• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ACTOR SAHEB BHATTACHARYA EXPRESS HIS EXPERIENCE AFTER CYCLONE AMPHAN SS

গাছ উপড়ে পড়েছে বাসস্টপে ! তার মধ্যে আটকে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি: সাহেব ভট্টাচার্য

প্রকৃতির কাছে আমরা সকলেই অসহায়, সে কথাটাই যেন আরও একবার মনে পড়ে গেল সাহেব ভট্টাচার্যের ৷

প্রকৃতির কাছে আমরা সকলেই অসহায়, সে কথাটাই যেন আরও একবার মনে পড়ে গেল সাহেব ভট্টাচার্যের ৷

  • Share this:

#কলকাতা: প্রকৃতি যেন রুখে দাঁড়িয়েছে মানব জাতির বিরুদ্ধে। এক তরফা অত্যাচারের প্রতিশোধ নিচ্ছে ধরিত্রী। করোনা জ্বরে পুড়ছে বিশ্ব। তার মধ্যেই আছড়ে পড়ল আমফান। ক্ষতিগ্রস্ত গোটা বাংলা। অনেকের চাষের জমি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বাড়ির চাল উড়ে গিয়েছে। আবার অনেকে স্বচ্ছল। প্রকৃত ভাবে হয়তো তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে মনে গভীর ক্ষত। তেমনই একজন মানুষ অভিনেতা সাহেব ভট্টাচার্য। আমফানের পরবর্তী বিপর্যয় দেখে শিউড়ে উঠেছেন তিনি।

সাহেবের দীর্ঘদিনের অভ্যস ঘুম থেকে একটু ভোরে উঠে হাঁটতে যাওয়া কিংবা সাইকেল নিয়ে ঘুরে আসা। দক্ষিণ কলকাতার সাদার্ন অ্যাভিনিউ, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট, লেক চত্তরটা ঢু মেরে আসেন রোজই। বৃহস্পতিবার সকালে বেরিয়ে কেমন যেন থমকে গেলেন তিনি। মনে হল, যেন সভ্যতার আগে পৌঁছে গিয়েছেন। সাহেবের কথায়, ‘পুরো শহরটা তছনছ হয়ে গিয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে যুদ্ধক্ষেত্র। দক্ষিণ কলকাতার এই চত্বরে প্রচুর গাছ পড়েছে ৷ চলাচল করা প্রায় অসম্ভব ৷’’ এমটাই জানালেন সাহেব।

অভিনেতার কথায়, ‘একটা ঘটনা দেখে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। ঠিক কী অনুভব করলাম বলে বোঝাতে পারব না। রোজ সকালে সাদার্ন অ্যাভনিউ-তে একজন মানসিক বিকারগ্রস্থ মানুষকে দেখি, রাস্তার ধারে বাস স্ট্যান্ডে বসে থাকতেন। ঘুম থেকে উঠে যেমন আমার চেনা ঘর, আসবাবপত্র দেখি, ঠিক তেমন। বৃহস্পতিবার সকালে দেখলাম, একটা গাছ ভেঙে বাসস্টপটার ওপরে পড়েছে। ওই মানুষটা আহত অবস্থায় ভেতরে আটকে রয়েছেন। চিৎকার করছেন না, কাউকে ডাকছেন না। চুপচাপ আটকে রয়েছেন। মনে যেন কেউ আলপিন ফুটিয়ে দিল। মনে হল এই অবস্থাটা আমারও হতে পারত। পুলিশকে খবর দিলাম। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিলেন। তবে এই ঘটনার রেশ মন থেকে যাচ্ছেন না।’’

সাহেবের নতুন ঠিকানা বালিগঞ্জ। সেখানে একাই থাকেন তিনি। বুধবার রাতে আভাস পেয়েছিলেন। তিনি বললেন, ‘‘বাবা-মা গল্ফগ্রিনে থাকেন। ঝড়ের সময় তাঁদের জন্য চিন্তা হচ্ছিল। মা ভয় পেয়ে বার বার ফোন করছিলেন। আমার গল্ফ গ্রিনের বাড়ির সামনের একটা গাছ মিনি বাসের ওপর ভেঙে পড়েছে। মিনি বাসটা দু’টুকরো হয়ে গিয়েছে। ভাগ্যিস সেখানে কেউ ছিল না। কারও ক্ষতি হয়নি।’’

প্রকৃতির কাছে আমরা সকলেই অসহায়, সে কথাটাই যেন আরও একবার মনে পড়ে গেল সাহেবের।

Arunima Dey

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: