প্রকাশিত মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড ,অভিযোগ জানাতে টোল ফ্রি নম্বর চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী

টানটান উত্তেজনার শেষ। অবশেষে বেরোল রেজাল্ট। ফলাফল দেখে কেউ বেশি খুশি, কেউ কম। কেউ আবার মনে মনে প্রতি়জ্ঞা করছেন, আরও ভালো করে কাজ করতে হবে।

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 06, 2017 07:33 PM IST
প্রকাশিত মন্ত্রীদের রিপোর্ট কার্ড ,অভিযোগ জানাতে টোল ফ্রি নম্বর চালু করলেন মুখ্যমন্ত্রী
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Jan 06, 2017 07:33 PM IST

#কলকাতা: টানটান উত্তেজনার শেষ। অবশেষে বেরোল রেজাল্ট। ফলাফল দেখে কেউ বেশি খুশি, কেউ কম। কেউ আবার মনে মনে প্রতি়জ্ঞা করছেন, আরও ভালো করে কাজ করতে হবে। তবে, রেজাল্ট আউটের শেষে মধ্যাহ্নভোজের মেনু দেখে সবার দিলখুশ। প্রশাসনিক বৈঠকের পর ভরপেট খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুললেন মন্ত্রীরা। শুক্রবার টাউন হলের প্রশাসনিক বৈঠকে টাকা খরচ ও কাজের নিরিখে মন্ত্রীদের মূল্যায়ন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কে কত মার্কস বা নম্বর পাবেন? তার মানদণ্ড ছিল কোন মন্ত্রী কতটা খেটেছেন, কাজ করেছেন এবং বরাদ্দ টাকাই বা খরচ করেছেন কতটা। সেই নিরিখে শুক্রবার টাউন হলে রাজ্যের মন্ত্রীদের মূল্যায়ন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর রিপোর্ট কাজে ভাল নম্বর পেয়ে দৌড়ে এগিয়ে অর্থ ও শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্র, পঞ্চায়েত ও জনস্বার্থ কারিগরিমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় এবং পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। প্রথম দশে জায়গা করে নিয়েছেন, পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এগিয়ে রয়েছেন জলসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র, পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়নমন্ত্রী শান্তিরাম মাহাত, পূর্ত ও ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসুও।

খুব খারাপ রেজাল্ট না হলেও কিছু মন্ত্রী আবার প্রথম দশে জায়গা করে নিতে পারেননি। তাই তাঁরা বাকিদের থেকে দৌড়ে একটু পিছিয়ে। সেই তালিকায় রয়েছেন, পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব, দমকল ও আবাসনমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য, বিপর্যয় মোকাবিলামন্ত্রী জাভেদ খান এবং শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক।

রিপোর্ট কার্ডে খারাপ নম্বর পেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে, নারী, শিশু ও সমানকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা, বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এবং কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী অসীমা পাত্র।

খুব ভাল কাজের তালিকায় নিজের হাতে থাকা সংখ্যলঘু উন্নয়ন এবং তথ্য-সংস্কৃতি দফতরকেও রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর রোষের মুখেও পড়তে হয় একাধিক মন্ত্রীকে। গ্রামে গ্রামে লো-ভোল্টেজের সমস্যার জন্য ধমক খান বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৷ কাজের থেকে প্রচার বেশি হচ্ছে বলেন ক্রেতাসুরক্ষা মন্ত্রী সাধন পাণ্ডেকে ধমক দেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ আইসিডিএস প্রকল্পের কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভের মুখে পড়েন মন্ত্রী শশী পাঁজা ৷ আরও ভাল কাজ করার নির্দেশ দেন সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায়কে ৷

মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাজে খুশি হলেও একটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ ‘কলকাতা আই’ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও সন্তুষ্ট নন মুখ্যমন্ত্রী ৷ ওই প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হল পুরসভাকে ৷ এর আগে এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ৷ প্রথম দশে থাকলেও পঞ্চায়েত দফতরের হিসেব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ পঞ্চায়েত দফতরের দেওয়া খরচের হিসেবের সঙ্গে বাস্তবের ফারাক রয়েছে বলে মন্তব্য করেন মমতা ৷

এদিন টাউন হলে বৈঠকে প্রশাসনিক সমন্বয়ে টোল ফ্রি ফোন নম্বর চালু করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক কাজে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে ৷ এজন্য সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ ৷ এই সমন্বয়ের অভাব দূর করতে হবে ৷ এজন্য চালু হচ্ছে বিশেষ নং ৮৬৯৭৫৬৫৬৫৬ ৷ মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, কোনও কাজে সমস্যা হলেই এই নম্বরে ফোন করুন ৷ আমরা ব্যবস্থা নেব ৷’ অভিযোগ পেলেই প্রশাসনিক আধিকারিকদের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর ৷

First published: 07:33:01 PM Jan 06, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर