দু'জায়গার ভোটার, নন্দীগ্রামের 'স্থানীয়' বাসিন্দাও নন! অভিযোগে বিদ্ধ 'ঘরের ছেলে'

দু'জায়গার ভোটার, নন্দীগ্রামের 'স্থানীয়' বাসিন্দাও নন! অভিযোগে বিদ্ধ 'ঘরের ছেলে'

চাপ বাড়ল শুভেন্দুর?

এবার পালটা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচনে কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, একইসঙ্গে দু'জায়গার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর।

  • Share this:

    #কলকাতা: নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন। আর এই নাম বিভ্রাটেই বিভ্রান্ত হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কমিশনে অভিযোগ জানিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল শুভেন্দু অধিকারী সহ গোটা বিজেপি নেতৃত্বকে। কিন্তু এবার পালটা শুভেন্দুর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচনে কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল। রাজ্যের শাসক দলের অভিযোগ, একইসঙ্গে দু'জায়গার ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর। তাই নন্দীগ্রামের নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে নথিসহযোগে শুভেন্দুর নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন।

    বিধানসভা নির্বাচনে বাংলা তো বটেই, গোটা দেশের নজরে এখন নন্দীগ্রাম। যুযুধান দুই প্রার্থীর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী। আর 'মাননীয়া'কে অন্তত পঞ্চাশ হাজার ভোটে হারানোর দাবি করে বারবার সুর চড়াচ্ছেন শুভেন্দু। সম্প্রতি নন্দীগ্রামে মমতার চোট পাওয়া অবশ্য পরিস্থিতি অন্য় দিকে ঘুরিয়ে দিয়েছে। হাসপাতালে দুদিন কাটিয়ে মমতা এখন হুইল চেয়ারেই ভোট প্রচারে ছুটছেন বিভিন্ন প্রান্তে। বলছেন, 'আহত বাঘিনি ভয়ঙ্কর'। আর এমন পরিস্থিতিতে হলদিয়া থেকে সরে এসে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় নিজের নাম তোলেন। আর সেই নাম তোলার ক্ষেত্রেই শুভেন্দুর 'কারচুপি' নিয়ে সরব তৃণমূল।

    তৃণমূলের দাবি, একজন ভোটারের নাম দুটি নির্বাচনী ক্ষেত্রে কোনওভাবেই থাকতে পারে না। কিন্তু বিজেপির নন্দীগ্রামের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বর্তমানে দুটি বিধানসভার ভোটার। নতুন করে নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় তিনি নাম তুললেও তাঁর পুরনো ভোটদানের জায়গা নাম দুটি বিধানসভা ক্ষেত্রে রয়েছে। তিনি একাধারে নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকায় স্থান পেয়েছেন আবার ২০৯ নম্বর হলদিয়াতেও ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে তাঁর। এই অভিযোগে একটি নথিও জমা দেওয়া হয়েছে শাসক দল তৃণমূলের তরফে।

    শুধু এই অভিযোগেই থেমে থাকেনি তৃণমূল। শুভেন্দু হলদিয়া থেকে নাম সরিয়ে নন্দীগ্রামে ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রেও মিথ্যাচার করছেন বলে অভিযোগ ডেরেকের। তিনি যে ঠিকানা দিয়েছেন নন্দীগ্রামে, তা তাঁর স্থায়ী ঠিকানা তো নয়ই, এমনকী নিয়ম অনুযায়ী শেষ ৬ মাস তিনি ওই ঠিকানাতেও ছিলেন না। এই তথ্য তৃণমূলের নয়, স্থানীয় বিএলও বিজলি গিরি রায় এই তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি তৃণমূলের।

    সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মনোনয়ন পত্রে তথ্য গোপনের অভিযোগ তুলেছিলেন নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর অভিযোগ ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ছ'টি ফৌজদারি মামলা থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন পত্রে তার উল্লেখ করেননি মুখ্যমন্ত্রী৷ বিজেপি নেতা চাঞ্চল্যকর দাবি করেন, সিবিআই-এর একটি মামলাতেও নাম রয়েছে মমতার৷ শুভেন্দুর এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীপদ বাতিল করার দাবিতে কমিশনে অভিযোগ জানায় বিজেপি-ও৷ কিন্তু এরপরই দেখা যায়, বিজেপি-র অভিযোগপত্রে যে মামলার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোনও সম্পর্কই নেই৷ কারণ ওই মামলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে যাঁর নাম রয়েছে, তিনি আসলে অন্য একজন৷ ফলে বিষয়টি নিয়ে মুখ পোড়ে বিজেপির। এভাবে পালটা শুভেন্দু তথা বিজেপিকেই পালটা চাপে ফেলার রাস্তায় এগোল তৃণমূল।

    Published by:Suman Biswas
    First published: