Abhishek Banerjee: ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে কি থাকবেন তিনিই? অগ্নিপরীক্ষাতে নেমেছেন অভিষেক!

Abhishek Banerjee: ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে কি থাকবেন তিনিই? অগ্নিপরীক্ষাতে নেমেছেন অভিষেক!

অভিষেকের অগ্নিপরীক্ষা

নিন্দুকরা বলবেন, অভিষেকের নিজস্ব কোনও 'আলো' নেই। 'পিসি' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন ও ক্ষমতার নিরাপদ মাঠে দাঁড়িয়েই তিনি বলছেন, 'খেলা হবে'। আজ, অভিষেকের নিজের 'ডেরা' দক্ষিণ ২৪ পরগনার বড় অংশে 'খেলা' হচ্ছে।

  • Share this:

    #কলকাতা: 'তোলাবাজ ভাইপো'! ২০২১-এর বাংলার ভোটযুদ্ধে (West Bengal Assembly Election 2021) সবচেয়ে চর্চিত শব্দ বোধহয় এটাই। মূলত, বিজেপি, আরও স্পষ্ট করে বললে মাস কয়েক আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছত্রছায়া থেকে সরে বিজেপিতে নাম লেখানো শুভেন্দু অধিকারীর মুখেই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ভোট-আক্রমণের হাতিয়ার এই 'তোলাবাজ ভাইপো'। আর যাঁকে উদ্দেশ্য করে এই আক্রমণ, তিনি, তৃণমূল সাংসদ তথা দলের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বারবার প্রকাশ্য জনসভা থেকেও দাবি করেছেন, 'বিজেপির যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে আমার তোলাবাজির প্রমাণ দিক, আমি নিজেই ফাঁসির দড়িতে ঝুলে যাব।' 'প্রমাণ' এখনও প্রমাণিত নয়, অভিষেকও তাই বঙ্গ রাজনীতির আকাশে এখনও জ্বলছেন উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়েই।

    নিন্দুকরা বলবেন, অভিষেকের নিজস্ব কোনও 'আলো' নেই। 'পিসি' মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন ও ক্ষমতার নিরাপদ মাঠে দাঁড়িয়েই তিনি বলছেন, 'খেলা হবে'। আজ, অভিষেকের নিজের 'ডেরা' দক্ষিণ ২৪ পরগনার বড় অংশে 'খেলা' হচ্ছে। আর বাংলার রাজনৈতিক মহল জানে, দিল্লির মসনদ দখলের দরজা যদি হয় উত্তরপ্রদেশ, তাহলে বাংলা দখলের দরজা অবশ্যই দক্ষিণ ২৪ পরগনা। আর সেই জেলাতেই এবার 'একক' চ্যালেঞ্জের মুখে অভিষেক। দলীয় সঙ্গীসাথীদের একটা বড় অংশই চলে গিয়েছেন বিজেপিতে। নিরাপদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার নানা প্রান্তে এখন বিজেপির বাড়বাড়ন্ত, তাই ভোটে না লড়লেও এবারের ভোট অভিষেকের কাছে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন অ্যাসিড টেস্ট। জিতলে তৃণমূলে তাঁর আধিপত্য প্রশ্নাতীত জায়গায় পৌঁছে যাবে, আর হারলে....

    নিজে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ, তাৎপর্যপূর্ণভাবে মাত্র ২৬ বছর বয়সে প্রথম সাংসদ হন অভিষেক। তারপর থেকেই ধীরেধীরে অভিষেক 'গ্রিপ' করতে শুরু করেন দল ও জেলা। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় রয়েছে ৩১ বিধানসভা আসন। ২০১৬ সালের ভোটের হিসেব ধরলে ২৯ আসনে জয়ী তৃণমূলের একচেটিয়া আধিপত্য। ফলে সেই জেলা নিয়ে দুশ্চিন্তার অবকাশ থাকার কথা নয় শাসক দলের। কিন্তু ২০১৯-এর লোকসভা ভোট, ও তারপর থেকে ধীরেধীরে গেরুয়া-উত্থান ও আমফান পরবর্তী দুর্নীতি অভিষেককে নতুন করে ছক সাজাতে বাধ্য করেছে।

    'পিসি' (অভিষেক অবশ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিদি বলেই ডাকেন) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি তৃণমূল-সাম্রাজ্যে পারিবারিক জোরেই থাবা বসিয়েছেন অভিষেক, শাসক দলের অন্দরে এই অভিযোগ নতুন নয়। সারদা তদন্তের প্রেক্ষাপটে মুকুল রায়ের বিজেপিতে যোগদান নিয়ে চর্চা হলেও তৃণমূলের অন্দরে ঝড় উঠেছিল, দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের ব্যাটন ক্রমেই মুকুলের হাত থেকে নিয়ে নিচ্ছিলেন অভিষেক। সেই 'অপমান' মানতে না পেরেই মুকুলের গেরুয়া-যাত্রা নিয়ে গুঞ্জন কম হয়নি। যদিও প্রকাশ্যে তা নিয়ে মুখ খোলেননি কোনও তৃণমূল নেতা। আর এবারের ভোটের দরজায় এসে তো শুভেন্দু অধিকারীর এক এবং একমাত্র নিশানায় 'পিসি-ভাইপো' মমতা ও অভিষেকই।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক প্রথম সারির নেতার কথায়, 'অভিষেকের ব্যাপারে আমরা দিদিকে কখনও সতর্ক করিনি। তবে, তিনি বুঝতে পারছেন না অভিষেককে আগলাতে গিয়ে তাঁর ক্ষতিও হচ্ছে প্রভূত।' তবে, তৃণমূল নেত্রী যে তা একেবারেই জানেন না, এমনও নয়। মমতা-ঘনিষ্ঠ দলের একাংশ বলছেন, 'যে কোনও দলই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তৈরি করতে-করতে চলে। তৃণমূল যাঁদের ভবিষ্যৎ ভেবেছিল, তাঁদের অনেকেই তো গদ্দার-মীরজাফর হয়ে উঠল। সেই তুলনায় তো অভিষেক দলঅন্ত প্রাণ।' তৃণমূলের অপর এক শীর্ষ নেতা বলছেন, 'অভিষেক এই মুহূর্তে দেশের মধ্যে অন্যতম প্রতিভাধর রাজনীতিক। তিনি যে রাজনীতিটা করছেন, তা বিজেপি নেতাদের কাছে চাপের হয়ে উঠছে। অভিষেক বারবার বিজেপির শীর্ষ নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন মুখোমুখি বিতর্কে আসতে, কিন্তু বিজেপি নেতাদের সেই সাহস নেই। তাঁরা ভুয়ো টেপ, অভিযোগ নিয়ে চেঁচাচ্ছেন।' তবে, দাবি-পালটা দাবির মাঝে এবারের ভোট সুবক্তা অভিষেকের কাছে 'এসপার-ওসপার' রণাঙ্গন। জিতলে তিনিই রাজা, হারলে ফকির হতে সময় লাগবে না। 'খেলা' শুরু হয়ে গিয়েছে। 'খেলা' শেষের পর আরও শক্তিধর অভিষেকের অভিষেক হয় কিনা, তারই অধীর অপেক্ষা।

    ---Pallavi Ghosh

    Published by:Suman Biswas
    First published: