কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কালী ঠাকুর বিসর্জনের পরেই বারাসতে পুকুরে ভেসে উঠল মরা মাছ !

কালী ঠাকুর বিসর্জনের পরেই বারাসতে পুকুরে ভেসে উঠল মরা মাছ !

এবার বারাসতের কালী পূজায় ছিল না কোন জৌলুস।তাতে কি পূজা হয়েছে গতবারের মত।ফলে কালী ঠাকুর বিসর্জন হয়েছে শহরের মধ্য থাকা পুকুর গুলোতে।

  • Share this:

#বারাসত: এবার বারাসতের কালী পূজায় ছিল না কোন জৌলুস।তাতে কি পূজা হয়েছে গতবারের মত।ফলে কালী ঠাকুর বিসর্জন হয়েছে শহরের মধ্য থাকা পুকুর গুলোতে। বারাসাতের রথতলা এলাকার দীঘির পুকুরের এমন বহু কালী প্রতিমার বিসর্জন হয় গত কয়েক দিনে।অভিযোগ,পুকুরটিতে  প্রতিমা বিসর্জন পর রং ও বর্জ্য জলে বিষক্রিয়া ঘটায়।আর জেরে অজস্র মাছের মৃত্যু ঘটেছে।আজ বধুবার সকালে পুকুরে ভাসতে থাকে মরা মাছ।

দুর্গাপুজোর সময়ে বারাসত পুরসভা কাঠামো সময় মত তুলে নিয়েছিল।কিন্তুু কালীপুজোর সময় অবহেলায় মৃত্যু হল  সহস্রাধিক মাছের, এমনটাই অভিযোগ ।  প্রতিশ্রুতি আর হাঁক ডাকই সার বারাসাত পুরসভার। অবহেলায় ঠাকুর ভাসানের  কাঠামো না তোলার খেসারত দিতে হলো রথতলার দীঘির পুকুরের মাছ ব্যবসায়ী ও পুকুর মালিকের ।দিঘীর পুকুরের এমন দূষণ ঘটায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা ।

প্রতিমার  কাঠামোর সঙ্গে বিষাক্ত রং জলে মিশে যাওয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ মরেছে বলে দাবী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের । গত বছরও বাগুইহাটির একটি পুকুরে সব মাছ দূর্গাপুজোর নিরঞ্জনের পরে মরে ভেসে ওঠে। এচিত্র গত বছর পুজোর সময় অনেক পুকুরে দেখা যাওয়ায় পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দাবী করেছিলেন যে সমস্ত  ছোটো পুকুর, খালে মাছ চাষ হচ্ছে সেখানে প্রতিমা বিসর্জন বিপজ্জনক কারণ সেখানে নজরদারি প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন তারা । বারাসাতে দীঘির বেশ বড় একটা  পুকুর । বিশালয়তন এই পুকুরে পাঁচ লক্ষ টাকার মাছ ছাড়া হয়েছিল ।অধিকাংশ মাছ বিষক্রিয়ায় মৃত হয়েছে। মূলত বাটা, সিলভার কার্প  প্রচুর সংখ্যায় মারা গেছে। এছাড়াও বেশ কিছু  রুই -কাতলা ও মরে গেছে।   বারাসাত পুরসভার 30 নম্বর  ওয়ার্ডের   দিঘির পুকুরের   রজত ঘোষ নামে এক ব্যক্তি প্রায় ৫ লক্ষ টাকার মাছ ছেড়ে চাষ করেছিলেন । এই মাছ চাষ শুরুর  দীর্ঘ কয়েকমাস পরে অন্তত  প্রায় বারো তেরো লাখ টাকা বাজার মূল্যের মাছের মৃত্যু হয়েছে বলে আশংকা তাঁর।

প্রতিবছর এই পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন  হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কাঠামো তুলে নেওয়া হয়।কিন্তুু এবছর সেই কাঠামো তোলেনি পুরসভা।   প্রায় ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকার মাছ মারা যাওয়ার  অভিযোগ তুলেছেন দীঘির পুকুরের মুল মাছ ব্যবসায়ীর ম্যানেজার  সঞ্জীব নাগ। ঐ মাছ ব্যবসায়ীর মতে প্রতিমার রঙের   রাসায়নিক মিশে গিয়ে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে ।পৌরসভার অন্যতম প্রশাসক অশনি মুখোপাধ্যায়  তদন্তের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, পৌরসভার তরফে সিদ্ধান্ত নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে। তদন্ত করে  দেখা হবে প্রতিমা বিসর্জন না অন্য কোন কারনে মাছের মৃত্য হল তা।তার পরই  ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।পৌর প্রশাসক অবশ্য  অন্তর্ঘাতের আশঙ্কাকও উড়িয়ে দেন নি  এদিন।

তদন্তর ফল যাই হোক না কেন, বারাসাতের পুকুরে কাতারে কাতারে মাছের মৃত্যু নিশ্চিত ভাবে প্রকট করল পরিবেশ ঘিরে অবহেলা । আরেকবার মাছভরা  পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জনের পরে মাছের নিধনলীলা নিশ্চিত করল   পরিবেশের ভারসাম্য  রক্ষায় ব্যর্থ হয়ে চলেছে  মানুষ। দায়ভার এড়াবার প্রচেষ্টা তবু চলছেই ।

Published by: Akash Misra
First published: November 18, 2020, 8:41 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर