কিডনিকাণ্ডে গ্রেফতার দীপক কর

কিডনিকাণ্ডে গ্রেফতার দীপক কর

অবশেষে কিডনিকাণ্ডে গ্রেফতার করা হল দীপক করকে ৷ কিডনি পাচার চক্রের চাঁই টি রাজকুমার রাওয়ের সহযোগী ছিল দীপক ৷

  • Share this:

#কলকাতা: অবশেষে কিডনিকাণ্ডে গ্রেফতার করা হল দীপক করকে ৷ কিডনি পাচার চক্রের চাঁই টি রাজকুমার রাওয়ের সহযোগী ছিল দীপক ৷ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগেই আটক করা হয়েছিল তাকে ৷ শেষমেশ শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷

দীপক করকে শুক্রবারই বারাসত আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ ৷ তদন্তের স্বার্থে আদালতে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানাবে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল ৷

গত কয়েকদিনে কিডনি পাচার চক্র নিয়ে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ৷ নয়াদিল্লির হাসপাতাল হয়ে ভারত সহ ৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল আন্তর্জাতিক কিডনি পাচার চক্র। বুধবার কলকাতা থেকে গ্রেফতার হয় সেই কিডনি পাচার চক্রের মূল চক্রী টি রাজকুমার রাওকে। কলকাতা ও দিল্লি পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গ্রেফতার করা হয় রাজকুমার রাওকে।

নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ায় কিডনি পাচারের চক্র। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাঁচ ডোনার ও চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের সূত্রেই খোঁজ মেলে টি রাজকুমার রাওয়ের । এরপর মঙ্গলবার কলকাতা পুলিশ ও রাজারহাট থানার পুলিশের সাহায্য নিয়ে অভিযান চালানো হয় । এরপরই রাজারহাটের খামা এলাকায় পুলিশের জালে পড়ে কিডনি পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা টি রাজকুমার রাও।

আরও জানতে পড়ুন: 

Loading...

কলকাতা থেকে গ্রেফতার আন্তর্জাতিক কিডনি পাচার চক্রের মূল পাণ্ডা

তদন্ত করতে করতে পুলিশ পৌঁছায় টি রাজকুমার রাওয়ের সহযোগী দীপক করের কাছে ৷ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রচুর তথ্য উঠে আসে পুলিশের হাতে ৷ হাসপাতাল, রোগী, দরিদ্র পরিবার ও চিকিৎসক। কিডনি চক্রের জাল ছুঁয়ে রয়েছে সবাইকে। দক্ষিণ ভারত থেকে কলকাঠি নাড়ত টি রাজকুমার। তার নির্দেশে কাজ করত কলকাতার চাঁই দীপক কর। কীভাবে কাজ করে এই পাচার চক্র। হাসপাতালে দালালের মতো কাজ করত দীপক ৷ টাকার বিনিময়ে রোগী দেখানোর ব্যবস্থা করে দিত ৷ কেউ ভর্তি বাতিল করলে দ্বিগুন টাকা চেয়ে চাপ দেওয়া হত সেই পরিবারকে ৷

কিডনির সমস্যায় কিডনির সমস্যায় রোগী বা তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় ৷ দ্রুত প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যে চক্রের শরণ নেয় পরিবার ৷ রোগীর পরিবারের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি চূড়ান্ত হয় ৷

এরপর কিডনি দিতে ইচ্ছুক দরিদ্র মানুষ বা আর্থিক সঙ্কটে থাকা মানুষকে প্রলোভন দেওয়া হয় ৷ বিপুল টাকা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেয় চক্র ৷ হাসপাতালে ভর্তি করে কিডনি বের করে নেওয়া হয় ৷ কিডনি বের করা ও প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া হয় হাসপাতালে ৷ রোগী ও দরিদ্র ব্যক্তির অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা ৷

হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের একাংশের ভূমিকাও তাই সন্দেহের আওতায়। তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

রোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা হওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রক্রিয়া শেষ করে চক্র, যাতে জানাজানি হওয়ার সুযোগ না থাকে। লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন হয় রোগী ও আর্থিক সঙ্কটে থাকা পরিবারের মধ্যে। এদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের জন্য বিশ্বস্ত কর্মীদের কাজে লাগায় চক্রের পাণ্ডারা। পুরো প্রক্রিয়া আড়াল থেকে পরিচালনা করে চক্রের পাণ্ডারা।

দীপকের অধীনে প্রচুর এজেন্ট কাজ করত ৷ বিভিন্ন রাজ্যে কিডনি পাচারের জন্য রোগী সরবরাহ করা হত ৷ রোগীদের নাম রাজকুমারের কাছে পাঠাত দীপক ৷ ২০১১-তে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের হয় ৷ কিন্তু থানা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ ৷ অবশেষে এদিন দীপককে গ্রেফতার করল পুলিশ ৷

First published: 09:32:17 AM Jun 10, 2016
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर
Listen to the latest songs, only on JioSaavn.com