সাক্ষাৎ ঈশ্বর! সবটুকু দিয়ে আট বছরের শিশুর প্রাণ বাঁচাল সেই পুলিশই

প্রতীকী চিত্র

শুক্রবার হাওড়া মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডের বাসিন্দা বাপ্পা দাসের শিশুকন্যা হঠাৎই পিঠের ব্যথায় কাতরাতে থাকে। যন্ত্রনায় মাঝে মাঝে সংজ্ঞাও হারিয়ে ফেলে।

  • Share this:

#হাওড়া:  লক ডাউন মানতে না চাওয়া মানুষদের ওপর পুলিশ নির্যাতনের অভিযোগে তোলপাড় রাজ্যে। বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় মানবিকতায় নজির গড়ল এই খাকি উর্দিধারীই। হাওড়ায় পুলিশের মানবিকতায় প্রাণে বাঁচলো আট বছরের শিশুকন্যা।

শুক্রবার হাওড়া মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোডের বাসিন্দা বাপ্পা দাসের শিশুকন্যা হঠাৎই পিঠের ব্যথায় কাতরাতে থাকে। যন্ত্রনায় মাঝে মাঝে সংজ্ঞাও হারিয়ে ফেলে। এগিয়ে আসে পাড়ার লোকেরা। চারিদিকে অ্যাম্বুলেন্স এর জন্য শুরু হয় খোঁজ, হন্যে হয়ে খোঁজাখুজির পরেও অ্যাম্বুলেন্সের দেখা মেলেনি। লকডাউনের জেরে আর পাঁচটা পরিষেবার মতোই অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাও স্তব্ধ। তাহলে কি চোখের সামনে মেয়েটাকে মরে যেতে দেখতে হবে! হতাশায় ভেঙে পড়েন বাপ্পা ও তাঁর স্ত্রী। ঠিক সেই সময় এলাকায় লকডাউনের পরিস্থিতি দেখতে আসেন হাওড়া চ্যাটার্জীহাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সৌরভ ঢালি। ঘটনার কথা জানতে পেরে গাড়ি থেকে নেমে নিজের গাড়িতে তুলে দেন যন্ত্রনায় কাতর শিশুটিকে। মেয়েটির পরিবারও গাড়িতে। শিশুটিকে তড়িঘড়ি পাঠানো হয় পিজি হাসপাতালে। হাসপাতালে চিকিৎসকেরাও দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন শিশুটির ।

চিকিৎসকেরা জানান মেয়েটি অ্যাপেন্ডিসাইটিসের যন্ত্রনায় ভুগছে। সেই ব্যথাই ছড়িয়ে পড়ছিল। হাসপাতালে আনতে দেরি করলে জীবন নিয়ে টানাটানি হত। এ দিন অর্থাৎ শনিবার অস্ত্রোপচার হবে তার। শিশুটির বাবা বাপ্পাবাবুর কথায় কৃতজ্ঞতা ঝরে পড়ল। "থানার বড়বাবু দিয়ে সাহায্য না করলে আমার এক মাত্র মেয়েকে চিরজীবনের মতো হারিয়ে ফেলতে হত।" বলছেন বাপ্পা।

সুকন্যাকে শুধু হাসপাতালে পাঠিয়ে ক্ষান্ত হননি এই পুলিশ আধিকারিক। শিশিশুটির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে যেন ফেরে সেই অর্ডারও দেন গাড়ির চালক সৌরভকে। বড় বাবুর কথা মতো শিশুটির পরিবারের সঙ্গে হাতে হাত রেখে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে থানার বড়বাবুর চালক সৌরভ। সৌরভের দাবি, অনেক দিন ধরেই অনেক পুলিশ আধিকারিকের গাড়ি চালিয়েছি তবে আজ যে মানবিক মানুষটিকে দেখলাম তাতে পুলিশের গাড়ির চালক হিসাবে নিজেকে গর্বিত মনে করছি

আর শিশুকন্যার প্রাণ বাঁচানো থানার বড়বাবুর মুখ এতকিছুর পরেও নির্লিপ্ত, একটাই আবেদন মানুষ যদি সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী লকডাউন ভঙ্গ না করে বাড়িতেই থাকে। তাহলেই তার এই প্রয়াস সার্থক হবে। দুর্দিন কেটে গেলে গোটা রাজ্যের মানুষ সুকন্যাদের সঙ্গে হেসে খেলে বাকি জীবনটা কাটাবে |

Published by:Arka Deb
First published: