কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

তিন তালাক নিয়ে লড়াইয়ের মুখ ইশরত জাহানের পর এবার বিজেপিতে ইশরতের আইনজীবীও

তিন তালাক নিয়ে লড়াইয়ের মুখ ইশরত জাহানের পর এবার বিজেপিতে ইশরতের আইনজীবীও
Ishrat Jahan with her lawyer Nazia Elohi Khan Photo: PTI
  • Share this:

 #কলকাতা: তিন তালাক প্রথাকে অবৈধ ঘোষণা করার দেশব্যাপী লড়াইয়ের অন্যতম মুখ ছিলেন এই দুই নারী- ইশরত জাহান ও নাজিয়া এলাহি ৷ ইশরতের পর এবার তাঁর আইনজীবীও নাজিয়াও যোগ দিলেন গেরুয়া শিবিরে ৷ শুধু নাজিয়া নয়, বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে আরও ১৫০ জন সংখ্যালঘু মহিলা যোগ দিলেন বিজেপিতে ৷ দলের তরফে তাদের সকলের হাতে বিজেপির দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ৷ পাশে ছিলেন মুকুল রায় ৷

একদিন তিন তালাককে অবৈধ ঘোষণা করার পদক্ষেপ নিতে দেরি করায় পুড়িয়েছিলেন মোদি সরকারের কুশপুতুল ৷ আজ সেই হাতেই বিজেপির পতাকা তুলে নিলেন তিন তালাক মামলার অন্যতম আইনজীবী নাজিয়া এলাহি ৷ তিন তালাকের বিরুদ্ধে ইশরত জাহানের দায়ের করা মামলা লড়েছিলেন নাজিয়াই ৷ শুধু আইনজীবী নয়, সমাজসেবী হিসেবেও পরিচিতি আছে নাজিয়ার ৷ তবে সূত্রের খবর, তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সির অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন নাজিয়া।

গত শনিবারই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ইশরত জাহান ৷ যে পাঁচজন তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রথা অবৈধ ঘোষণার দাবিতে লড়াই করেছিলেন, তাঁদের একজন হাওড়ার ইশরত জাহান। ২০১৫ সালে হঠাৎই দুবাই থেকে ফোন করে পনের বছরের বিবাহিত জীবনে ইতি টানেন ইশরতের স্বামী মহম্মদ মোর্তাজা আনসারি। ফোনে তিন তালাক বলে জানিয়ে দেন, তিনি অন্য একজনকে নিকাহ করতে চলেছেন। পর পর তিন মেয়ে জন্মানোয় দুবাইয়ে কর্মরত মোর্তাজা আস্তে আস্তে ইশরতের থেকে দূরে সরে যাচ্ছিলেন। পনের বছরের দাম্পত্য জীবনে ফাটল বড় হতে শুরু করেছিল। মাঝে মধ্যেই ফোনে ঝগড়া হত। ছেলে জায়েদ জন্মানোর পরপরেও সে ফাটল জোড়া লাগেনি। মোর্তাজা হুমকি দিতেন ফের নিকাহ করার।

একদিন ফোনে এ রকম ঝগড়ার মাঝেই পর পর তিনবার তালাক বলে ইশরতকে বর্তমান থেকে প্রাক্তন স্ত্রী করে দেন মোর্তাজা। শুধু তিন তালাক বলেই থেমে থাকেননি মোর্তাজা। ইশরত পরে অভিযোগ করেছিলেন, মোর্তাজা দুবাই থেকে ফিরে তাঁদের চার সন্তানকে ইশরতের থেকে কেড়ে নেন। তাদের নিয়ে বিহারের গ্রামে গিয়ে আবার একটা নিকাহ করেন।

এদিকে হাওড়ার বাড়িতে একটা মাত্র ঘর আঁকড়ে লড়াই শুরু করেন ইশরত জাহান। শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চেয়েছিলেন, ওই ঘরটুকুও ছেড়ে চলে যান ইশরত। নিয়মিত গালিগালাজ, মানসিক অত্যাচার, এমন কি তাঁর ঘরের ইলেকট্রিক সাপ্লাইও কেটে দেওয়া হয়। চরম মানসিক চাপের কাছে মাথা না নুইয়ে উপায় খোঁজার চেষ্টা শুরু করেন ইশরত। যে করেই হোক অন্তত সন্তানদের ফিরে পেতে হবে। এ সময় আলাপ হয় আইনজীবী নাজিয়া ইলাহির সঙ্গে। শুরু হয় আইনি লড়াই।

একদিকে আইনি লড়াই চলেছে। পাশাপাশি চলেছে সামাজিক লড়াই। না পরিবার, না আত্মীয় পরিজন কেউ মেনে নিতে পারেনি ইশরতের লড়াই। সামান্য ভরসাটুকু জোটেনি কোথাও। প্রতিবেশীদের গন্ধি ওউরাত তকমা জুটেছিল কপালে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ইশরত জাহান। অবশেষে আইনি লড়াইয়ে সাফল্য। তালাক এ বিদ্দত অসাংবিধানিক ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মামলাকারীদের একজন হিসেবে ইশরত জাহানের লড়াইও ইতিহাসের পাতায় উঠে গেল। তবে ইশরত বিশ্বাস করেন, লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তালাক এ বিদ্দতের সঙঅগে যে অপমান জড়িয়ে রয়েছে সেখান থেকে মেয়েদের বের করে আনা সবচেয়ে জরুরি।

দলে এমন দুই প্রতিবাদী মুখতে পাশে পেয়ে গর্বিত দিলীপ ঘোষ ৷ বিজেপি রাজ্য সম্পাদক বলেন, ‘এতেই প্রমাণিত মানুষ নরেন্দ্র মোদির উপর ভরসা রাখছেন। আর নাজ়িয়া শুধুমাত্র আইনজীবী নন। উনি সমাজসেবী। ইশরতের সঙ্গে সঙ্গে ওর যোগদানে দল অনেকটাই শক্তিশালী হল।’

First published: January 4, 2018, 8:39 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर