ককটেলেই কাল! রাম-হুইস্কির মাত্রাতিরিক্ত নেশাতেই ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু যাদবপুরের গৃহবধুর

ককটেলেই কাল! রাম-হুইস্কির মাত্রাতিরিক্ত নেশাতেই ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু যাদবপুরের গৃহবধুর
  • Share this:

SUJOY PAL

#কলকাতা: কেউ ধাক্কা দেয়নি। আত্মঘাতীও হননি। ছাদ থেকে দুর্ঘটনাবশত পড়ে গিয়েই মৃত্যু হয় যাদবপুরের পোদ্দারনগরের বাসিন্দা গৃহবধূ সুইটি সূত্রধরের। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে তেমনটাই জানানো হয়েছে পুলিশকে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাস্থল থেকে তেমন বেশকিছু নমুনা পেয়েছেন যা ইঙ্গিত করে যে ছাদ থেকে পড়েই গিয়েছিলেন সুইটি।

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, 'fall from height and accidental in nature'। যার সারমর্ম, দুর্ঘটনাবশত উঁচু কোনও জায়গা থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু। এছাড়া রিপোর্টে বলা হয়েছে, সুইটির পাকস্থলিতে প্রচুর পরিমাণ মদ পাওয়া গিয়েছে। হুইস্কি ও রাম দু'রকমের মদ প্রচুর পরিমাণে পেটে মিলেছে। দুই রকম মদের নেশায় বুঁদ হয়ে যাওয়ার জেরেই বেসামাল হয়ে পাঁচতলার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় সুইটির, প্রাথমিক তদন্তে তেমনটাই মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে খবর, বর্ষবরণের রাতে স্বামী কুন্তলের সঙ্গে গড়িয়াহাটের একটি পানশালায় যান সুইটি। সেখানে খাবার সহযোগে হুইস্কি পান করেন দু’জন। তারপর বাড়ি ফিরে আবার মদ খাওয়ার ইচ্ছা হয় তাঁদের। বাড়ির ছাদে পার্টি হচ্ছে শুনে সেখানে চলে যান। কিন্তু সেখানে মদ্যপানের ব্যবস্থা নেই বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়।

2211_IMG-20200102-WA0021

তারপর কুন্তল নিজেদের উদ্যোগে মদ আনিয়ে স্বামী-স্ত্রী মিলে আবার মদ্যপান করেন। কুন্তল পুলিশকে জানিয়েছে, হুইস্কির পর রাম এনে খাওয়ার পর থেকে তাঁর আর হুঁশ ছিল না। পার্টিতে উপস্থিত সবাই তাঁকে ঘরে দিয়ে আসে। সুইটিও যায়। কিন্তু কুন্তলকে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পর সুইটি ফের ছাদে চলে আসেন বেসামাল অবস্থায়।

বারণ করার পরেও ফের ছাদে যাওয়ার জন্য প্রতিবেশী যাঁরা পার্টি করছিলেন তাঁরা একে একে সবাই ঘরে চলে যান। কিন্তু তখনও বেসামাল অবস্থায় ছাদে একাই ছিলেন সুইটি। তারপর আরও বেশি রাতে বিকট জোরে একটি শব্দ শোনা যায়। সঙ্গে গোঙানির আওয়াজও মেলে। সেই খবর পুলিশকে জানানো হলেও পুলিশে এসে কিছু পায়নি। পরদিন সকালে ফ্ল্যাটের মাঝে একটি বদ্ধ জায়গা থেকে রক্তাক্ত দেহ মেলে সুইটির। বছরের প্রথম দিন যাদবপুরের পোদ্দারনগরে ফ্ল্যাটের ভিতরে সুইটি সূত্রধরের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রাথমিক ভাবে সেই ঘটনা নিয়ে একাধিক সন্দেহ দানা বাধে। সন্দেহ যায় মৃতার স্বামীর দিকে। লাগাতার জেরা করা হয় কুন্তলকে। প্রথম থেকেই তাঁর বক্তব্য ছিল, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তাঁর হুশ ছিল না। তাই স্ত্রী ঘরে ফিরেছেন কিনা জানতেন না তিনি। পরদিন স্ত্রীকে না পেতেই পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।

তারপর থেকে প্রশ্ন ওঠে, কেউ কি বিউটিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিল, নাকি সে আত্মঘাতী হল, নাকি মদ্যপানের কারণে বেসামাল হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। শেষমেষ ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সব জট কাটলো। সুইটির পরিবারের তরফেও কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

First published: 10:13:50 PM Jan 02, 2020
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर