'' ছোট ছেলে দুপুরে ফোন করে বলল টিভি খুলতে, তখনও জানতাম না অভিজিৎ নোবেল পেয়েছে ''

'' ছোট ছেলে দুপুরে ফোন করে বলল টিভি খুলতে, তখনও জানতাম না অভিজিৎ নোবেল পেয়েছে ''

১৯৬১ সালে মুম্বইয়ে জন্ম অভিজিৎ বিনায়কের। প্রাথমিক পড়াশোনা কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক অভিজিৎ

  • Share this:

#কলকাতা:  দুপুর দুটো-আড়াইটে নাগাদ, দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জের বাড়িতে ফোনটা বেজে উঠল... বই পড়া থামিয়ে ফোনটা ধরলেন নির্মলা বন্দ্যেপাধ্যায়। ছোট ছেলের ফোন...

'' মা জান?''

আচমকা এহেন প্রশ্নে খানিক অবাকই নিমর্লাদেবী...

'' কী হয়েছে ?''

''মা টিভিটা খোল, দেখ''

ছোট ছেলের কথায় ভিটি খুললেন নির্মলাদেবী। স্ক্রিন জুড়ে তখন বড় ছেলে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়জয়কার! আবারও জগৎ সভার শ্রেষ্ঠ আসনে বাঙালি। আবারও অর্থনীতিতে বাঙালির নোবেল জয়। অমর্ত্য সেন, মহম্মদ ইউনুসের পর এবার অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়। দারিদ্র দূরীকরণ নিয়ে গবেষণা, দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পথ দেখানোর স্বীকৃতি হিসেবেই নোবেল পেলেন অভিজিৎ।

স্বাভাবিকভাবেই খুশি মা, জানালেন, '' অনেকের কাছে শুনি বহু বছর ধরেই ও খুব ভাল কাজ করছে । সবটা যে পড়েছি এমন নয়, তবে অনেকটাই পড়েছি। এই বিষয়ে আমারও বেশ উৎসাহ রয়েছে। পড়ানো বা লেখার সময় ও খুব জটিল বিষয়ও সরল করে তুলে ধরে। এতে খুব শক্ত বিষয়ও মানুষ সহজে বুঝতে পারে।''

১৯৬১ সালে মুম্বইয়ে জন্ম অভিজিৎ বিনায়কের। প্রাথমিক পড়াশোনা কলকাতার সাউথ পয়েন্ট স্কুলে। ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক অভিজিৎ। সেই বছরই স্নাতকোত্তর পড়তে চলে যান জহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘ইনফরমেশন ইকোনমিক্স।’

মায়ের সঙ্গেও ইকনমিক্স নিয়ে আলোচনা করেন অভিজিৎ, নির্মলাদেবীর কথায়, '' ওকে ইকনমিক্স নিয়ে অনেক প্রশ্ন করি। যেমন, এখনকার ট্যাক্স পলিসির বিষয়ে জানার আমার খুব আগ্রহ। ওকে সেদিনই জিজ্ঞেস করছিলাম, 'তোমার মনে হয় না এটা ভুল হয়েছে?' ও বলল, 'হ্যাঁ'। আসলে, আমাদের মধ্যে টিপিকাল মা ছেলের মধ্যেকার কথোপথন হয় না! 'কেমন আছ, কী খেলে?' এই প্রশ্নগুলো ও খুব একটা পছন্দ করে না! সেই ৮৩ থেকে ও দেশের বাইরে। নিজেকে একাই সামলে এসেছে।''

শুধু অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় নন, একই সঙ্গে নোবেল সম্মান পেলেন তাঁর স্ত্রী এস্থার ডাফলোও। অর্থনীতিতে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল প্রাপক ও বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা হিসেবে অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন এস্থার। নির্মলাদেবী জানালেন, ''এস্থার কলকাতায় এসেছে, কলকাতায় কাজ করেছে। আমার কাছেই ছিল, তখন ওদর বিয়েও হয়নি।''

বর্তমানে ফোর্ড ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক অধ্যাপক হিসেবে এমআইটি-তে কর্মরত অভিজিৎ বিনায়ক। ২০১১ সালে অভিজিৎ ও ডুফলো লিখেছিলেন 'পুওর ইকোনমিক্স'। বইটি বিশ্ব জুড়ে প্রশংসিত হয়। একাধিক পুরস্কারও পায়। এই বইতেই অভিজি‍ৎ নতুন পথ দেখিয়েছিলেন। বুঝিয়েছিলেন, বিশ্ব জুড়ে গরিবি দূর করতে কেন নতুন করে ভাবার দরকার। সেই পথেই তিনি হেঁটেছেন। মাঠে-ঘাটে গিয়ে গবেষণা চালিয়েছেন। অর্থনীতির পথে হেঁটে বিশ্বকে গরিবি মুক্ত করার আলো দেখিয়েছেন। ২০১৩ সালে অভিজিৎ এবং এস্থার ডাফলো যুগ্মভাবে ‘আব্দুল লতিফ জামিল পভার্টি অ্যাকশান ল্যাব’ গড়ে তুলেছিলেন বিশ্বের দারিদ্র নিয়ে গবেষণার জন্যে।

First published: 08:01:14 PM Oct 14, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर