ভাজা সুজি ও পাখির খাবার মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল পোস্ত!

ভাজা সুজি ও পাখির খাবার মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ভেজাল পোস্ত!
ভেজাল পোস্ত
  • Share this:

#কলকাতা: পোস্তর প্যাকেটের বাইরে লেখা 'নকল হইতে সাবধান'। কিন্তু প্যাকেটের ভিতরে যে পোস্ত রয়েছে তার অর্ধেকের বেশিই ভেজাল। অর্থাৎ পোস্তর সঙ্গে মেশানো রয়েছে ভাজা সুজি, পাখির খাবার।

ঘিয়ের পর পোস্তায় এবার ভেজাল পোস্ত কারখানায় হানা দিল পুলিশ। কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ (ইবি) বুধবার পোস্তার ৮বি বরোদা ঠাকুর লেনে ওই কারখানায় হানা দিয়ে প্রচুর ভেজাল পোস্ত ও তা তৈরির সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে। ইবি সূত্রে খবর, পোস্ত ভেজাল করার পর বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ছোট ছোট প্যাকেটে ভরে পাইকারি ও খুচরো বাজারে বিক্রি করা হত।

কীভাবে ভেজাল করা হয় পোস্ত?

কারখানায় হানা দিয়ে কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানতে পেরেছেন ইবি অফিসারেরা। জানা গিয়েছে, কমদামি পোস্ত কিনে তা ভেজাল করা হত। প্রথমে সুজি ভেজে নিয়ে আসল পোস্তর মতো রং আনা হত। তারপর পাখির খাবারের দানা ভাঙিয়ে পোস্তর মত আকারে নিয়ে আসা হত। এরপর সমপরিমাণ পোস্তর মধ্যে মেশানো হত ভাজা সুজি ও পাখির খাবারের গুঁড়ো। এখানেই শেষ নয়। সব উপকরণ মেশিনে ভালো করে মিশিয়ে নেওয়া হত।

এবার পাকেজিংয়ের পালা। ভেজাল পোস্ত তৈরির পর স্বয়ংক্রিয় মেশিনে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নকল প্যাকেটে ভরে নেওয়া হয়। এরকম ছোট ছোট প্যাকেটে ভরার পর বাজারে বিক্রি করা হত। প্রত্যেক প্যাকেটের উপরেই লেখা 'নকল হইতে সাবধান'। এক ইবি অফিসার বলেন, "সুজির থেকেও কম দাম পাখির দানা খাবারের। তাই পোস্তর সঙ্গে সুজি ও পাখির খাবার মেশানো হয়।"

ইবি সূত্রে খবর, ভেজাল পোস্ত তৈরির কারখানায় হানা দিয়ে ৭৫ কেজি ভেজাল পোস্ত, ১০০ কেজি পাখির খাবার, ২০০ কেজি সুজি, ৩০০ কেজি পোস্ত দানা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মিলেছে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেট ও প্যাকেজিং মেশিন। কুশল গোয়েল নামে ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে এই ভেজাল পোস্ত তৈরির ব্যবসা চালাচ্ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাজেয়াপ্ত করা ভেজাল পোস্ত পাঠানো হয়েছে পরীক্ষাগারে।

এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ডিসি বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, "বাজেয়াপ্ত হওয়া সামগ্রী পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।"

SUJOY PAL

First published: February 5, 2020, 11:56 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर