কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

কলকাতায় প্রথম! এক নিরাপত্তারক্ষীর উদ্যোগে গড়ে উঠল ‌উদ্যান গ্রন্থাগার

কলকাতায় প্রথম! এক নিরাপত্তারক্ষীর উদ্যোগে গড়ে উঠল ‌উদ্যান গ্রন্থাগার
লাইব্রেরি্। প্রতীকী চিত্র

উত্তর কলকাতার জগৎ মুখার্জি পার্কে এমনই উদ্যোগ নিরাপত্তাকর্মী সত্যরঞ্জন দলুইয়ের।

  • Share this:

#কলকাতা: শরীরচর্চার সঙ্গে জ্ঞান চর্চা। তাও আবার কলকাতা পুরসভার পার্কে। উত্তর কলকাতার জগৎ মুখার্জি পার্কে এমনই উদ্যোগ নিরাপত্তাকর্মী সত্যরঞ্জন দলুইয়ের। এলাকার বাসিন্দারা এগিয়ে এসে কেউ দিয়েছেন বই, ম্যাগাজিন কেউ বা আলমারি। পাশে রয়েছে কলকাতা পুরসভা।

সকাল সন্ধ্যা কখনও রবীন্দ্রসঙ্গীত কখনও বা স্যাক্সোফোন এর সুর। উত্তর কলকাতার বাগবাজারের জগৎ মুখার্জি পার্ক। সকাল সন্ধ্যা শরীর সুস্থ রাখতে হাঁটতে আসেন অনেকেই। এখানে হাঁটতে গেলে বাড়তি পাওনা মলাটের মাঝে বইয়ের গন্ধ। আশেপাশে অনেক স্কুল। পাড়ার বাসিন্দারা তো বটেই অভিভাবকেরাও এসে জড়ো হন পার্কে। গল্পগুজব এ সময় নষ্ট হয়। তা দেখে গ্রন্থাগারের ভাবনা মাথায় আসে পার্কের নিরাপত্তাকর্মী সত্যরঞ্জন দলুইয়ের।

সত্যরঞ্জন দোলই, নিরাপত্তাকর্মী, জগৎ মুখার্জি পার্কে তাঁর দেখভালেই গড়ে উঠেছে উদ্যান গ্রন্থাগার। আশেপাশের স্কুল থেকে অভিভাবকেরা এসে বসে থাকেন গল্পগুজব করেন তখনই মাথায় চিন্তা আসে, প্রস্তাব দেন স্থানীয় পুজো কমিটি ও কলকাতা পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে।

কলকাতা পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পার্থ মিত্র স্বীকার করেন সত্যরঞ্জনের কৃতিত্বের কথা। তাঁর কথায়, "ওঁর উদ্যোগ রয়েছে এবং আমাদের সহযোগিতায় আপাতত অল্প কিছু বই নিয়ে গড়ে উঠেছে এই গ্রন্থাগার। করোনা আবহাওয়া কেটে গেলে এই গ্রন্থাগারকে অন্য রূপ দেয়া হবে।  পূর্ণরূপ পাবে কলকাতা পুরসভার প্রথম উদ্যান গ্রন্থাগার।"

এলাকাবাসীর দান করা বই ও ম্যাগাজিনে গড়ে উঠেছে গ্রন্থাগার। বিনামূল্যে বই পড়া যাবে এই গ্রন্থাগারে। পার্ক খোলা থাকলে ব্যবহার করা যাবে গ্রন্থাগার। পার্কের সাউন্ড সিস্টেমে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আবহ।

বয়সের কোনো বাধা নেই। আট থেকে আশি সকলেই উদ্যানের সবুজের সমাবেশে লাইব্রেরি থেকে যে কোন বই পড়তে পারেন। গৃহবধূ থেকে নবীন প্রজন্মের মোবাইল আসক্ত যুবকেরাও এই পার্কে এলে একবার লাইব্রেরীতে ঢুঁ মেরে যান।

পার্কের পেছনেই বাড়ি গৃহবধূ ইন্দিরা দত্তের। রোজ সকালে নিয়ম করে হাঁটতে আসেন পার্কে। এই ব্যবস্থায় বেজায় খুশি। হাঁটতে হাঁটতে একটু জিরিয়ে নিতে কার না ভালো লাগে সঙ্গে যদি পছন্দমত বইয়ের পাতা উল্টানো যায়।

ইন্দিরা দেবী ছেলে সুরজিৎ দত্ত এই প্রজন্মের সন্তান। মায়ের সাথে সকালে সেও মর্নিং ওয়াক করতে আসে পার্কে। সত্যরঞ্জন ও পার্কের কর্মীদের হাতে তৈরি সবুজের মধ্যে এই বইয়ের হাতছানি তাকেও বেশ টানে। মোবাইল সরিয়ে রেখে শরীর চর্চার পাশাপাশি জ্ঞানচর্চা অরিজিনাল নবীন প্রজন্মের সুরজিৎ।

পার্কে এসে অনেকটা সময় কাটান সিনিয়র সিটিজেনেরা। তাদের জন্য ও গ্রন্থাগারের রাখা হয়েছে বই ম্যাগাজিন থেকে সংবাদপত্র। শরীরকে সুস্থ রাখতে পার্কের মধ্যে হাঁটা এবং হালকা ব্যায়াম এর পর একটু জিরিয়ে নিতে নিতে বইয়ের পাতায় চোখ বোলানো। অন্যরকম অভিজ্ঞতা বলছেন বয়স্ক নাগরিকরা।

এলাকার বাসিন্দা বুদ্ধদেব বক্সীর উদ্যোগেই পাড়ার লোকেদের দেওয়া বই ঠাঁই পেয়েছে আলমারিতে। বুদ্ধবাবু বলেন, যা বই জুটেছে ম্যাগাজিন রয়েছে সেগুলো গ্রন্থাগারিক নিয়ম অনুযায়ী সাজাতে হবে। যাতে পাঠক সহজেই নিজের পছন্দমত বই বেছে নিতে পারেন।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা বাসব মুখোপাধ্যায় বলেন দেখতে দেখতে অনেক প্রাচীন গ্রন্থাগার বন্ধ হয়ে গেল। বেশকিছু ধুঁকছে। সেখানে বই নিয়ে এই নতুন প্রচেষ্টা সাধু উদ্যোগ। তবে এর পাশে প্রশাসনিক উদ্যোগ তেমন নেই বলে খুব প্রকাশ করেন তিনি।

পার্কের নিরাপত্তাকর্মীর এই নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে এগিয়ে এসেছেন বিদায়ী কাউন্সিলর কলকাতা পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের পার্থ মিত্র। জগৎ মুখার্জি পার্ক পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা ও পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই উদ্যান পার্কের চেহারাটা আরো একটু সজীব করে তুলতে চান তারা।

জগৎ মুখার্জি পার্ক এর পুজো কমিটির উদ্যোক্তা দ্বৈপায়ন রায় বলেন পার্ক এর মধ্যেই ছোট্ট বিশ্রামাগার কে এক অনন্য রূপ দেয়া হয়েছে। সেই উদ্যান গ্রন্থাগারকে আরো নতুনভাবে গড়ে তুলতে সর্বতোভাবে পাশে আছে পুজো কমিটি।

বাগবাজার এলাকায় অনেক প্রাচীন গ্রন্থাগার যখন বন্ধ হওয়ার পথে তখন পুরসভার উদ্যানে এই অভিনব গ্রন্থাগার নতুন দিশা দেখাচ্ছে। ডিজিটাল যুগে বইয়ের গুরুত্বকে সবুজে মিশিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ

Published by: Arka Deb
First published: November 5, 2020, 8:12 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर