁয়া ভাড়া বিমানের

বুধবার কলকাতা থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত বিমানের নুন্যতম ভাড়া ১৩ হাজার টাকার কাছাকাছি।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL #কলকাতা: ট্রেন নেই। বাসে আসন পাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয়। সকাল থেকে টিকিটের জন্য লাইন দিলেও ভরসা নেই। ভরসা বলতে বিমান। কিন্তু আকাশচুম্বী ভাড়া তার। ফলে বিমান বন্দরের বাইরেই ঘুরে আসা। সমস্ত নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে বিমানের আসনে বসা আর হল না। বুধবার কলকাতা থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত বিমানের নুন্যতম ভাড়া ১৩ হাজার টাকার কাছাকাছি। গৌহাটি ঘুরে যাবে যে বিমান তার ভাড়া ১৪ হাজার ৬৫৪ টাকা। বেঙ্গালুরু ও দিল্লি ঘুরে যাবে যে বিমান তার ভাড়া গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৮২১ টাকা। ২০ থেকে ২৪ হাজারের মধ্যেও ঘুরে বেড়াচ্ছে বিমানের ভাড়া।যা সাধারণ ভাড়ার নিরিখেই প্রায় পাঁচ থেকে কুড়িগুণ অবধি বেশি। যা দিয়ে কলকাতা থেকে জয়পুর, দিল্লি বা মুম্বই ঘুরে ফিরে আসা যাবে। বিদেশেও বেড়াতে চলে যাওয়া যাবে।

দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গ মধ্যে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দ্রুত যাতায়াতের জন্য ভরসা বিমান। আর সেটাই ধাক্কা খেয়েছে পাহাড় সমান ভাড়ায়। এর আগেও ২০১৭ সালে দুবার এই ধরণের বিমান ভাড়া বেড়েছিল। প্রথম জুন মাসে দার্জিলিং এর গন্ডগোলের সময়।তবে রাজ্য সরকারের অনুরোধে ভাড়া সাধারণের জন্যে বেঁধে রাখা সম্ভব হয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটেছিল ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে। উত্তরবঙ্গে ব্যাপক বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। তখন বিমানের ভাড়া ছুঁয়েছিল প্রায় ৩০০০০ হাজার টাকা অবধি। তবে সেবারও রাজ্য সরকার কথা বলে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সাথে। তখনও ভাড়া ১২ দিনের মধ্যে সাধারণের জন্যে বেঁধে দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক অতীতে কেরালা বন্যা, কাশ্মীর পরিস্থিতি বা আসামের বন্যার পরেও ভাড়া নিয়ে নজরদারি চালানো হয়েছিল। ফলে চাহিদা বৃদ্ধি পেলেও ভাড়া বাড়ানো হয়নি। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণের মধ্যে ১০০০ কিলোমিটার দুরত্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার পরেও টানা ৪ দিন ধরে বিমানের ভাড়া বেড়েই চলেছে। ফলে অসুস্থ যাত্রী থেকে শুরু করে পর্যটক কেউ চাইলেও বিমানের টিকিট কাটতে পারছেন না। বুধবারও দুপুরের শিলিগুড়ি গামী শতাব্দী এক্সপ্রেসের টিকিট বাতিল হয়েছে নিউ আলিপুরের সুবর্ণের। ব্যবসার কাজে তাকে যেতেই হবে জলপাইগুড়ি। ধর্মতলায় পর্যটন সংস্থার এজেন্টের কাছে বিমান টিকিট কাটতে গিয়েও ফিরে আসতে হয়েছে তাকে। সুবর্ণের কথায়, “ শুধু বাগডোগরা যেতেই ২২ হাজার টাকা। এত টাকা দিয়ে টিকিট কাটা সম্ভব নয়। ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে তবুও দুদিন ওয়েট করে যাই।” একই অভিযোগ পল্লব বারুইয়ের। ব্যাঙ্ক সংস্থার কর্মী সে, “ছুটি শেষ। তারপরেও তিনদিন হয়ে গেল। জলদি শিলিগুড়ি যেতে হবে চারদিনের রেলের অপেক্ষায় থেকেও লাভ হল না। ভাবলাম বিমানে চলে যাব। কিন্তু আমার পকেট এতটা সমর্থন করছে না।” আগামী দুদিন অবধি ভাড়ার অঙ্ক বিমানে এতটাই চড়া যে মধ্যবিত্তের পক্ষে তাকে ছোঁয়া সম্ভব নয়। ফলে দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই বাড়ি বা হোটেল থেকে বাস স্ট্যান্ড বা স্টেশন এমন করেই দিন কাটছে আটকে পড়া মানুষদের।

First published: December 18, 2019, 4:05 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर