"ভগবানের দোকান ", বিনামূল্যে মিলছে জামাকাপড় থেকে খাবার, আসবাব থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস

ফুডম্যান চন্দ্রশেখর কুন্ডু ও অভিনেতা দম্পতি দেবলীনা দত্ত, তথাগতের উদ্যোগে শুরু প্রকল্পের যাত্রা।

  • Share this:

#কলকাতা:         “ভগবানের দোকান ”। ঠিকই পড়েছেন ।দোকানের নাম ভগবানের দোকান। তবে আক্ষরিক অর্থে স্বর্গ বলতে যা বোঝায় সেখানে নয় , এই দোকানের সন্ধান মিলবে খোদ মর্ত্যলোকেই। কী এই ভগবানের দোকান ? এটি এমন একটি দোকান যেখানে বিনামূল্যে মেলে জামাকাপড় থেকে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সবই।

আসলে আমাদের শহর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত এলাকায় এমন অনেক গ্রাম আছে যেখানকার বাসিন্দাদের কাছে নিত্য নতুন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র হোক কিংবা জামাকাপড় কেনা বিলাসিতারই সমান। কারণ এইসব জিনিসপত্র কেনার সাধ্য এবং অর্থ কোনটাই তাদের নেই।তাই তাদের পাশে দাঁড়াতে শহর এবং শহর লাগোয়া বিভিন্ন মফস্বলে বসবাসকারী  স্বেচ্ছাসেবী মানুষরা তাদের নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে অব্যবহৃত অথচ ব্যবহারযোগ্য নতুন পুরনো প্রচুর জামাকাপড় থেকে আসবাবপত্র ভগবানের দোকানের মাধ্যমে পৌঁছে দিচ্ছেন সেইসব প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষদের কাছে। সারাবছর এই দোকানে পুরনো সামগ্রী পাওয়া যায় এই ভগবানের দোকানে। একেবারে বিনামূল্যে । গ্রামবাসীরা  বিনামূল্যে পেয়ে যান তাদের পছন্দসই প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

আপাতত রাজ্যের তিনটি জায়গায়  আসানসোল, ঝাড়গ্রাম এবং সুন্দরবনে  এই ভগবানের দোকানের তিনটি শাখা আছে। নয়া সংযোজন পুরুলিয়া। কাঁপতে থাকা অযোধ্যা পাহাড়ের কোলের গ্রামগুলোতে  শুরু হলো ভগবানের দোকান। গত দুবছর আগে শুরু হওয়া এই প্রকল্প আসানসোল, ঝাড়গ্রাম, সুন্দরবন হয়ে এবার অযোধ্যা পাহাড়ের লোয়াকুই গ্রামে। ফুডম্যান চন্দ্রশেখর কুন্ডু ও অভিনেতা দম্পতি দেবলীনা দত্ত, তথাগতের উদ্যোগে শুরু প্রকল্পের যাত্রা।

শিক্ষক তথা সমাজবন্ধু চন্দ্রশেখর বাবু বলেন " আমাদের বাড়িতে প্রচুর ভালো কিন্তু অব্যাবহৃত জিনিস পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে যায়। পোষাক, বই, বাসন, ব্যাগ, ছাতা ইত্যাদি পুরনো কিন্তু ভালো অবস্থায় থাকা জিনিস মানুষ দিয়ে যায় ভগবানের দোকানের কালেকশন সেন্টারে। সেখান থেকে চলে যায় দুঃস্থ মানুষদের কাছে। "  লোয়াকুই গ্রাম তথা তৎসংলগ্ন  আদিবাসী দুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে পথ চলা শুরু হল । তবে শুধু শিশুরাই নয় , সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষজনও উপকৃত হবেন এই প্রকল্প থেকে। স্থানীয় প্রাথমিক  স্কুলে খুললো ভগবানের দোকান। উদ্যোক্তাদের অন্যতম বিনয় রায় বলেন, " ফিড সংস্থার উদ্যোগে চলা এই প্রকল্পের অংশীদার হয়ে ভালো লাগছে। আমি ও আমার শিক্ষক শিক্ষিকারা মাসে দুবার পালা করে খুলবো এই দোকান। উপকৃত হবেন আশেপাশের প্রায় বারোটি গ্রামের মানুষ। "

অভিনেত্রী দেবলীনা দত্ত বলেন " অযোধ্যা বেড়াতে এলে মাঠায় পাখি পাহাড়ের কাছে ঘুরে যান বিনয় বাবুর স্কুলে। দিয়ে যান কিছু পুরনো বস্ত্র সহ অন্যান্য সামগ্রী। সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষ জনের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।  অযোধ্যা পাহাড়ের ওপরে ,অযোধ্যা পাহাড় হিলটপ রিসোর্টেও আছে ভগবানের দোকানের কালেকশন সেন্টার। এই ভগবানের দোকানের চিন্তাভাবনা প্রথমে যার মাথায় আসে তিনি আসানসোলের একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষক  চন্দ্রশেখর কুন্ডুর কথায়, 'স্বাধীনতার এত বছর পরেও আজও ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের অনেক গ্রামের কাছে পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটির মত। সমাজে অবহেলিত, বঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়াতেই এই ভাবনা'। আগামীদিনে এই ধরনের প্রকল্প রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা  ' ফিড' এর  সমাজবন্ধুরা।

 Venkateswar Lahiri

First published: January 26, 2020, 9:51 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर