রবিবার মোদির ব্রিগেডে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী! বিজেপিতে যাচ্ছেন?

রবিবার মোদির ব্রিগেডে মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী! বিজেপিতে যাচ্ছেন?

রবিবার মোদির ব্রিগেডে মিঠুন চক্রবর্তী!

সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক সভায় এভাবে আসার অর্থ কি এই মেগা সভা থেকেই বিজেপিতে যোগদান?

  • Share this:

#কলকাতা: অতীতে বারংবার জল্পনা তৈরি হচ্ছে, তা মিথ্যে বলেও প্রমাণিত হয়েছে অচিরেই। তবে এবার সমস্ত মিথ-মিথ্যের ধোঁয়াশা সরিয়ে রেখে মহাগুরু এন্ট্রি নিতে চলেছেন রাজনীতির মঞ্চে। হ্যাঁ, সূত্র মারফত খবর, আগামী রবিবার, ৭ তারিখ মোদির মঞ্চে দেখা যাবে তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ, বর্ষীয়াণ অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীকে। দুপুর দুটো নাগাদ ব্রিগেড মঞ্চে এসে পৌঁছবেন নরেন্দ্র মোদি। সম্ভবত তার কিছুটা আগেই মঞ্চে উঠবেন মহাগুরু। মঞ্চে থাকবেন পুরো সময়টাই। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক সভায় এভাবে আসার অর্থ কি এই মেগা সভা থেকেই বিজেপিতে যোগদান? এ প্রশ্নের উত্তর অবশ্য এখনও মেলেনি, তবে তাঁর মঞ্চে থাকাটা একরকম প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই নাটকের প্রথমার্ধটি অবশ্য রচিত হয় গত মাসে। বসন্তপঞ্চমীর সকালে অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তীর মুম্বই মাড আইল্যান্ডের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। সেদিন তিনি প্রাতরাশ সারেন মিঠুনের পরিবারের সঙ্গেই। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনীতির তুমুল ভাঙাগড়ার মধ্যে আরবসাগরের তীরে এই সাক্ষাৎকারে প্রবল জল্পনা ছড়ায় সুদূর বাংলায়। প্রশ্ন ওঠে তবে কি এখান থেকেও কোনও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা? মিঠুনের সমর্থন চাইছে সংঘ পরিবার?

অবশ্য সেদিন প্রশ্নটা শুনে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে একগাল হেসেছিলেন মিঠুন। উড়িয়ে দিয়েছিলেন সমস্ত জল্পনা। তাঁর যুক্তি কোনও রাজনৈতিক বোঝাপড়া নয়, এই সাক্ষাৎ ছিল নিতান্তই সৌজন্যের, সৌহার্দ্যের।

মিঠুন সেদিন বলেন, "আমার সঙ্গে ওঁর আধ্যাত্মিক সম্পর্ক। আগেই কথা হয়েছিল এখানে এলে বাড়ি আসবেন।" কিন্তু এই সময়েই দেখা হওয়া, বসন্তপঞ্চমীর সকালটা এক সঙ্গে কাটানো এ কি নিছকই কাকতালীয়? মিঠুন সেদিন বলেছিলেন, "আমি লখনউ থেকে শুটিং করে ফিরলাম। উনি মুম্বইতেই ছিলেন। আমার সঙ্গে দেখা করলেন। প্রাতরাশ সারেন। আমাকে সপরিবারে নাগপুরে যেতেও বলেন।"

তারপর হুগলি নদীতে জল বয়েছে অবিরল। ঘুরেছে রাজনীতির চাকা।  আজ মোদির সমাবেশে মিঠুনের উপস্থিতি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় অনেকেই মনে করছেন, সেতুবন্ধনটা আসলে করেছিলেন সংঘপ্রধানই। পাশাপাশি উঠে আসছে আরেকটি প্রশ্নও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোন বলে সম্বোধন করতেন মিঠুন। সেই সম্পর্কে কখনও কোনও চিড় ধরা পড়েনি। মিঠুন প্রকাশ্যে সব সময় বলে এসেছেন, এই সম্পর্কটা তাঁর কাছে সব কিছুর চেয়ে বড়। তাহলে কি এই ঘটনা কি মধুর সেই সম্পর্কে ফাটলেরই ইঙ্গিত?

৭ মার্চ পর মহাবিস্ময় একটু একটু করে পরিষ্কার হবে বলে সূত্রের দাবি। চাকার মাণিক মণ্ডল চাকা ঘোরানোর স্বপ্ন দেখেছিল। তবে কি রিলের মাণিক বাস্তবের মিঠুন দিন বদলের চাকা ঘোরাতে চাইছেন? পরিবর্তনের পরিবর্তন যজ্ঞে সামিল হতে চলেছেন? উত্তর দেবে সময়।

Published by:Arka Deb
First published: