দু’দিনের হেফাজত হলেও ‘ভুয়ো ডাক্তার’ অরোদীপকে নিয়ে আদালতে অস্বস্তিতে পুলিশ

দু’দিনের হেফাজত হলেও ‘ভুয়ো ডাক্তার’ অরোদীপকে নিয়ে আদালতে অস্বস্তিতে পুলিশ

লেকটাউনে গ্রেফতার ভুয়ো ডাক্তারকে আদালতে তুলতেই বিপাকে পড়তে হল লেকটাউন পুলিশকে।

  • Share this:

#কলকাতা: লেকটাউনে গ্রেফতার ভুয়ো ডাক্তারকে আদালতে তুলতেই বিপাকে পড়তে হল পুলিশকে। আজ যখন ভুয়ো চিকিৎসক হিসাবে গ্রেফতার অরোদীপ চট্টোপাধ্যায়কে বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয় সেই সময় লেকটাউন থানার পক্ষের উকিল আদালতকে জানান, এই ব্যক্তি লেকটাউনের একটি হাসপাতালে ক্যানসারের চিকিৎসা করতেন ডাক্তার না হওয়া সত্ত্বেও। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

কিন্তু আসামী পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান এই ব্যক্তি ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেল্থ এবং ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনস্টিটিউট থেকে ক্যানসার সংক্রান্ত বিষয়ে রিসার্চ করার জন্যে এম ডি সার্টিফিকেট প্রাপ্ত। এই ব্যক্তি ওই হাসপাতালের নামাঙ্কিত প্যাডে এবং অন্য কোনও জায়গায় ডাক্তার উল্লেখ করতেন না ৷ তার বদলে ক্যানসার রিসার্চার হিসাবে অন্য রিসার্চ করত এবং বিভিন্ন পত্রে তার রিসার্চের তথ্য প্রকাশ করত। সেই কথার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ পক্ষের উকিল আদালতে জানান এই অভিযুক্ত লেকটাউনের ৩৮১ নম্বর এস কে দেব রোডের ক্রিটিক্যাল ক্যানসার ম্যানেজমেন্ট রিসার্চ সেন্টারে ডাক্তার অসীম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে চিকিৎসার প্রেসক্রিপশন চিকিৎসা তথ্য লিখত এবং রোগীদের দেখতেন চিকিৎসক হিসাবে, এই তথ্য অরোদীপ চট্টোপাধ্যায়কে চিকিৎসক হিসাবে প্রমান করে।

পুলিশ পক্ষের এই বয়ানের পরিপ্রেক্ষিতে আসামী পক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন এস কে দেব রোডের হাসপাতালটি এই ব্যক্তির বাবা পেশায় ডাক্তার অসীম চট্টোপাধ্যায়ের এবং এই হাসপাতালে অভিযুক্ত ডাক্তার পরিচয় দিয়ে চিকিৎসা করতেন না ৷ পাশাপাশি এই ব্যক্তি ক্যানসার রিসার্চার হিসাবে তার বাবার লেখা প্রেসক্রিপশনে রোগীদের রোগের বিশ্লেষণ লিখতেন ৷ কিন্তু তিনি কোনও সময় রোগীদের ওষুধ দিতেন না এবং তিনি প্রেসক্রিপশন যখন নিজস্ব স্বাক্ষর করতেন সেই প্রেসক্রিপশনে তার নামের স্বাক্ষরের পাসে অরোদীপের চিকিৎসক বাবা অসীম চট্টোপাধ্যায় স্বাক্ষর করতেন রোগীর রোগের বিশ্লেষণ ও চিকিৎসার সত্যতা বিচারের জন্যে ৷ তাই এই ব্যক্তিকে কোনও ভাবেই চিকিৎসক বলা যায় না।

বিধাননগর মহকুমা আদালতের বিচারপতি শুভ্র সোম ঘোষাল পুলিশ পক্ষের আইনজীবীকে বিষয়টির বিশ্লেষণ করতে বললে তিনি বলেন, চিকিৎসার প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া কোনও ব্যক্তি এই প্রকার রিসার্চ করতে পারে না ৷ সেই কথা শোনার পরে আসামী পক্ষের আইনজীবী সৌম্যজিত রাহা আদালতের মাননীয় বিচারপতিকে আবেদন জানান যদি মানবকল্যান স্বার্থে কোনও ব্যক্তি বিদেশ থেকে রিসার্চ কোর্স করার পরেও প্রাথমিক শিক্ষার অভাবে চিকিৎসা করতে বাধা পায় তবে গীতাঞ্জলি লেখার জন্যে প্রাথমিক শিক্ষা উপযুক্ত না থাকার কারণে হয়তো কোনও সময় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সত্ত্বা কেড়ে নেওয়ার আবেদন তুলবে কোনও এক আইনজীবী ৷ তাই শিক্ষার প্রসঙ্গে না বিচার করে আদালত যেন তথ্যের ভিত্তিতে বিচার করেন। দুই পক্ষের বয়ান শোনার পর আদালতের নির্দেশ প্রায় তিন ঘণ্টা স্থগিত রাখেন আদালতের মাননীয় বিচারপতি শুভ্র সোম ঘোষাল। অবশেষে বিধাননগর আদালত দুই পক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অরোদীপবাবুর দু’দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

First published: 10:11:17 PM Jun 29, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर