কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, সিআইডি তদন্তের সম্ভাবনা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতি, সিআইডি তদন্তের সম্ভাবনা

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির দাগ। ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন ফিনান্স অফিসার।

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গায়ে আর্থিক কেলেঙ্কারির দাগ। ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতিতে চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছিলেন ফিনান্স অফিসার। কেলেঙ্কারির তদন্তে বেসরকারি অডিট সংস্থার রিপোর্টে আরও খুল্লমখুল্লা হয়ে গেল দুর্নীতির শিকড়। বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল ভেঙে দুর্নীতির প্রমাণ অডিট রিপোর্টে। শুধু ফিনান্স অফিসার নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মদত ছাড়া এভাবে দুর্নীতি সম্ভব নয়। অডিট রিপোর্টে এটাও স্পষ্ট।

আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আগেই উঠেছিল। সেই অভিযোগে বরদাস্ত হতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স অফিসারকে। কিভাবে দুর্নীতি হয়েছে, কোন পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল ভেঙে টাকা তোলা হয়েছে, তাই স্পষ্টহল অডিট রিপোর্টে। দীর্ঘদিন ধরে, সবার চোখের সামনে যেভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা দেশের যে কোনও বড় দুর্নীতির সঙ্গেই পাল্লা দেবে। আর এক্ষেত্রে নিশানা করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতগুলিকে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্থায়ী আমানতগুলির সুদের টাকা রাখতে আলাদা অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হলেও সেই অ্যাকাউন্টের হদিশ মেলেনি ৷ ভুয়ো কর্মী দেখিয়ে সরকারের থেকে বেশি টাকা বেতন বাবদ তোলা হয়েছে ৷ সেই টাকাতেই বড় অঙ্কের এফডি করা হয়েছে ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব এফডির সুদের টাকা কিভাবে নেওয়া হয়েছে, তার হিসাব নেই ৷ সরকারি অনুদানে যে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তার অধিকাংশ ভুয়ো ৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের এফডির টাকা তুলতে একাধিক অনুমোদিত আধিকারিকের সম্মতি প্রয়োজন ৷ একাধিকবার ফিনান্স অফিসার একাই সই করে টাকা তুলেছেন ৷

এখানেই শেষ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিলের টাকা তুলে তা জমা পড়েছে বেশ কয়েকজন আধিকারিকের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। এমনটা হলে তা শীর্ষ আধিকারিকের নজরে আসার কথা। এক্ষেত্রে বেশ কয়েকবার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এফডির সুদের টাকা রাখতে ১৬টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ১৩টির হদিশ মিলেছে

Loading...

বাকি ৩টি অ্যাকাউন্ট কোথায় গেল?

এই ৩টি অ্যাকাউন্টে কয়েক কোটি টাকা থাকতে পারে বলে অনুমান অডিট সংস্থার

কয়েকটি অ্যাকাউন্টে আবার নিয়মের থেকে বেশি টাকা রাখা হয়েছে

হিসাব পরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচলন পদ্ধতিতেই একাধিক ক্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে অডিট রিপোর্টে। অডিট সংস্থার পরামর্শ মেনেইকেলেঙ্কারির তদন্তভার নিদির্ষ্ট সংস্থার হাতে দিতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।

শুধু ফিনান্স অফিসার নন, কয়েক-শো কোটির এই দুর্নীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি বড় অংশের যোগসাজেশ স্পষ্ট।  সেই সময় কি করে তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি এড়িয়ে গেল, তাও তদন্তের আওতায় আসবে।

First published: 06:38:30 PM Feb 11, 2017
পুরো খবর পড়ুন
Loading...
अगली ख़बर