এনআরএস কুকুর ছানা মৃত্যুর ১ বছর! বছর ঘুরলেও বিচার অধরা এখনও

এনআরএস কুকুর ছানা মৃত্যুর ১ বছর! বছর ঘুরলেও বিচার অধরা এখনও
  • Share this:

ARNAB HAZRA #কলকাতা: বছর ঘুরলেও বিচার অধরা। এনআরএস কুকুর ছানা মৃত্যুর ১ বছর। আঘাতের জ্বালায় ছটফট করছে। ছোট্ট শরীর থেকেই অস্ফুট স্বরে তা বোঝানোর মরিয়া প্রয়াস। প্রহারকারী তাতে দমবার পাত্রী নন।

এমন একটা ভিডিও ফুটেজে ২০১৯-এর শুরুটা সরগরম হয়ে ওঠে। নীলরতন সরকার হাসপাতাল-এর কুকুরছানা মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ নীরব কেন, এই শ্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হয় আন্দোলন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। আর তাই হয়তো বদলে গিয়েছে এনআরএস কুকুর ছানার মৃত্যু প্রসঙ্গ। বছর ঘুরলেও এখনও বিচার অধরা থাকে। ১৩ জানুয়ারি ২০১৯ এনআরএস হাসপাতাল থেকে উদ্ধার হয় ১৫ টি কুকুর ছানার দেহ। পড়ে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে হয় ১৭। শহরে পশুপ্রেমীদের প্রতিবাদ, গর্জন এখন স্তিমিত। সোশ্যাল মিডিয়ার হম্বিতম্বিও উধাও। মাঝে ৩৬৫ দিনে অনেক কিছু এসেছে, গিয়েছে। প্রতিবাদও কালের নিয়মে পিছনের সারিতে চলে গিয়েছে। অমানবিক ঘটনায় অভিযুক্ত হয় নার্সিং প্রথম বর্ষের ছাত্রী মৌটুসি মণ্ডল এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সোমা বর্মন। ময়নাতদন্ত উঠে আসে বারংবার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে কুকুর শাবক গুলির। পাশাপাশি একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় কুকুর ছানাগুলির দেহে। ২ নার্স ছাত্রী গ্রেফতারের পর জামিন পেয়েছে। ভারতীয় দন্ডবীধির ৪২৯ ধারায় মামলা এগিয়েছে গয়ংগচ্ছ তালে। কুকুর হত্যার দায়ে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নিদান রয়েছে । অথচ সেই মামলা দীর্ঘসূত্রিতার ছায়ায় ঢাকা পড়েছে। তারিখের পর তারিখ যোগ হয়ে চলেছে মামলায়। কিছু ভিডিও ফুটেজ ছিল এই মামলার অন্যতম হাতিয়ার। এছাড়া কিছু ক্লোজ সার্কিট টেলিভিশন ফুটেজ পরে পুলিশের হাতে আসে। পুলিশ হেফাজতে কাটানো দুই নার্সিং ছাত্রীর প্রথম থেকেই অভিযোগ ছিল আত্মপক্ষ সমর্থনের যথেষ্ট সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত। শিয়ালদহ আদালতের কাছে নিজেদের আইনি জোরালো যুক্তি পেশ করতে চেয়ে আবেদন করে দুই অভিযুক্ত নার্সিং ছাত্রী। আদালত দু-দুবার অক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছে। এক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য দু’বারই বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে অভিযুক্ত দুই নার্সিং ছাত্রী অনুপস্থিত থেকেছে মামলার শুনানিতে। ফলে মামলায় দেরি হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, ১৩ জানুয়ারি ২০২০ শিয়ালদহ আদালতে আইনজীবী মারফত নিজেদের আইনি যুক্তি তুলে ধরবে দুই অভিযুক্ত নার্সিং ছাত্রী। কুকুর শাবক হত্যার বিচার কবে হবে? ঘটনার এক বছর পরেও প্রশ্নটা তাই রয়েই যায়।

First published: January 12, 2020, 11:31 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर