তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপি-র পথ পরিষ্কার করছেন? জবাব দিলেন 'ভাইজান' আব্বাস

তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপি-র পথ পরিষ্কার করছেন? জবাব দিলেন 'ভাইজান' আব্বাস
কিংগমেকার হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আব্বাস সিদ্দিকি৷

  • Share this:

    #কলকাতা: বৃহস্পতিবারই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল ঘোষণা করেছেন৷ যার নাম ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট৷ কিন্তু তার পরই রাজ্যের শাসক শিবির থেকে অভিযোগ উঠেছে, বাংলায় আসলে তৃণমূলের ভোট কেটে বিজেপি-কে সুবিধা করে দিতেই নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছেন তিনি৷ বিহারের ক্ষেত্রে আসাদুদ্দিন ওয়াইসির মিমের মতোই তাঁর বিরুদ্ধেও সেই 'ভোট কাটুয়া' বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে৷ আবার তাঁকে সঙ্গ পেতে প্রবল আগ্রহী বাম- কংগ্রেস জোটও৷ বঙ্গ রাজনীতিতে হঠাৎই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি৷ ধর্মগুরু থেকে রাজনীতিতে আসা ভাইজান আব্বাসের অবশ্য দাবি, ভোট কাটুয়া নন, তিনি আসলে ২০২১ নির্বাচনে বাংলার কিংগমেকার হয়ে উঠতে চান৷

    কিন্তু সত্যিই কি তিনি বাংলায় বিজেপি-কে সুবিধা করে দিতেই নতুন দল তৈরি করে ভোটে লড়ছেন? জবাবে ভাইজান বলে খ্যাত আব্বাসের জবাব, 'এগুলো বলছে একমাত্র তৃণমূল নেতারা৷ বর্তমানে তৃণমূল দলই তো বাংলায় বিজেপি-কে এনেছে৷ তারা মানুষকে বোকা বানাচ্ছে যাতে মানুষ আমার পাশ থেকে সরে যায়৷'

    মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও তাঁর ক্ষোভ রয়েছে, তাও স্পষ্ট করেছেন আব্বাস৷ তাঁর মতে, ক্ষমতায় এসে তৃণমূল সরকার সংখ্যালঘুদের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার সামান্যই পূরণ হয়েছে৷ তৃণমূলের তৈরি করে দেওয়া জমিতেই রাজ্যে বিজেপি বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে আব্বাস বলেন, 'রাজ্য সরকারকে আমরা বিশ্বাস করেছিলাম৷ কিন্তু আপনার ছায়াতলেই বিজেপি আস্তে আস্তে বাংলায় বড় হচ্ছে৷ তাহলে আমরা গরিব, অসহায় মানুষ কোথায় যাব? বিজেপি এসে যদি আমাদের তাড়িয়ে দেয়? আমরা বলতে আমি মুসলিম, দলিত, আদিবাসী, হিন্দু সবার কথা বলছি৷ আপনি একা কী করতে পারেন, সেটা দেখতে হবে৷ আর যদি দেখা যায় আপনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন, তাহলে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই আপনার সঙ্গে থেকে লড়াইও করতে পারব আমরা৷'


    সূত্রের খবর, প্রাথমিক ভাবে রাজ্যের ৪৪টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আব্বাসের৷ যার অধিকাংশই দুই চব্বিশ পরগণা এবং নদিয়াতে ছড়িয়ে৷ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার মতো জেলায় গত বিধানসভা নির্বাচনে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি৷ লোকসভা নির্বাচনের ফলের নিরিখেও সেখানে পদ্ম ফোটানো কঠিন৷ তবে কি বিজেপি-কে সুবিধা করে দিতেই তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ চচব্বিশ পরগণাকে টার্গেট করছেন আব্বাস? যাতে ভোট কেটে বিজেপি-কে সুবিধে করে দিতে পারেন? প্রশ্নের জবাবে পাল্টা তৃণমূলের উদ্দেশে আব্বাস বলেন, 'নিজের চেষ্টায় লড়তে নেমেছি৷ আমি গরিব, অসহায়দের জন্য নিজের ক্ষমতায় লড়ব৷ যদি বার বার কেউ মনে করে যে কারও জন্য কারও ক্ষতি হবে, তাহলে আমি যেখানে প্রার্থী দেব সেখানে তৃণমূল প্রার্থী না দিলেই হল৷ তাহলে আমার ভোট কাটা যাবে না৷'

    কতগুলি আসনে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী দেবেন, তা এখনও তিনি ঠিক করতে পারেননি বলেই জানিয়েছেন আব্বাস৷ তাঁর দাবি, প্রতিদিনই তাঁর নতুন দলের প্রতি জনসমর্থন বাড়ছে৷ দল ঘোষণার আগে রীতিমতো সমীক্ষা চালিয়ে নিজের শক্তির আঁচ বুঝে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আব্বাস৷ সেই আশা থেকেই এখন রাজ্যে সরকার গঠনে অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে ওঠারও দাবি আব্বাসের গলায়৷ তাঁর কথায়, 'এমন পরিস্থিতি তো তৈরি হতেই পারে যে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেল না৷ তখন সরকার গড়ার জন্য আমিই ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ালাম৷ তখন জনগণের রায় মেনে নেব৷ সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক কিছু করতে হয়৷ কিন্তু নিজের আদর্শ বিক্রি করে কিছু করব না৷'

    নিজের অবস্থান নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশাই রেখেছেন আব্বাস৷ তবে তাঁর কথার যা নির্যাস, তাতে কিছুটা হলেও আশাবাদী হতে পারে রাজ্যের বাম- কংগ্রেস জোট৷ আব্বাস বলেন, 'তৃণমূলের সঙ্গে অনেকটাই দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে৷ আর বিজেপি তো দেশের ক্ষতি করছে, তাদের সঙ্গে হাত মেলানো তো কোনওভাবেই সম্ভব নয়৷'

    কয়েকদিন আগেই হায়দ্রাবাদ থেকে এসে তাঁর সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন এআইএমআইএম প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসি৷ মিমের সঙ্গে হাত মেলানো নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি আব্বাস৷ এ প্রসঙ্গে তাঁর সংক্ষিপ্ত জবাব, 'দেখুন না কী হয়!'

    ইতিমধ্যেই বাম- কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গেও কথা এগিয়েছে আব্বাসের৷ ফের আলোচনা শুরু হওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি৷ আব্বাস বলেন, 'ওরা বলেছিল আগে দল ঘোষণা করি তার পর আলোচনা এগোবে৷ এবার দেখা যাক কী হয়৷ কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী, আব্দুল মান্নানদের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ বামেদের তরফে সুজন চক্রবর্তীও কথা বলেছেন৷'

    কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার সঙ্গে জোট বাঁধবেন? আব্বাসের স্পষ্ট কথা, যাঁরা আমাদের কথা, শর্ত বুঝবেন, তাঁদের সঙ্গেই হাত মেলাব৷ আর আমি তো ২৯৪ আসনে প্রার্থী দিচ্ছি না৷ যেখানে প্রার্থী দেব না সেখানে যাঁরা আমাদের সঙ্গে সমঝোতায় আসবে তাঁদের সমর্থন করব৷

    কিন্তু তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব এতটা কেন বেড়ে গেল? আব্বাস বলেন, 'তৃণমূলের যাঁরা প্রকৃত কর্মী তাঁরা হয় জেল খাটছে না হলে বাইরে পড়ে আছে৷ আর যাঁরা এতদিন সিপিএম বা বামফ্রন্টে দুর্নীতিগ্রস্ত ছিল, তাঁরা তৃণমূলে জায়গা পেয়েছে৷ আবার এখন তৃণমূল থেকে সবাই বিজেপি-তে যাচ্ছে৷ তাহলে নতুন কী পেলাম? শুধু জামা পাল্টে নিচ্ছে৷ এসবের বাইরে সম্পূর্ণ নতুন একটা পরিবেশ তৈরি করতে চাইছি৷ যাঁরা দুর্নীতিগ্রস্ত নন, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে তাঁদেরকে প্রার্থী করব৷'

    আব্বাসের দাবি কতটা বাস্তবে মেলে, তা বলবে ভোটের ফল৷ কিন্তু বার বারই সংখ্যালঘু মুসলিমদের পাশাপাশি আব্বাসের গলায় শোনা গিয়ে দলিত, আদিবাসী, হিন্দু গরিব মানুষের কথাও৷ ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা বলেন, 'মানুষকে মানবপ্রেম আর দেশপ্রেমের শিক্ষা দিই৷ ধর্মগুরু হিসেবে আমি ঘুমন্ত মানুষকে জাগ্রত করার চেষ্টা করি৷ কারণ এঁরা ঘুমিয়ে আছে বলেই শিক্ষার দিক দিয়ে পিছিয়ে আছে৷ দলিত, আদিবাসীদের থেকেও শিক্ষার দিক দিয়ে মুসলমানরা পিছিয়ে আছে৷'

    প্রত্যয়ী আব্বাস বলেন, 'জুলুম, ভোট লুঠ না হলে বাংলায় একুশের নির্বাচনে ইতিহাস তৈরি হবে৷ আমি ছোটখাটো মানুষ, আশা করি গণতান্ত্রিক ভাবে ভোট হবে৷ পবিত্র মনে আমি এগোচ্ছি৷ জানি ভাল কিছু হবেই৷'

    Pew Roy

    Published by:Debamoy Ghosh
    First published: