এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর বেঁচে থাকার গল্প

এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর বেঁচে থাকার গল্প
  • Share this:

Shalini Datta

#কলকাতা: সাদা দাড়ির এক বৃদ্ধ মোটা কাচের চশমার আড়ালে অসহায় চোখ নিয়ে একমনে জুতো সেলাই করে যাচ্ছেন। সাধারণ জামা আর ধুতি পড়া এই বৃদ্ধ যে একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী তা কে জানতো। হাতের পেশি এখনো টানটান, যে হাতে বৃদ্ধ স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন সে হাত আজ অভাবের তাড়নায় জুতো সেলাই করছে। তার নাম আব্দুল বারিক-বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী।

স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও এই মুক্তিযোদ্ধার সম্মান এতটুকুও জোটেনি ১৯৪২ সালে তার জন্ম। যে সময় তিনি বড় হচ্ছেন সেই সময় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের আগুন জ্বলছে। তিনিও জড়িয়ে পড়লেন সেই যুদ্ধে।হাতে তুলে নিলেন অস্ত্র। আট নম্বর সেক্টর থেকে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নেন তিনি। ভারতীয় সেনার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কুষ্টিয়ার উঠলি, আলমডাঙ্গা সহ নানান জায়গা থেকে উনি এই সংগ্রামে অংশ নেন। লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করার। কিন্তু দেশ স্বাধীন হলো কিন্তু আবদুল বারিকের জুটলো না একটুও সম্মান। প্রয়োজনীয় নথিপত্র না থাকায় তার নাম তালিকাভুক্ত হয়নি।

অনেকবার অনুরোধ-উপরোধেও কোনও ফল মেলেনি। আজ হাল ছেড়ে দিয়েছেন এমনই গুরুতর অবস্থা অসুস্থ স্ত্রীকেও ঠিক মতন চিকিৎসা বা শুশ্রূষা করতে পারছেন না। সন্তানেরাও যে যার মতন বাইরে প্রতিষ্ঠিত। তাই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন জুতো সেলাই এর মতো কাজ। থাকেন কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার দেশোয়ালি পাড়ার রামচরণ চৌধুরী রোডে। সুবিচারের আশা ছেড়ে দিয়ে রাস্তার একধারে চাদর বিছিয়ে একমনে জুতো সেলাই করে চলেছেন তিনি । এখন একমাত্র অপেক্ষা মুক্তির।

First published: 10:53:45 PM Dec 17, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर