দলে যোগদান নিয়ে কোনও ছুঁৎমার্গ রাখবেন না, কর্মীসভায় নির্দেশ অমিত শাহের

দলে যোগদান নিয়ে কোনও ছুঁৎমার্গ রাখবেন না, কর্মীসভায় নির্দেশ অমিত শাহের

মিশন বাংলা ২০১৯ টার্গেট পূরণে দল ভাঙানো নিয়ে কোনও ছুঁৎমার্গ নেই বলে কর্মিসভায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অমিত শাহ।

  • Share this:

#কলকাতা: মিশন বাংলা ২০১৯ টার্গেট পূরণে দল ভাঙানো নিয়ে কোনও ছুঁৎমার্গ নেই বলে কর্মিসভায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অমিত শাহ। চলতি বছর বেশির ভাগ নির্বাচনে বিজেপির ভালো ফলের পর এবার লক্ষ্য বাংলা দখল ৷ সেই উদ্দেশ্যে তিনদিনের রাজ্য সফরে এসে এমন নির্দেশই দিলেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ ৷

অন্যদিকে, বিজেপিকে অল আউট আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বীরপাড়ার সভা থেকে তাঁর তোপ, দিল্লির ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় সিবিআইয়ের ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। চেষ্টা হচ্ছে দল ভাঙানোর। বিজেপির সঙ্গে জুটেছে সিপিএমের হার্মাদরাও। মমতার দাবি জোরাল হয়েছে অমিত শাহের ইঙ্গিতে।

এরাজ্যে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা মাত্র তিন। তাই নিয়ে কীভাবে দুশোর বেশি আসন পাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে লড়াই করবে বিজেপি? মিশন বাংলা মুখ থুবড়ে পড়বে না তো? তাই, সংগঠনের পালে হাওয়া দিতে দল ভাঙানোর স্ট্র্যাটেজিই নিয়েছে গেরুয়াশিবির। বিজেপির টার্গেট রাজ্যের শাসকদল। কর্মিসভায় সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন খোদ অমিত শাহ। এদিন তিনি বলেন, ‘দলে তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের যোগদান নিয়ে কোনও ছুঁৎমার্গ নেই। বড় ধরনের অভিযোগ না থাকলে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসতে কোনও বাধা নেই।’

কর্মীসভায় বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির নির্দেশ, ‘পঞ্চায়েত ভোটে যত বেশি সম্ভব প্রার্থী দিতে হবে ৷ যিনি লড়তে পারবেন, তাঁকেই প্রার্থী করা হবে ৷ পাল্টা চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মতো ব্যক্তিকেই প্রার্থী ৷ সাধারণ কর্মীদের জন্যে দরজা খোলা ৷ কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে দল ছাড়তে পারেন ৷’

আরও পড়ুন,

‘সকালে যাচ্ছে গরিবের বাড়ি, রাতে পাঁচতারা হোটেলে!’ অমিত শাহকে কটাক্ষ মমতার

এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে দল ভাঙানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। সিবিআইয়ের হেফাজতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পালের মতো তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। রোজভ্যালি কাণ্ডের চার্জশিটেও তাঁদের নাম রয়েছে। এ নিয়ে দলের অবস্থান কি? নোটবন্দি-সহ একাধিক ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতার জেরেই এই আক্রমণ। অনেক আগেই এই যুক্তি তুলে ধরেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুধুমাত্র শাসকদলই বিজেপির লক্ষ্য কেন? কেন এ রাজ্যের বামশক্তিকে কেন টার্গেট করছে না বিজেপি? বামেদের সঙ্গে মতাদর্শগত বিভেদই কি একমাত্র কারণ? মমতা ছোটদলগুলিকে একজোট হওয়ার বার্তা দিলেও, তা নিয়ে মাথা ঘামায়নি বামেরা। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর অভিযোগ, অনেক আগে থেকেই হাত মিলিয়েছে বাম ও বিজেপি।

কাঁথি দক্ষিণ উপ নির্বাচনের ফলে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে বামেদের রক্তক্ষরণ। পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট, তৃণমূলের ভোট বেড়েছে অনেক। অথচ, বামেদের ভোট যেখানে কমেছে, সেখানে বেড়েছে বিজেপির ভোট। রাজ্যে মেরুকরণের রাজনীতির উত্থানে বামেদের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

অন্যদিকে, রাজ্য বিজেপি-র লক্ষ্যমাত্রা ‘বিশ বাঁও জলে’ ৷ টার্গেট ৩৩, বাস্তবায়িত মাত্র ৩ ৷ জেলায় ৩৩টি পার্টি অফিসের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ বিজেপি ৷ ক্রুদ্ধ অমিত শাহের নির্দেশ, মে-র মধ্যে বাকি জমি চূড়ান্ত করতে হবে ৷

আরও পড়ুন, 

‘আমায় ইডি, সিবিআই দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে, তৃণমূল ভয় পায় না’, বিজেপির উদ্দেশ্যে হুঙ্কার মমতার

অমিত শাহের সুরেই কর্মীদের উদ্দেশে কৈলাস বিজয়বর্গীর বার্তা,‘সময় ধরে কাজ করতে হবে ৷ কাজের ফল দেখতে চাই ৷’

আরও পড়ুন,

তৃণমূল ও কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন একাধিক নেতা

গো-বলয়ে উড়ছে জয়পতাকা। নরেন্দ্র মোদি - অমিত শাহদের নজর এখন পূর্বে। অসম, মণিপুরে ক্ষমতা দখলের পর পাখির চোখ এখন পশ্চিমবঙ্গ। ২০১৬ তে চেষ্টা করেও হয়নি। সেই ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ঘিরে নতুন করে ঝাঁপাচ্ছে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

উত্তরপ্রদেশে ভয়ঙ্করভাবে মোদি-অমিত জুটি সফল। হাতে আরও দুটি বছর লোকসভা নির্বাচনের জন্য। আপাতত অমিত শাহর এই জনসংযোগ অস্ত্র নিয়মিত ব্যবহারের ধারা বজায় রাখতে পারবেন রাজ্যের গেরুয়া নেতৃত্ব? নাকি ঘাসফুলের পালটা অস্ত্রে ভোঁতা হবে ? তারপরেই জনসংযোগের ফল বোঝা যাবে।

First published: 04:57:23 PM Apr 27, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर