আজ শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া দফতর নিয়ে মমতার উষ্মা, কালই পূর্ব মেদিনীপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়!

ইয়াস বিধ্বস্ত অঞ্চল পরিদর্শনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র

Abhishek Banerjee- বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় তিনি পৌঁছবেন রামনগর। তারপর একে একে ঘুরে দেখবেন তাজপুর, মন্দারম‌নি। যাবেন সাইক্লোন রিলিফ সেন্টারে, জানবেন মানুষের সুবিধে অসুবিধে।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা নাম না নিলেও মুখ্যমন্ত্রী  বুঝিয়ে দিয়েছেন সাইক্লোন মোকাবিলার কাজের প্রশ্নে তাঁর নিশানায় রাজ্যের একদা সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রাক্তন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে পা রাখতে চলেছেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় তিনি পৌঁছবেন রামনগর। তারপর একে একে ঘুরে দেখবেন তাজপুর, মন্দারম‌নি। যাবেন সাইক্লোন রিলিফ সেন্টারে, জানবেন মানুষের সুবিধে অসুবিধে।

এ দিনই সেচ দফতরের কাজ নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন , প্রতি বছর‌ই ইরিগেশন এর নামে বাঁধ তৈরি করছি, প্রতি বছর‌ই সেটা ভেঙে যাচ্ছে। কেন ভেঙে যাচ্ছে ? ৫ কোটি ম্যানগ্রোভ বসানো হলো। সেগুলো কোথায় গেল ? " এখানেই শেষ নয়, মমতা রীতিমতো সময় বেধে দেন তদন্তের। বলেন, গত বছর আমফানের সময় যে গাছগুলো পরে গিয়েছিলো, সেই গাছগুলো যে যে দফতর তুলেছে তাদের কাছ থেকে জানতে হবে গাছগুলো কোথায় গেল। তিনদিনের মধ্যে এই রিপোর্ট চাই।" মমতা নাম না করলেও বুঝতে অসুবিধে হওয়ার কথা নয়, তাঁর তির রাজীব-শুভেন্দুদের দিকে। আজ কারও নাম না নিলেও, এই একই বিষয় নিয়ে ক্ষোভ চেপে রাখেননি অভিষেকও। তিনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনিক। তবে হ্য়াঁ অন্যায় করে কেউ দায় এড়াতে পারেন না। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি বুঝে নেবেন।

আজ অভিষেক নিজে সরেজমিনে ঘুরে দেখেছন উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার সাইক্লোন বিধ্বস্ত এলাকাগুলি। দল যেন মানুষের এই দুর্দিন তাদের পাশে থেকে সঠিক ভাবে কাজ করে, দুই জেলায় সেই বার্তা নিয়েই গিয়েছেন অভিষেক। আর তাঁর পরের গন্তব্যই পূর্ব মেদিনীপুর। উল্লেখ্য এদিন দিঘা নিয়েও এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মমতা। তিনি বলেছেন দিঘা নিয়ে একটা পরিকল্পনা করতে হবে। দিঘায় সৌন্দার্যায়নের কাজ যারা (যে ঠিকাদার সংস্থা) করেছিলো তাঁরা ঠিকমতো কাজ করেনি। এটা নিয়ে তদন্ত হ‌ওয়া উচিত।  এর পরে অভিষেকের যাত্রার তাৎপর্য আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

গত এক দশকে লড়াইয়ের ময়দানে থাকলেও, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছেন শেষ বিধানসভা নির্বাচনে। প্রধানমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা বারংবার তাঁকে নিশানা করেছেন।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ অনুসরণ করেই তিনি গোটা বাংলা চষে বেরিয়েছেন। পরিশেষ জনমতই বুঝিয়ে দিয়েছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা। আর এই চলাচলে বারংবার অভিষেকের নিশানা ছিল পূর্ব মেদিনীপুর। শুভেন্দু অধিকারীকে এক ইঞ্চিও জমি ছাড়েননি ্অভিষেক। সভা করেছেন তাঁর ঘরের মাঠে। মমতা-অভিষেক হাওয়ায় পূর্ব মেদিনীপুরের অধিকারী-গড় তকমাও ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে। সেই পর্ব এখন অতীত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও একবার মসনদে। তবে তিনি যে দুর্নীতির প্রশ্নে কাউকেই ছেড়ে কথা বলবেন না তাও বুঝিয়ে দিয়েছেন এদিন। আর এর মধ্যেই অভিষেকের পূর্ব মেদিনীপুর যাত্রা। এই ঘটনার  রাজনৈতিক তাৎপর্য অনস্বীকার্য। মমতার রিপোর্ট চাওয়ার দিনেই এই যাত্রা ঘোষণা হয়তো কাকতালীয়ই, কিন্তু দুয়ে দুয়ে চার করছে জনতা।

Published by:Arka Deb
First published: